জাট সরকারের পৌনে 5 বছরের শাসনামলে মন্ত্রী-এমপিদের কাছে সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস ইসু্য হয়ে দাঁড়িয়েছে টিভি চ্যানেলের মালিক হওয়া। ইতিমধ্যেই মন্ত্রী ও এমপিরা প্রায় ডজনখানেক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল চালুর চূড়ানত্দ অনুমোদন পেয়েছেন। এর মধ্যে এনটিভি, আরটিভি, বাংলাভিশন ও চ্যানেল ওয়ানের নিয়মিত সমপ্রচার চলছে। টেস্ট ট্রান্সমিশন শেষ করে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুর" করতে যাচ্ছে বৈশাখী ও ফাল্গুন। টেস্ট ট্রান্সমিশন চালুর অপেক্ষায় আছে ইসলামী টিভি, এসএন টিভি, দেশ টিভি, দিগনত্দ, হরিজন্টাল ও কেটিভি। গত রোববার সংসদে তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম প্রশ্নোত্তর পর্বকালে জানিয়েছেন, 1998 সাল থেকে এ পর্যনত্দ বেসরকারি খাতে 10 টি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে আরো 70 টি আবেদন। ক্ষমতার অনত্দিম লগ্নে তাই আরো চ্যানেল চূড়ানত্দ অনুমোদন পেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সমপ্রচার শুর" করা এনটিভি ও আরটিভির প্রধান কর্ণধার মোসাদ্দেক আলী ফালু। এর মধ্যে এনটিভি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ফালুর তত্ত্বাবধানে একটি সম্পূর্ণ ক্রীড়া চ্যানেল চালুর প্রক্রিয়াও শুর" হয়েছে এমন আলোচনা চলছে সর্বত্র। চ্যানেল বাণিজ্যের এই দৌড়ে যারা নাম লিখিয়েছেন তাদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভুঁইয়া থেকে শুর" করে শনির আখড়ায় জনগণের রোষানলে পড়ে দৌড় খাওয়া এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদও রয়েছেন। বার্ষিক মাত্র 200 কোটি টাকার বিজ্ঞাপনকে পুঁজি করে মিডিয়া মোঘল হওয়ার জন্য প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়েও চ্যানেলের গর্বিত মালিক হওয়ার তালিকায় আরো যারা নাম লিখিয়েছেন তাদের মধ্যে ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস, যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদা, প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অনুজ সাঈদ ইস্কান্দার এমপি, হাওয়া ভবন ঘনিষ্ঠ তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, সাংসদ নাসিরউদ্দিন পিন্টু, জামাত নেতা কামার"জ্জামান অন্যতম। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবল ও যথাযথ প্রস'তি ছাড়াই এসব চ্যানেল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই সমপ্রচার শুর" করবে বলে জানা গেছে।
এতোগুলো চ্যানেলের অনুমোদন প্রাপ্তির পেছনে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনা ও দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিই কাজ করছে এমনটাই মনে করেন মিডিয়া ব্যক্তিরা। কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হীন উদ্দেশ্যেই এসব চ্যানেল নির্বাচনের সময় জোট সরকারের মতাদর্শ প্রচারণা ও বিভ্রানত্দি সৃষ্টির অপপ্রয়াসে ব্যবহৃত হতে পারে এমন আশঙ্কাও করছেন অনেকে।
যাই হোক বছরে যে 200 কোটি টাকার বিজ্ঞাপন বাণিজ্য রয়েছে তার সিংহভাগই চলে যায় বিটিভির পকেটে। সীমিত এ বিজ্ঞাপন বাণিজ্যের কারণে বর্তমানে চালু থাকা চ্যানেলগুলোর অসত্দিত্ব নিয়ে টিকে থাকাই যেখানে দায় সেখানে একের পর এক চ্যানেল বাজারে আসার সিদ্ধানত্দ আত্মঘাতী ও হঠকারী। এসব চ্যানেলের জন্য যতো শিল্পী, কলা-কুশলী ও কারিগরি সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন তাও দেশে নেই। তাছাড়া সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সদ্য চালু হওয়া এসব চ্যানেলের ভাগ্য যে একুশে টিভির মতো হবে না তারও নিশ্চয়তা নেই। অবশ্যই চালু হওয়ার পর থেকে এসব চ্যানেলের মালিকানা দ্বন্দ্ব ছাড়াও প্রায় প্রতিটি বিভাগে যে অস্থিরতা, অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতা বিরাজ করছে তাতে অচিরেই দুএকটি চ্যানেল কর্তৃপক্ষের নিজ থেকেই সমপ্রচার বন্ধ করে দেওয়া অস্বাভাবিক হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




