somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঝড়-বৃষ্টি বিলাস

২০ শে এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কালবৈশাখী ঝড় যেমন হয় আরকি, ঈশান কোনে কালো মেঘ জমে কিছুক্ষন পরিবেশ থম মেরে থেকে হুটহাট ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়। আজো এরকমই হল। বৈশাখ মাস শুরু হবার ৬দিন পরে আজ-ই মনে হয় প্রথম হল, বারান্দার দরজা অর্ধেক খুলে বাইরের অবস্থা দেখতে দেখতে ভাবছে নিরু। পাখিরা প্রকৃতির মেজাজ মর্জি বুঝে আগে ভাগেই নীড়ে ফিরে গেছে, যারা যেতে পারেনি বাতাসের সাথে পাল্লা দিয়ে, যুদ্ধ করে ফেরার চেষ্টা করছে। সামনের বাড়ীর বউটা তাড়াহুড়ো করে শাশুড়ির বারান্দার কাপড় তুলে ঠিক ওপর তলায় নিজের ফ্ল্যাটে গিয়ে নিজের কাপড় তুলে দরজা লাগিয়ে দেয়, অদ্ভুত মানুষ এরা। এসি লাগানোর পর থেকে চব্বিশ ঘন্টার চার ঘন্টাও মনে হয় দরজা জানলা খোলে না! কীভাবে থাকে এরা ভেবে পায়না নিরু। দিনে দুই ঘন্টা দরজা জানলা বন্ধ রাখলে ওর অস্থির লাগে। চোরের ভয়ে রাতটা কোনমতে বন্ধ করে পার করে সকাল হবার সাথে সাথেই খুলে দেয়। ওর মধ্যবিত্ত মন বোঝায় ওকে যে ওর বাসায় এসি লাগালেও হয়ত এরকম-ই করবে । তবে বাইরের আলো বাতাস না ঢুকলে ঘরের পরিবেশ গুমোট হয়ে থাকে এটা ঐ বউ বা তার ঘরের কেউ জানেনা ! বাসায় ছোট্ট একটা বাবু আছে তাদের, তার জন্যে হলেও ত ভাবা উচিত। নাহ্ বড্ড বেশি ভাবছে ও অন্য বাসার ব্যাপার নিয়ে। যাদের বাচ্চা তারাই ভাবুক। ও দাড়িয়েছে ঝড়-বৃষ্টি দেখার জন্যে , অন্যের অন্দরমহল নিয়ে ভাবার জন্যে না। গলির মাথায় একতলা বাড়িটার নারকেল গাছটা ভয়ানক ভাবে দুলছে। কিছুদিন আগেই গাছটা ছেঁটে দিয়েছে এখন আরো লম্বা লাগছে। বাতাসে এমন ভাবে দুলছে মনে হচ্ছে এখনি বুঝি ভেংগে পড়বে। কিন্তু না আবার সোজা হয়ে যায়। এই বাসায় আসার পর থেকে এরকম-ই দেখে আসছে। চারপাশ মোটামুটি খোলা থাকার দরুন ঝড়ের সময় বিল্ডিংয়ে বাতাস আছড়ে পড়ে এমন ভয়ানক শব্দ করে না ! আত্নারাম খাঁচা ছাড়া হতে চায়! মনে হয় বিল্ডিংটা বুঝি এইবারই গেল ভেংগে। এই সময়টা নিরু দোয়া দুরুদ পড়তে থাকে আর আল্লাহকে ডাকতে থাকে। ঝড়ের সাথে সাথে ঘন ঘন বিজলী চমকাচ্ছে। নাহ আর বারান্দায় থাকা যাবে না ভাবতে ভাবতে দরজা বন্ধ করে ঘরে ঢুকে পড়ে।

রান্না ঘরের জানলার সাথে ঝোলানো কড়াই ঝড়ের সাথে পাল্লা দিয়ে তুমুল বেগে আছড়াচ্ছে। ওগুলোকে থামানোর জন্যে যাওয়ার পথে নিরু দেখে মায়ের ঘরের জানলার সাথে যুদ্ধ করছে ওর ভাই। সব দরজা জানলা বন্ধ করে নিজের ঘরে এসে বিছানায় বসে নিরু। মন টিকছে না। বাইরে কী হচ্ছে দেখার জন্যে মনটা আঁকুপাকু করছে। পশ্চিমের জানলা খুলে বাইরে তাকায়। বৃষ্টির ছাঁটে বিছানা ভিজে যাচ্ছে, যাক একটু ভিজলে কিচ্ছু হবে না ভেবে এক হাতে জানলা বাইরের দিকে ঠেলে ধরে বসে থাকে। হুক গুলো নেই যে আটকে রাখবে। বাড়ি খেয়ে কাঁচ ভাংলে আবার কে যাবে বাড়িওয়ালাকে তেল মালিশ করতে তার চাইতে এই ভাল ভাবতে ভাবতে বাইরে মনযোগ দেয়। পাশের চারতলার ছাদে বড় রং এর ড্রামে লাগানো অনেকগুলো কাঠগোলাপের গাছ। প্রত্যেকটিতে ফুল এসেছে। ভীষণ ভাল লাগে দেখতে। কয়দিন যাবত ভাবছে একটা ডাল এনে বারান্দার টবে লাগাবে। কিন্তু চাইতে কেমন যেন লাগছে যদিও ঐ বাড়ীতে অনেক বছর থেকে এসেছে নিরুরা। বৃষ্টি নামলে গাছে ভরা ছাদটা দেখতে বেশ ভালই লাগে। জানলা খুলে নিরু দেখে আর ভাবে দূর থেকে সব-ই ভাল লাগে।

ছাদ পেরিয়ে দৃষ্টি মেলে দেয় আরো সামনে, দূরে রেইল লাইনে। মানুষ দৌড়োদৌড়ি করে যার যার গন্তব্যে ফিরছে। কেউ বাজার করেছিল, কেই অফিস থেকে ফিরছে কেউবা এমনিই হয়ত বের হয়েছিল বিকেলের হাওয়া খেতে। বৃষ্টির বেগ বেড়ে যাওয়া জানলা বন্ধ করতে বাধ্য হয় নিরু। এবার কী করবে যে ভাবতে থাকে। করার অনেক কিছু থাকলেও কিছুই করতে ইচ্ছে করে না। এলোমেলো একটা অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ধৈর্য্য ধরে অবিচল থাকাটা খুবই জরুরী সে জানে কিন্তু মাঝে মাঝে বালির বাঁধের মত ভেংগে যায়। শক্ত হতে হবে, শক্ত করতে হবে নিজেকে। ভাবতে ভাবতেই মনে হয় ঝড় বৃষ্টিটাকে অন্তত উপভোগ্য করা দরকার, আর তার জন্যে ভাল করে দুকাপ চা বানানো উচিত। আপাতত তাই করতে যায় নিরু, ততক্ষণে ঝড় কিছুটা থেমে গেলেও বৃষ্টি বেড়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৪:০৬
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×