somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

[is=Blue]nywU-wewji M

১৮ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৩:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বল্গার বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের একটা গল্প শুনাবো। দুটি বিড়ালের গল্প। মানুষের হিংস্রতায় তাদের নিমর্ম মৃত্যুর গল্প।
হুটি বিলি দুই ভাই। চারমাস বয়সে আমার ভাগনীর গিফট হিসেবে আমাদের বাসায় এসেছিল। জন্ম থেকেই ওদের দেখেছি। খুব নিরীহ ছিল। কিনা করতো তারা ? একসাথে গলাগলি করে ঘুমানো,লাফানো,পাখি তাড়ানো,দুলকি চালে ফুল গাছের মাথায় উঠে নামতে না পেরে কুঁই কুঁই করা,হরিণের সাথে টককর দেয়া আরো কতো কিছু। কিন্তু আমাদের বাসায় আসার পরদিন বিলিকে করুণ ভাবে প্রাণ হারাতে হল। চার তলা হতে ওকে ফেলে দেয়া হয়েছিল। অপরাধ? চারতলার ফ্লাটে ঢুকে একটু লাফালাফি করা। চারপা ভেঙ্গে গিয়েছিল মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছিল। তারপরও বেঁচে ছিল 7/8 ঘন্টা। ওর চোখের বোবা কান্না আমি পড়তে পেরেছিলাম,ওর মৃত্যু যন্ত্রনা আমি অনুভব করেছিলাম কিন্তু কাউকে তা বোঝানোর ক্ষমতা আমার নেই।
এরপর হুটিকে বুকে তুলে নিলাম আরো নিবিড়ভাবে ।বলতে চাইলাম কিছু মানুষের জন্য সবাইকে ভুল বুঝিসনা। এদের চেয়ে ভালো মানুষের সংখ্যাই বেশী যারা ভালোবাসা দিতে জানে,পেতে জানে। হুটি আমার মেসেজ বুঝল কিনা জানিনা,আমাকে সে বুঝেছিল।
সে হয়ে উঠল আমাদের পরিবারের একজন সদস্য। কাঁচা,পঁচা,বাসি খেতোনা।কেউ ব্যাথা দিলেও কামড় বা খামচি দিতে পারতোনা শুধু কুঁই কুঁই করে কাঁদতো।আইসক্রীম বা কনডেন্সমিল্কের খোঁজ পেলে মাথা এলোমেলো করে দিতো। মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার সাথে ঘৃনাও পাওয়া শুরু করল।কারো অভিযোগ ভয় দেখায়,কারোবা বাসায় চুরি করার জন্য ঢুকে(ভুল করে ঢুকে আরকি)।তবে ভালোবাসাও কম পায়নি । একবার চারতলার কার্নিশে উঠে আর নামতে না পেরে প্রচন্ড কাঁদছিল তখন অন্য ফাটের একটা ছেলে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওকে উদধার করেছিল। কেউবা আদর করে মন্টি ডাকতো,অথবা ভুলে বাসায় ঢুকে গেলে আমাদের বাসায় পৌছে দিত।
জানতাম বোবার শত্রু নেই কিন্তু হুটি বিলি জীবন দিয়ে আমার সে ধারণা ভেঙ্গে দিয়ে গেছে। তারপর এক ভদ্্র(?) মহিলা এসে বললো হুটি তার বিড়ালগুলোকে মারে পরেরবার হুটিকে দেখলে গুলি করে মারা হবে(দুটি বিড়ালের মধ্যে কামড়া-কামড়ি বা মাখামাখি থাকতেই পারে। হুটির পিট্টি খেতে তার বিড়াল কেন আমাদের বাসায় আসত?) না গুলি করে নয় হুটি কে খুন করা হয়েছিল বিষ খাইয়ে।
জানিনা একটা সামান্য বিড়াল কার কি এমন ক্ষতি করেছিল। সে আমাদের কাছে ছিল দেড় বছর।আজো তার আদর মাখা মিউ ডাক শুনতে পাই।
আজো তার মৃত্যুকষ্ট চোখের সামনে ভাসে।আজো কাঁদি। এখন কাঁদছি। হে আলাহ তুমি সব মানুষকে হেদায়াত দান কর।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৩:২২
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শরীফ থেকে শরীফা ইস্যু কেন চাঙা হচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:১৭


দেশে ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামী ইস্যু নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকামী ইস্যুতে একের পর এক বহিষ্কারের ঘটনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×