somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমার দোয়ায় ভালো আছি ফেসবুক

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কখনো খেয়াল করেছেন কিনা জানি না- মনে করুন আপনি ফেসবুকে লগ ইন করলেন, হোমপেজ আসার পর আপনি স্ক্রল করে নিচের দিকে নামতে থাকলেন। এবার মনে করুন আপনার এক বন্ধু তার গার্লফ্রেন্ড-এর সাথে একটা ছবি প্রোফাইল পিকচার আপলোড করেছে। আপনি সেই ছবিটাতে একটা "লাভ" (ভালোবাসা ) ইমো দিলেন। তারপর নিচের দিকে নামতে থাকলেন, আপনি একটা দুর্ঘটনার ছবি দেখলেন, আপনার অনেক খারাপ লাগলো।আপনি তাতে একটা স্যাড (কষ্ট) ইমো দিলেন। তারপর আপনি আবার নিচে নামতে থাকলেন, এবার আপনি দেখলেন খুব মজার একটা ভিডিও, ভিডিও-টা এতই মজার যে হাসতে হাসতে আপনার দম আটকে যাবার মতো অবস্থা।নিজেকে সামলে নেয়ার পর আপনি তাতে একটা হা-হা (অট্টহাসি) ইমো দিলেন এবং নিচের দিকে নামতে থাকলেন। ব্যাপারটা কেমন দাঁড়াল? আপনি সেকেন্ডে সেকেন্ডে মানুষকে বুঝাচ্ছেন আপনি খুশি হয়েছেন,কিংবা কষ্ট পেয়েছেন।কিন্তু আসলেই কি আপনার সত্তিকার ইমসনে কোনও পরিবর্তন এসেছে? সে যাই হোক, এরপর আপনি এমন একটা নিউজ দেখলেন যা দেখে আপনার মনে হলো "দেশ তো পুরাই রসাতলে যাচ্ছে, নাহ!! এমন হলে চলবে কি করে" আপনার রক্ত গরম হয়ে গেলো,ভাবলেন কিছু একটা করা দরকার। কি করবেন... কি করবেন... ভাবতে ভাবতে আপনি একটা "বিদ্রোহী" টাইপ স্ট্যাটাস দিয়ে ফেললেন। বসে বসে আপনার স্ট্যাটাসের লাইক গুনতে থাকলেন, কমেন্ট বক্সে তর্কের ঝড় তুললেন। অনেকক্ষন এমন করতে করতে হটাৎ আপনার মনে হলো "আরে আমার তো সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা লাগবে,জরুরি কিছু কাজ আছে। আর তাছাড়া আপনার ক্ষুধা ও লেগেছে।" ব্যাস ,আপনি ফেসবুক লগ আউট করে,খেয়ে, ঘুমিয়ে পড়লেন।


এতটুকু পড়ার পর যদি আমার মতো আপনার ও মিলে যায় তাহলেই বরং আমরা বর্তমানের "স্বাভাবিক " মানুষ। হ্যা,এখন আমাদের ইমোশোনগুলো সেকেন্ডে সেকেন্ডে পরিবর্তন হয়। শুধু ইমোশোন কেন? "বন্ধুর সংজ্ঞা" "ব্যাক্তিগত" (পার্সোনাল)-এর সংজ্ঞা এমনকি "আমার আমি"-র সংজ্ঞাটাও বদলে গেছে। মনে হয় বুঝতে পারেন নি। আচ্ছা আমি বর্তমান চিত্রটা বলি আপনারা বরং মেলান। এখন কারো সাথে পরিচিত হতে গেলে হাই,হ্যালো হবার পর আমরা বলি "আপনার ফেসবুক আই ডি -র নামটা বলুন, আমি আপনাকে এড করে নিচ্ছি। যেন পরিচিত হবার প্রথম শর্তই হলো ফেসবুকে বন্ধু হওয়া। বর্তমান সময়ে আপনি যদি আপনার কাছের বন্ধুটাকে দুটো বাঁকা কথা শুনিয়ে দেন কিংবা তার উপর হাত তোলেন সে হয়তো ততটাও রাগ করবে না যতটা না কষ্ট পাবে আপনি যদি তাকে ফেসবুক থেকে আনফ্রেন্ড বা ব্লক করে দেন। জিনিসটা ইন্টারেস্টিং, না? মনে জায়গা পাই বা না পাই, ফেসবুক লিস্টে থাকা চাই ই।

সত্যি করে একটা কথা বলুন তো, আপনার জীবনে এমন কতগুলো মানুষ আছে যার সাথে আপনি আপনার জীবনের সবকিছু ভাগ করে নিতে পারেন? যে কথাগুলো আপনি কখনো কাউকে বলেন নি, এমন কতজন আছে যার সাথে আপনার ইমোশনগুলো শেয়ার করতে পারেন। একজন? দুইজন?কিন্তু আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় ফেসবুকে আপনার বন্ধু সংখ্যা কত ?আপনি নিশ্চয় শ' কিংবা হাজারে হিসেবে করবেন। এরা সবাই কি সত্যিকার অর্থেই বন্ধু? আমার কাছে তো অন্তত নয়। আমার মতো আপনার ও কি কখনো মনে হয়েছে চার দেয়ালের মধ্যে হাজার খানেক বন্ধু নিয়েও আপনি বড্ড একা।

একটা কথা বলি, কাউকে বলবেন না যেন.. বর্তমানের ফেসবুক জিনিসটা আসলে পুরোটাই মেকি, লোক দেখানো। মানুষকে বোঝানো " আমি ভালো আছি।" এখানে ভালো থাকার অভিনয় করা হয়। ফায়দা কি- অবশ্য এখন লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার এর প্রশান্তিও অনেক বড় প্রশান্তি। অবশ্য মনের প্রশান্তির থেকে বড় প্রশান্তি আর কি বা আছে। হোক না দিন শেষে আপনি বড় একা।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রশ্নের আগুন যুক্তির মহাযাত্রা :প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য ২য় পর্ব ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:০৮


আদিতে ছিল প্রশ্ন
অন্ধকার আকাশের তলে দাঁড়িয়ে মানুষ
চেয়ে দেখেছিল নক্ষত্রের দিকে
মনে তার জেগেছিল বিস্ময়
কে জ্বালালো এই দীপ
কেন ঘোরে পৃথিবী, কেন নামে বৃষ্টি
কেন জন্ম, কেন মৃত্যু
কেন এই অনন্ত চলা?
উত্তর ছিল না হাতে
ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাফপ্যান্ট ফুলপ্যান্টের দেশে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:২৮


বাংলাদেশে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখতে ভালোবাসেন, তারা সাধারণত খুব নিরীহ বিষয় পছন্দ করেন। এর একটা কারণও আছে। বেশিরভাগ মানুষই অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চলতে চান। এমন কোনো বিষয় নিয়ে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×