somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিকথল

২১ শে জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছাদে একলা বসে আছে অনেক্ষণ, মওলানার ছেলে পিকথল। তার পকেটে চিঠি, মাথার উপর কালো মেঘ। বৃষ্টি নামবে। পিকথল চিঠিটা বের করে কাগজের ভাঁজ খুলল। পড়তে পড়তে মওলানার ছেলে হঠাৎ বাংলা অক্ষরের প্রেমে পরে, যেমনটা তালিব মাস্টারের মেয়ে পরে আছে তার উপর। চিঠিটা তারই দেয়া।
মেয়ের হাতের লেখা ঐশ্বরিক। পিকথল চিঠিটা পড়ল দু'বার, আর ঠিক করল এখন থেকে ওর প্রিয় যুক্তবর্ণ হচ্ছে 'ক্ষ'। আর সেই সাথে ওর মনটা হয়ে গেল খারাপ, কেন কেজানে। সে আকাশের দিকে তাকায়, চোখে মুখে কিছুটা দার্শনিক ভাব। সে ভাবে মানুষ কেন প্রেমে পরে? উত্তর নেই। সে চুপ করে চেয়েই থাকে, আকাশ দেখে। হঠাৎ মনে হয় চিঠির একটা উত্তর দেয়া দরকার। কিন্তু এতো সুন্দর করে ও লিখতে পারবেনা। পিকথলের মন খারাপ আরো ঘন হয়। ভেবে আফসোস করতে থাকে, ওর মধ্যে আসলে সাহিত্য নেই। সাহিত্যের কিছুটা থাকলে অবশ্যই আকাশের দিকে তাকালে মেঘের জায়গায় অন্য কিছু, অলৌকিক কিছু দেখতো। সে মেঘই দেখে, যেমন এখন দেখছে মন খারাপ করা কালো মেঘ। চিঠির উত্তর তবে আর দেয়া হবেনা বোধ হয়। চিঠি প্রেরকের প্রেমে পরা ব্যর্থ হতে পারে। আর সফল হওয়ার সুযোগ খুব কম, যদি পিকথল এগোয় তবুও। মেয়েটা ওর ছাত্রী, বাসায় গিয়ে কুরআন পড়ায়।

বৃষ্টির ফোঁটা পরল চিঠিতে। ভিজতে থাকে ওর মাথার পাগড়ি আর ঘেয়া রঙের আলখেল্লা। পিকথল মাথার পাগড়ি খুলল, মাথায় চিঠিটা রেখে আবার পাগড়ি পরে নিল। ও চিঠিটা আরো কয়েকবার পড়বে। এখন ও ঘরে যাবে। বৃষ্টিতে ভিজতে ওর ভালো লাগেনা।
ছাদ থেকে নামার সিঁড়িতে দেখা হয় ওর দূরসম্পর্কের চাচাতো বোনের সাথে, যার মুখ ও আজ পর্যন্ত দেখেনি। মেয়েটা বোরখা পরা, মুখ ঢাকা। পুরুষের উপস্থিতি টের পেয়ে গা কুঁচকে সিঁড়ির এক কোনে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়ের বয়স ষোল হবে। পরহেজগার পরিবারের পরহেজগার মেয়ে। সে মাথা ঢেকে রাখে এমনভাবে যাতে তার সুন্দর হালকা লালচে চুলগুলো কোনো পুরুষের চোখে না পরে। চুলগুলো তার খুব প্রিয়। সে চায়না এই চুলগুলোই বিষাক্ত কোনো সাপ হয়ে তার সারা গায়ে কামড়াক। সে সাপ ভয় পায়।
পিকথল তার এই বোনের মুখ কখনো দেখেনি, কন্ঠ শুনেছে। মেয়ের কন্ঠ সুন্দর, তিলাওয়াতের গলা ভালো। ও এক মুহূর্ত থামল সিঁড়িতে, কেন থামল কেজানে, কিন্তু থামল। তার এই থেমে যাওয়া মেয়েটার বুকের পানি শুকিয়ে দিয়েছে। তার কুঁচকে রাখা শরীর আরো সংকোচিত হয়। শক্ত হাতে ধরে রাখে রেলিংটা। সেই হাত কালো মোজায় ঢাকা। পিকথল আর দাঁড়াল না। সে চলে যাওয়ার পরও কয়েক মিনিট মেয়েটা রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। বুক কাঁপছিল তখনো।
আর, তখন মেয়েটা চোখ বন্ধ করে কল্পনা করছিল পিকথলের চোখ, একা থাকলে যা কল্পনা করে তার অদ্ভুত মোহভরা কিছু মুহূর্ত কাটে। আবার বরবারের মতো মনের বিরুদ্ধে তওবা করে সে। তার মাথায় পুরুষের চিন্তা, শয়তানের প্ররোচনায়, ভয়ংকর গুনাহ। সৃষ্টিকর্তার নারাজির ভয়ে সে পিকথলের কথা ভুলতে চায়। সাথে সাথেই আবার একটু আগে পাওয়া অদ্ভুত অনুভূতির কথা মনে পরে। ঈমান আর মনের লড়াই চলতে থাকে। কিছুক্ষণ সে থাকে মনের দখলে। আর মনে মনে ধন্যবাদ জানায় মা'কে। মা ছাদ থেকে কাপড় আনতে না পাঠালে এই জীবনে পিকথল হয়তো তার এতটা কাছে আসত না কখনো। একটু আগে তাদের মধ্যে দূরত্ব খুব সম্ভবত দুই ফিটও ছিলনা। ভেবে শিহরিত হয় মেয়েটা। যদিও অভিজ্ঞতাটা ভয়াবহ।
মুহুর্তে সে আবারও দুর্বল। কান পেতে শোনে ইবলিশের কুবুদ্ধি। সে ভাবে, যে কথা বলছে ভেতরে, সে কী সত্যিই বিপথগামী? এতো কেন ইচ্ছে ওর? চিন্তায় বাজেভাবে আচ্ছন্ন হওয়ার আগেই মেয়েটা কিন্তু ঠিকই আবার শক্ত হয়। কঠিন মনে ওয়াদা করে, যে ওয়াদা সে ভেঙেছেও কম করে হলেও হাজারবার; সে ওয়াদা করে পিকথলের কথা সে আর চিন্তা করবেনা। আর মনে করতে থাকে কিছু পবিত্র বাণী। পরকালের শাস্তির ভয়ে সে শিউরে ওঠে, তওবা করে আবার।
হঠাৎ বজ্রপাতে মেয়েটার চিন্তার কুয়াশা দূর হয়, কিছুটা অপ্রস্তুতভাবে। জোরে বৃষ্টি হচ্ছে। শুকোতে দেয়া কাপড়গুলো ভিজে গেছে আবার। দৃশ্যটা খুব কষ্ট দিল ওকে। পিকথল ওর মাথা চিবিয়ে খাচ্ছে। মনে মনে আবারও বাতিল করা হলো পিকথলকে, আর চোখ বেয়ে পরল পানি। খুব প্রিয় কিছু কুরবানি করলে যেমন হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১:০০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=বেনারসী রঙে সাজিয়ে দিলাম চায়ের আসর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:৫২



