Click This Link
সুস্থ্য সবল জাতি গঠন আমাদের সকলের কাম্য। স্বাস্থ্যসেবা বলতে আমরা সব সময় হাসপাতাল, ঔষধ, চিকিৎসা ব্যবস্থার ইত্যাদি উন্নতি করার কথা বলি। কিন্তু মানুষকে কিভাবে রোগমুক্ত রাখা যায় সে বিষয়ে কোন আলোচনা বা পরিকল্পনা করি না।
হাসপাতাল, ঔষধ. চিকিৎসা রোগ নিরাময়ের চাবিকাঠি হওয়ায় আমাদের দেশের একদল স্বার্থন্বেষী মহল রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে মানুষের শরীরকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছে। মানুষের শরীরকে সুস্থ্য রাখার পরিবর্তে তারা স্বাস্থ্যকে সেবা হিসাবে গ্রহণ না করে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম ব্যবসা হিসাবে গ্রহণ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের সরকারি আওতাধীন চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বেসরকারী করার কথা বলা হচ্ছে। বেসরকারী পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা ব্যয় সাপে এবং আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে এই সেবা গ্রহণ করাও অসম্ভব।
দেশের জনসাধারনের স্বার্থেই চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সরকারকেই মুখ্যভূমিকা পালন করতে হবে। কিছু সমস্যা থাকা সত্ত্বেও দেশের সরকারী হাসপাতালগুলো স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সরকারী ব্যবস্থাপনায় এই হাসপাতালগুলো উন্নয়ন করা হলে আরো অনেক মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বেসরকারী নিয়ন্ত্রনাধীন যে সকল চিকিৎসা খাত রয়েছে সেসব খাতকে কঠোরভাবে সরকারকেই নিয়ন্ত্রন করতে হবে।
তাছাড়া সরকারী ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্য সেবা আমাদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তভূক্ত করা প্রয়োজন, কেননা আমরা নিয়মিত কর প্রদান করছি। অতএব স্বাস্থ্যখাতকে বেসরকারীকরণের মাধ্যমে পণ্য করা হলে সরকারই প্রশ্নবিদ্ধ হবেন।
স্বার্থন্বষী মহল স্বাস্থ্য খাতকে যেন ব্যবসা হিসাবে গ্রহণ করে জনগনের শরীরকে পন্য হিসাবে ব্যবহার করতে না পারে সে বিষয়ে জনগনকে এখনই সচেতন করে তুলতে হবে। এ বিষয়ে আমরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশ, যেমন- শ্রীলংকা, কিউবাসহ বিভিন্ন দেশকে উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরতে পারি। যেমন শ্রীলংকাতে চিকিৎসা সেবার ৯৫ ভাগই সরকার নিয়ন্ত্রন করে।
দেশের স্বাস্থ্য খাতকে শুধু সরকারের একার পক্ষ্যে উন্নয়ন করা সম্ভব নয় এর জন্য সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় জনগণের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার এর জন্য সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। রোগের চিকিৎসা করতে হবে ঠিক, কিন্তু স্বাস্থ্যসেবায় রোগ প্রতিরোধের বিষয়টি প্রাধান্য দিতে হবে। এর জন্য সচেতনতাই যথেষ্ট নয়।
নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে ডায়াবেটিস, স্থুলজনিতসহ সমস্যা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন অবকাঠামোর উন্নয়ন সহ পরিবেশ দূষণ রোধ করাসহ। আমাদের খাদ্য তালিকা থেকে ফাস্ট ফুড, জাঙ্ক ফুড জাতীয় খাবার বাদ দিয়ে এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনগনকে সচেতন করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারকেই মুখ্যভূমিকা করতে হবে।
রোগ প্রতিরোধকে স্বাস্থ্য সেবায় অগ্রাধিকার দেয়া হোক
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
বৃষ্টি দিনের গল্প!

টিভি বা পত্রপত্রিকায় আবহাওয়া'র খবর নিয়ে নিউজ হয়-
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের পূর্বাভাস... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইন দ্যা শ্যাডোস অব ইল্যুশন

রাজধানীর নিঝুম আবাসিক এলাকার তিনতলা ফ্ল্যাটের শোবার ঘরটি তখন ক্রাইম সিন টেপে ঘেরা। ধুলো জমে থাকা এয়ার কন্ডিশনারের শব্দের মাঝে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে রক্তের হালকা সোঁদা গন্ধ।
পিবিআই ইনভেস্টিগেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে
একসময় কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে মানুষকে ভাবতে হতো। বই খুলতে হতো, লাইব্রেরিতে যেতে হতো, কারও সঙ্গে আলোচনা করতে হতো, ভুল... ...বাকিটুকু পড়ুন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্বাবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ৪

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।
একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/3039397|১ম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।