আমার এক বন্ধু, দেশের নামকরা একটি দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক। তার পরিবারের কারও অসুখ-বিসুখ হলে, ফোনের মাধ্যমেই আমার কাছ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়।
তার বাসার দাড়োয়ানের দুই দিন থেকে জ্বর।
ফোনে আমাকে না পেয়ে একপ্রকার বাধ্য হয়েই পার্শ্ববর্তী একজন ডাঃরের কাছে নিয়ে গেছে।
আমাকে আজ সকালে ফোন দিয়ে বলে,
- দোস্ত, দাড়োয়ানকে গতকাল ডাঃরের কাছে নিয়ে গেছিলাম। শালার ডাঃতো পুরাই কসাই।
- কেনো? কি করেছে ডাঃ?
- আরে, কলমের এক খোঁচায় শুধু প্যারাসিটামল লিখে দিয়ে ৩০০ টাকা ভিজিট নিলো।
- তুইতো ভুল করেছিস। ডাঃরের কাছে না যেয়ে, নিজেই কলমের এক খোঁচায় প্যারাসিটামল লিখে নিলেই পারতি।
তাহলে আর তোর পকেটের ৩০০ টাকা খরচ হতো না।
- তুইতো ডাঃ, আর তাই ডাঃদের পক্ষই নিবি। তবে যাই বলিস না কেনো, তোরা আসলেই কসাই।
- হে রে দোস্ত। ডাঃ বেশী ওষুধ লেখলেও দোষ, আবার কম ওষুধ লেখলেও দোষ। বেশী ওষুধ
লেখলে বলবি, শালার কসাই, কোম্পানীর কাছ
থেকে টাকা খেয়ে বেশী বেশী ওষুধ লেখে। কম ওষুধ লেখলে বলবি, শালার কসাই, কলমের এক খোঁচায় ৩০০ টাকা নিয়ে নেয়।
- না, আমি আসলে সে ভাবে বলিনি।
- শোন দোস্ত, তুই কিভাবে বলেছিস, তা আমি বুঝতে পেরেছি।
- আচ্ছা, তোর বাবার যখন ওপেন হার্ট সার্জারী হয়, তখন ৪ ব্যাগ রক্ত লেগেছিল। আমি এবং আমার মতো আরও ৩জন ডাঃ সেদিন রক্ত দিয়ে তোর বাবার জীবন বাঁচিয়েছিলাম।
আর তুই কিনা তাদেরকেই বলছিস কসাই।
- তোর মা যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, তখন তুই ঢাকার বাইরে ছিলি।
সারাদিন হাসপাতালে ডিউটি করে, সারারাত হাসপাতালে, তোর মায়ের বেডের পাশে বসে ছিলাম। আর তুই কিনা আমাকেই কসাই বলছিস!
- যার কাছ থেকে উপকার পেয়েছিস, তাকে সম্মান করাতো দূরের কথা, বরঞ্চ কসাই
বলে অসম্মান করছিস।
- শেষ একটা কথা বলি, খুব মন দিয়ে শুনিস।
- কলমের খোঁচা সবাই মারে। শুধু পার্থক্যটা হলো ডাঃরের কলমের খোঁচায় জীবন বাঁচে, আর তোদের মতো সাংবাদিকদের কলমের খোঁচায় কি হয়, তা আমার চাইতে তুই ভালো জানিস।।
লিখেছেনঃ ডাঃ শামীম রেজা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



