somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পেট পূজা

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তৃষ্ণায় সাদেকার গলাটা শুকিয়ে আসছে।
একটু পানি হলে ভাল হত।কিন্ত আশেপাশে কোন নলকূপ নেই।পানি খেতে গেলে সেই দশ-পনের মিনিট হাঁটা পথ।এত সময় সাদেকার হাতে নেই।ভাইয়ের আসার সময় হয়ে গেছে।সাদেকা তাই তৃষ্ণাটাকে খুব একটা পাত্তা না দিয়ে চোখ বন্ধ করে আমগাছটার নিচে বসে আছে।এই ভরদুপুরে আমবাগানটায় গ্রামের মানুষের যাওয়া-আসা নেই বললেই চলে।মাঝে মাঝে অবশ্য কেউ কেউ পাটি পেতে গাছের নিচে দিব্যি ঘুমায়।আজ সেটাও নেই।না থাকার অবশ্য একটা কারন আছে,সপ্তাহের এই দিনটায় বাড়ির ছেলে বুড়োর বেশিরভাগই হাটে যায়।
আমবাগানটাকে আজ বড্ড বেশি নিরব লাগছে সাদেকার কাছে।ভ্যাপসা গরমে চারিদিকে যেন আগুনের ফুল্কি ছিটছে।মাঝে মাঝে দু-একটা কাক কা-কা শব্দে ডেকে ওঠে।সাদেকা মনে মনে ভাবে কাকগুলোর তো পাখা আছে,চাইলেই ফুরুত করে উড়ে গিয়ে পানি খেয়ে আবার আসতে পারে।ইস,আমার যদি কাকের মত এমন দুটো পাখা থাকতো।

খুব বেশি ধরলেও সাদেকার বয়স সাত-আট বছরের বেশি হবে না।এই বয়সেই অভাব নামক এক রাক্ষসীর সাথে খুব ভাব হয়ে গেছে।জন্মের আগেই বাবা মারা গেছে।জন্মের চার বছরেই মাথায় মাকে ও হারিয়েছে।চার ভাই-বোনের সংসার।সাদেকা সবার ছোট হলেও অন্য ভাই-বোনগুলো যে খুব লায়েক হয়ে উঠেছে তাও নয়।সবার বড় বোনটার বয়স উনিশ।বাকিগুলো তের থেকে আঠারোর মধ্যে।বড় বোনদুটো পরের বাড়িতে কাজ করে।একটা ভাই সিনেমা হলে বাদাম বিক্রি করে।সংসারে চার-চারটা মুখের অন্ন জোগানর আয় বলতে ওইটুকুই।দিনে একবেলা রান্না হয় আর সেটাই তিন ভাগে ভাগ করে তিন বেলা খাওয়া হয়।ছোট্ট সাদেকার পেটের ক্ষুধা কখনই মেটে না।আগেরদিনই সে তার বড় বোনকে বলে দিয়েছে তাকে যেন তিনবেলার খাবারটা একবারেই দিয়ে দেয়া হয়।বুবু মনে হয় কথাটা শুনতেই পাই নি।আজ আরেকবার বলতে হবে।

আজ যেন সাদেকার অপেক্ষা শেষ হয় না।পরের সপ্তাহে সে যখন আবার আসবে তখন একটা বোতলে করে পানি নিয়ে আসবে।রাস্তাই সে মাঝে মাঝেই বোতল পড়ে থাকতে দেখে।আজই একটা কুড়িয়ে এনে ভাল করে ধুয়ে রাখতে হবে।সাদেকা মনে মনে পণ করে বোতলভর্তি পানি না নিয়ে আসার ভুল সে আর কখনই করবে না।সাদেকা রাস্তার দিকে তাকায়।নাহ,ভাই আসছে না।সাদেকা গাছে হেলান দিয়ে আবার চোখটা বন্ধ করে।মনে মনে সে নিজের একটা পৃথিবী কল্পনা করে।যেখানে সে তিন বেলায় পেট পুরে ভাত খায়,বাড়িতে টিনভর্তি মুড়ি থাকে,বয়োমে গুড় আর নারকেলের নাড়ু থাকে।চোখ বন্ধ করলেই বড় বুবু তার হাতে দুটো টাকা দেই,আর সেই টাকা নিয়ে সে দৌড় দিয়ে কালুর মিষ্টির দোকানে গিয়ে একটা সন্দেস কেনে।আহা,কি মিষ্টি।সাদেকা মিটি মিটি হাসে...

