somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডিজিটাল স্বাধীনচেতা

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তুই আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে নাই কেন? বড় ভাই জিজ্ঞেস করল।
টুটুল কোন কথা বলে না। চুপ করে থাকে।
কি হল? বল।আমাকে আনফ্রেন্ড করে দিয়েছিস? বড় ভাই আবার জিজ্ঞেস করে।

টুটুল এবার বড় ভাইয়ের দিকে তাকায়।ভাইয়ের চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে ভাইয়া যতটা না রাগন্নিত তার থেকেও বেশি শকড।তিনি যেন মেনেই নিতে পারছেন না তারই ছোট ভাই তাকেই ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে বের করে দিয়েছে। এটা তো ইগোতে লাগাটাই স্বাভাবিক। টুটুলের এখন খুব খারাপ লাগছে। সে আসলে ভাবতে পারেনি ভাইয়া বিষয়টাকে এতটা সিরিয়াসলি নিবে। এমনিতে টুটুল ভাইয়াকে অনেক ভয় পাই। আসলে ভয় পাওয়ার থেকেও বেশি সম্মান করে। জুবায়ের টুটুলের খালাত ভাই। বয়স পঁয়তিরিশের কাছাকাছি। একটা বড় কোম্পানিতে বড় পদে চাকরি করেন।টুটুল যখন খুব ছোট তখন থেকেই জুবায়ের টুটুলের কাছে একজন দিক নির্দেশকের মতো।টুটুলের যেকোনো ডিসিশান নেয়ার ক্ষেত্রে টুটুলের পরিবার জুবায়েরের সাথে আলোচনা করে। টুটুলের পরিবারের কাছে জুবায়ের মোটামুটি এলিয়েন সমান,যেন জুবায়ের কখনো ভুল করতে পারে না।হয়তো এই কারণেই টুটুল জুবায়ের ভাইকে এতটা ভয় পাই।

-সরি ভাইয়া,বাট আই ক্যান এক্সপ্লেইন।

বড় ভাই একদৃষ্টিতে টুটুলের দিকে তাকিয়ে থাকে। তাঁর কপালে ভাঁজ পড়েছে। চোখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে উনি টুটুলের উপর মহাবিরক্ত। সিগারেটের প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে বললেন "ওই যে টেবিলের উপর লাইটারটা রাখা আছে, দে।"

টুটুল উঠে গিয়ে লাইটারটা এনে ভাইয়াকে দেয়। ভাইয়া সিগারেটটা জ্বালাতে জ্বালাতে বলে "শোনা, তোর খোঁড়া যুক্তি।"
প্লিজ ভাইয়া রাগ করবেন না কিন্তু আমার মনে হয় আমার মধ্যে আরেকটা টুটুল আছে।
-কি!! বুঝলাম না।
-শুধু আপনিই নন,আমার পরিবার,আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী আমাকে জানে অনেক ভদ্র,মার্জিত,লাজুক,কথা কম বলা, ঝামেলাহীন একটা ছেলে হিসেবে। অবশ্যই সত্যি জানে। কিন্তু আমার মনে হয় আমি এটাই শতভাগ নই। ওরা হয়তো আমাকে পঞ্চাশ ভাগ চেনে। বাকি যে পঞ্চাশ ভাগ থাকলো সেটা চেনে আমার বন্ধুরা। আমার বন্ধুদের সামনে আমি একেবারেই আলাদা একজন টুটুল। মাঝে মাঝে আমার যায়ই ইচ্ছে হয় না কেন আমি তাই করি। রাত জেগে আড্ডা দেই, ইচ্ছে হলেই যেদিকে যেতে মন চাই,ব্যাগ প্যাক বেঁধে সেদিকে ছুটে যাই,আন্দোলনে আমিও গলা ফাটাই,কখনো কখনো তো আমি মারামারিও করি, আমিও স্ল্যাং জানি, কেউ জানে না কিন্তু আমিও কখনো কখনো আপনার মত সিগা....টুটুল চুপ করে যায়। মাথা নিচু করে বলে "সরি।"

-হুম বুঝলাম কিন্তু এর সাথে আমাকে আনফ্রেন্ড করার কি সম্পর্ক?