©কাজী ফাতেমা ছবি
মনে কি পড়ে সেই স্মৃতিময় সময়, সেই লাজুক লাজুক দিন,
যেদিন তুমি আমি ভেবেছিলাম এ আমাদের সুদিন,
আহা খয়েরী চা রঙা টিপ কপালে, বউ সাজানো ক্ষণ,
এমন রঙবাহারী আসর,সাজিয়েছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজ্ঞানময় গ্রন্থ!

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ২:৪২

একটু আগে জনৈক ব্লগারের একটি পোস্টে কমেন্ট করেছিলাম, কমেন্ট করার পর দেখি বেশ বড় একটি কমেন্ট হয়ে গেছে, তাই ভাবলাম জনস্বার্থে কমেন্ট'টি পোস্ট আকারে শেয়ার করি :-P । তাছাড়া বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অস্ট্রেলিয়ার গল্প ২০২৪-৪

লিখেছেন শায়মা, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৩:৪৫


চলে যাবার দিন ঘনিয়ে আসছিলো। ফুরিয়ে আসছিলো ছুটি। ছোট থেকেই দুদিনের জন্য কোথাও গেলেও ফিরে আসার সময় মানে বিদায় বেলা আমার কাছে বড়ই বেদনাদায়ক। সেদিন চ্যাটসউডের স্ট্রিট ফুড... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি বেদ, উপনিষদ, পুরাণ, ঋগ্বেদ এর তত্ত্ব বিশ্বাস করেন?

লিখেছেন শেরজা তপন, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৫২


ব্লগে কেন বারবার কোরআন ও ইসলামকে টেনে আনা হয়? আর এই ধর্ম বিশ্বাসকে নিয়েই তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে সবাই? অন্য ধর্ম কেন ব্লগে তেমন আলোচনা হয় না? আমাদের ভারত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ‘অন্তরবাসিনী’ উপন্যাসের নায়িকাকে একদিন দেখতে গেলাম

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১:২৫

যে মেয়েকে নিয়ে ‘অন্তরবাসিনী’ উপন্যাসটি লিখেছিলাম, তার নাম ভুলে গেছি। এ গল্প শেষ করার আগে তার নাম মনে পড়বে কিনা জানি না। গল্পের খাতিরে ওর নাম ‘অ’ ধরে নিচ্ছি।

... ...বাকিটুকু পড়ুন

×