-কিরে ঘুমিয়ে পরেছিস?? বড় ভাই ডাক দেয়।
সাদেকার ঘুম ভেঙ্গে যায়।দুহাত দিয়ে চোখ কচলাতে কচলাতে বলে “না”।

“এই নে ধর” বলে বড় ভাই সাদেকার হাতে ছোট্ট পলিথিনে মোড়ানো পোয়া খানেক গরুর মাংস ধরিয়ে দেয়।বুবুকে বলিস একটু বেশি করে তেল-পেঁয়াজ দিয়ে রান্না করতে।মেম্বারের বাড়িতে বাজারটা দিয়ে আবার আমাকে হাটে আসতে হবে।মেম্বারের দুই গরুরগাড়ি ধান আজ হাটে নামিয়েছে।ওইগুলো বিক্রি করে আবার টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে।বাড়িতে আসতে আসতে রাত হয়ে যাবে।

সাদেকা দাদার কথার দিকে কান দেয় না। ও শুধু দাদার হাতের ব্যাগদুটোর দিকে তাকিয়ে থাকে।চোখ বড় বড় করে বলে “দাদা,মেম্বাররের বাড়ির জন্য তুমি এত বাজার করো?এত খাবার ওরা কয়দিনে খায়?”

বড় দাদা চুপ করে থাকে।

সাদেকা আবার বলে “দাদা, তুমি যে এখান থেকে মাংস দাও,ওরা বুঝে ফেলে না?”

বড় দাদা কিছু বলে না।শুধু ছোট বোনটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে “এত এত বাজারের মধ্যে এতটুকু ওদের চোখে পড়বে নারে বোন।তুই যা তাড়াতাড়ি।বুবু তোর জন্য বসে আছে।”

সাদেকা দৌড় দিয়ে বাড়ির দিকে ছুটতে থাকে।সত্যিই বাড়িতে ওর জন্য সবাই অপেক্ষা করছে।সপ্তাহের এই একটা দিন ওরা মাংস খায়।অন্যান্য দিন তো শাঁক লতা-পাতা দিয়েই দিন চলে যায়।আজ হোক এক টুকরো মাংস,তবু খায় তো।যেতে যেতে সাদেকা নলকূপের কাছটাই এসে পড়ে।ইস!! বড্ড পিপাসা পেয়েছে।একটু পানি খাওয়া দরকার।পরক্ষনেই ভাবে, না থাক রাতে আজ মাংসের তরকারি।শুধু শুধু পানি খেয়ে ক্ষুধাটা মারতে ইচ্ছে করছে না।

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:৪৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হিজিবিজি নদীর ধারে খাদ্যমেলা

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৪

হিজিবিজি নদীর ধারে খাদ্যমেলা
.................................................................



শামুক ভাইটি দিল ছুট,
পায়ে তাহার নাইকো বুট।
হোঁচট খেয়ে থাবড়া,
মাছের নাকে কামড় বা!

মাছটি বলে, "কী আপদ!
ছাড়ো আমার এই পথ।
"ফ্যাঁকফ্যাঁকে সব বুদবুদ,
ছুটলো তারা কুদকুঁদ।

ব্যাঙ ও মাছি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেনা অচেনা জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১২



ঝড়ের কাছে হেরে যাওয়া গাছ,
শুকনো পাতার মতোই ঝরে পড়ে।
আমি শিকড়ে বেঁধেছি বাসা,
তাই তো দাঁড়িয়েছি ঝড়ের পরে।

একলা রাতের নীরব জানালায়,
কত অশ্রু ভোরের আগে শুকায়।
শান্তি নামে শব্দহীন এক পাখি,
যখন মানুষ নিজেকেই খুঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সমস্যা ও সমাধান

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৬


ছবি-১

চলার পথে অনেকেই হয়তো মোবাইল ফোনে ব্লগ পড়তে বা দেখতে গিয়ে বিপত্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। সাধারণত মোবাইল ফোনে যারা ব্লগ পড়েন তাদের ব্লগের লেখা পড়তে ও ব্লগের লেখা সহ ছবি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছুই ভাল্লাগে না আজ তবু সময় বয়ে যায়

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০৮


কিছুই ভাল্লাগে না আজ
মানুষের মুখে মানুষেরই রক্তের গন্ধ লেগে আছে
শিশুর কান্না আকাশ ছুঁয়েও
কোনো ক্ষমতার প্রাসাদের জানালা কাঁপে না।

বাংলাদেশ জেগে থাকে
গ্যাসের অপ্রতুলতা, দ্রব্যমূল্যের দীর্ঘশ্বাস,
বেকার যুবকের অনিদ্রা,
আর প্রতিদিনের অগণিত অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির পাশে।
সংবাদপত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬



ফেসবুক মেমোরিঃ
৩২ জুলাই এই পোস্ট লিখেছিলাম.....

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

ভালো থাকার চেষ্টা সবসময় করি, বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজে নিতে চেষ্টা করি- পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর কিছু করতে না পারার আফসোস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×