ভাইয়াকে এখন একটু সহজ মনে হচ্ছে। উনি যেন টুটুলের কথা শুনে মজা পাচ্ছেন। টুটুলের একটু সাহস বাড়ে। চোখ নাচিয়ে বলে "প্রথমত ভাইয়া,আপনার সাথে ফেসবুকে আমার খুব একটা চ্যাট হয় না। কোনো প্রয়োজন হলে আমি নিজেই আপনাকে ফোন করে নি। ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে থাকার আরেকটা উদ্দেশ্য হলো আপনি কখন কোথায় কি করছেন সে বিষয়ের আপডেট জানতে পারা। এটা তো আমি বাড়ির লোকের সাথে কথা হলেই জানতে পারি। মা,সবসময় আপনার কথাই বলেন।বাকি থাকলো লাইক,কমেন্ট,শেয়ার করার ব্যাপারটা। আমার একটা লাইক না পেলে আপনার কিছু আসবে যাবে না,আমি কখনোই আপনার কোনো পোস্ট বা ছবিতে কমেন্ট বা শেয়ার করি না। করি না কারণ আমি আপনাকে এখনও ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারি নি। হয়ত এই কারণে আমি আপনাকে একটু ভয় ও পাই। এখন কথা হলো ভাইয়া এমন অনেক কিছু আছে যেটা আমি শুধুই আমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে চাই কিন্তু পরিবারে মানুষে কাছে চাই না। এমন অনেক সময় আমার মনে হয়েছে হয়তো এই জিনিসটা দেখলে ভাইয়া অন্যরকম কিছু ভাবতে পারে। কত সময় তো আমি বন্ধুদেরও বলি দোস্ত এই জিনিসটা ফেসবুকে দিসনা,ভাইয়া দেখলে রাগ করতে পারে। যদিও ভাইয়া ফেসবুক আসার পর প্রাইভেসির সংজ্ঞাটাই বদলে গেছে। তারপরেও, পরিবার আর বন্ধু তো এক করতে পারি না।

জুবায়ের ভাইয়া মিটমিট করে হাসে। তারপর মুখটা একটু সামনে এনে এক চোখ টিপে বলে, তুই ও তো দেখছি আমার মতোই রে। এক কাজ করি, আমার আরেকটা আই ডি আছে। ওই আই ডি তে আমার ও ফিফটি পার্সেন্ট আছে। ওটাতে আমরা এড হয়ে যাবো। আফটার অল, চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:৪৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হিজিবিজি নদীর ধারে খাদ্যমেলা

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৪

হিজিবিজি নদীর ধারে খাদ্যমেলা
.................................................................



শামুক ভাইটি দিল ছুট,
পায়ে তাহার নাইকো বুট।
হোঁচট খেয়ে থাবড়া,
মাছের নাকে কামড় বা!

মাছটি বলে, "কী আপদ!
ছাড়ো আমার এই পথ।
"ফ্যাঁকফ্যাঁকে সব বুদবুদ,
ছুটলো তারা কুদকুঁদ।

ব্যাঙ ও মাছি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেনা অচেনা জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১২



ঝড়ের কাছে হেরে যাওয়া গাছ,
শুকনো পাতার মতোই ঝরে পড়ে।
আমি শিকড়ে বেঁধেছি বাসা,
তাই তো দাঁড়িয়েছি ঝড়ের পরে।

একলা রাতের নীরব জানালায়,
কত অশ্রু ভোরের আগে শুকায়।
শান্তি নামে শব্দহীন এক পাখি,
যখন মানুষ নিজেকেই খুঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সমস্যা ও সমাধান

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৬


ছবি-১

চলার পথে অনেকেই হয়তো মোবাইল ফোনে ব্লগ পড়তে বা দেখতে গিয়ে বিপত্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। সাধারণত মোবাইল ফোনে যারা ব্লগ পড়েন তাদের ব্লগের লেখা পড়তে ও ব্লগের লেখা সহ ছবি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছুই ভাল্লাগে না আজ তবু সময় বয়ে যায়

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০৮


কিছুই ভাল্লাগে না আজ
মানুষের মুখে মানুষেরই রক্তের গন্ধ লেগে আছে
শিশুর কান্না আকাশ ছুঁয়েও
কোনো ক্ষমতার প্রাসাদের জানালা কাঁপে না।

বাংলাদেশ জেগে থাকে
গ্যাসের অপ্রতুলতা, দ্রব্যমূল্যের দীর্ঘশ্বাস,
বেকার যুবকের অনিদ্রা,
আর প্রতিদিনের অগণিত অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির পাশে।
সংবাদপত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬



ফেসবুক মেমোরিঃ
৩২ জুলাই এই পোস্ট লিখেছিলাম.....

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

ভালো থাকার চেষ্টা সবসময় করি, বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজে নিতে চেষ্টা করি- পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর কিছু করতে না পারার আফসোস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×