somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাসন্তী

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রাশেদ হাতের ট্যাবটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই বললো "তোমার নামটা যেন কি?"
"নামে কি আসলো গেলো, ভোর হলেই তো আর চিনবেন না। শরীরের সাথে কাজ.. নাম ফুলবানু হোক বা দীপিকা তাতে কিছু আসবে যাবে না।"
একথা শোনার পর রাশেদ একটা ধাক্কার মতো খেলো।এমন একটা উত্তর এমন একটা মেয়ের কাছ থেকে সে আশা করে নি। নিজেকে সামলে নেয়ার আগেই মেয়েটি আবার বলল "তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করেন,অনেক ক্ষুধা লাগছে,ভাত খাবো।এখন পর্যন্ত চারজন কাজ করে চলে গেছে,খাবারের নাম নাই। আমিও তো মানুষ,পেট আছে। মানুষকে মানুষ মনে করেন না আপনারা।"

রাশেদ মেয়েটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। অন্ধকারে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। ওয়াশরুমের দরজাটা সামান্য খোলা, ওখান থেকেই যা একটু আলো আসছে ঘরের মধ্যে। তবে মেয়েটার কণ্ঠের মধ্যে কেমন যেন একটা মায়া জড়িয়ে আছে। কণ্ঠ শুনেই যেন বলে দেয়া যায় বিছানার ওপাশটাই যে মেয়েটা বসে আছে সে অতি রূপবতী। হটাৎ করেই রাশেদের খুব ইচ্ছে করছে মেয়েটাকে দেখার। এমন সব মেয়ের জন্য তার আগে কখনো এরকম ইচ্ছে হয় নি। আজ কেন জানি এই মেয়েটাকে তার দেখতে খুব ইচ্ছে করছে। রাশেদ উঠে গিয়ে আলোটা জ্বালিয়ে দিলো।কোনো কথা না বলে,কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা ইন্টারকমটার কাছে গিয়ে রিসিভারটা কানে তুলে নিলো।একটা খাবারের অর্ডার দিয়ে মেয়েটার দিকে তাকালো।মেয়েটাও রাশেদের দিকে তাকিয়ে আছে। কালো,গড়পড়তা একটা মেয়ে। বয়স বিশ-একুশের মতো হবে হয়ত।আহামরি সুন্দর নয় তবে চেহারায় একটা মায়া আছে। সোফাটায় বসতে বসতে বললাম "খাবার আসছে,আগে খেয়ে নাও। আর তুমি বলেছো, আমরা মানুষকে মানুষ মনে করি না। বিষয়টা আসলে ঠিক নয়। আমি তো মনে করি তোমার আমার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আমরা সবাই আসলে যে যার মতো কাজ বেছে নিয়েছি। কেউ শরীর বেচে খাচ্ছি, কেউ মাথা আবার কেউবা পরিশ্রম। কিন্তু আমরা কেউই আমাদের নিজের কাজ নিয়ে খুশি নই,হতে পারে দিনশেষে আমরা সবাই আসলে নিজেদেরকে প্রস্টিটিউট মনে করি।"

-না,পার্থক্য একটা আছে। সম্মানের। আপনি যে কাজ করেন তাতে সম্মান আছে। আপনার নিজের ইচ্ছের দাম আছে। আমার নাই। আমার হাজার ইচ্ছে হলেও আপনাকে আমার কাছে আসতে বাধা দিতে পারবোনা,আর আপনার ইচ্ছে জাগলেই আমাকে যেভাবে খুশি সেভাবে পাবেন।এখানেই পার্থক্য। মানুষ আমাকে বেশ্যা বলে। আপনি বুক ফুলিয়ে বলতে পারেন আপনি আসলে কি করেন। পার্থক্যটা এখানেই। যে মানুষটা আমাকে বেশ্যা বলে সে কখনোই বোঝেনি জন্মের পর ও যে পরিবেশের মধ্যে বড় হয়েছে,আর আমি যে পরিবেশ থেকে উঠে এসেছি এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য আছে।
রাশেদ কোনো কথা বলে না। এমন মনে হচ্ছে যেন মেয়েটা তার গলা চেপে ধরেছে। রাশেদের দম বন্ধ হয়ে আসছে। আজ যেন নিজের কাছেই নিজেকে অনেক ছোট ছোট লাগছে। সত্যিই তো নিশ্চয় এমন কোনো কারণ আছে যার কারণে সে এই পেশায় আসতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু আমরা বুঝতে চাই না। আমাদের কাছে এরা মনোবাসনা লব্ধ করার একটা উপকরণ মাত্র। আমরা এদের কখনো সম্মান দিতে শিখিনি।

খাবার চলে এসেছে।
মেয়েটা খেতে বসেছে। গপাগপ খাওয়া বলতে যেটা বোঝাই মেয়েটা ঠিক ঐভাবেই খাচ্ছে। বললাম "আস্তে খাও,গলায় আটকাবে তো"
-বাধবে না। আমি এভাবেই খেয়ে অভস্ত। ক্ষুধার জ্বালা আমি বুঝি। এই এক প্লেট ভাত যে কতটা ক্ষুদা মেটাতে পারে, আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।

রাশেদের চোখ ছলছল করে উঠে। কিন্তু এমন একটা মেয়ের কষ্ট দেখে তো কাদা যাবে না। বাইরে বন্ধুরা অপেক্ষা করছে। এমন একটা মেয়ের জন্য মায়া দেখালে সমাজ ও রাশেদকে মেনে নিবে কিনা সন্দেহ। রাশেদ আর কথা বাড়ায় না। উঠে দাঁড়ায়। বলে "বাইরে বেশ ঠান্ডা আছে,সকালে যাবার সময় আমার জ্যাকেটটা পড়ে যেও।
-ওই লাল জ্যাকেটটা?
-হুম।
-আপনি কাজ করবেন না?
-না। ইচ্ছে নেই। নিজেকে কেন জানি মানুষ মনে হচ্ছে না। আর মানুষ ছাড়া মানুষকে কেউ ভালোবাসতে পারে না। ও হ্যা,তোমার নামটা জানা হলো না।
-মা সুন্দর একটা নাম দিয়েছিলো,ওই নাম কেউ ডাকে না। বাসন্তী বললে সবাই চিনবে।

-ভালো থেকো বাসন্তী। "মানুষ" নামধারী মানুষগুলো তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৮
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রশ্নের আগুন যুক্তির মহাযাত্রা :প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য ২য় পর্ব ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:০৮


আদিতে ছিল প্রশ্ন
অন্ধকার আকাশের তলে দাঁড়িয়ে মানুষ
চেয়ে দেখেছিল নক্ষত্রের দিকে
মনে তার জেগেছিল বিস্ময়
কে জ্বালালো এই দীপ
কেন ঘোরে পৃথিবী, কেন নামে বৃষ্টি
কেন জন্ম, কেন মৃত্যু
কেন এই অনন্ত চলা?
উত্তর ছিল না হাতে
ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাফপ্যান্ট ফুলপ্যান্টের দেশে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:২৮


বাংলাদেশে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখতে ভালোবাসেন, তারা সাধারণত খুব নিরীহ বিষয় পছন্দ করেন। এর একটা কারণও আছে। বেশিরভাগ মানুষই অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চলতে চান। এমন কোনো বিষয় নিয়ে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×