গ্রামে ফিরে চলো নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে উঠছে ব্রিটিশরা। শহুরে জীবনের ব্যস্ততা আর বিষণ্নতাকে পাশ কাটিয়ে গ্রামে ফিরছে তারা। বিশ্বব্যাপী নগরায়নের প্রবণতা যেভাবে উত্তরোত্তর বাড়ছে সেখানে ব্রিটিশরা খুঁজছে শান্তির গ্রামকে। গত বছরের পরিসংখ্যান অন্তত তাই বলে। এ সময়ে প্রায় পাঁচ লাখ ব্রিটিশ নগর জীবনকে গুডবাই জানিয়েছে। শুধু তাই নয় শহরের পেশাকে পর্যন্ত তারা জলাঞ্জলি দিয়েছে। আর অনেকেই বেছে নিয়েছে আদি পেশা কৃষিকাজ। তাদের অনেকেই নতুন এ জীবনে পূর্বের চেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।
নগর আপনাকে বিষণ্ন করার জন্য শত আয়োজন সম্পন্ন করে রেখেছে। উড়োজাহাজ, মোবাইল ফোন, দ্য ডা ভিঞ্চি কোড, আরো কতো কি। সব মিলিয়ে একটি জঞ্জালের বোঝা আপনাকে ভারাক্রান্ত করার জন্য সদা প্রস'ত। বলছিলেন 2005 সালে লন্ডন ছেড়ে গ্রামে বসবাসকারী জনাথন আম্ব্রোভিজ। তিনি আরো বলেন, এখন প্রতিটি দিন কাটে আমার প্রকৃতির সানি্নধ্যে কাটে। নতুন জীবনে আমি সুখী। জনাথনের কথাকে প্রমাণ করেছে দেশটির কর্মবুরোও। গত বছর দেশটিতে প্রায় এক কোটি ত্রিশ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে কর্মীদের বিষণ্নতার কারণে। গত বছর ব্রিটেনের প্রায় 14 লাখ মানুষ কর্মব্যস্ত জীবনের ওপর বিরক্ত হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছেন বলেও জানা গেছে। তবে সাধারণ ব্রিটিশদের গ্রামে ফিরে যাওয়াকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। গ্রামে যারা ফিরে গেছেন তাদের জন্য ন্যাশনাল উইক অব ডাউন শিফটিং পালন করছে কতর্ৃপক্ষ। তাদের এবারের স্লোগান ছিল একটি প্রশান্তিময় জীবনে স্বাগতম।
42 বছর বয়সী নাতালি হাল বলছিলেন, এখানে আমি কাজ করতে বাধ্য নই। ইচ্ছে হলে করি না হলে করি না। কিন' যখন লন্ডনের ব্যস্ততার মধ্যে ছিলাম তখন আমাকে ক্রিসমাসেও কাজ করতে হয়েছে। মোদ্দাকথা একটি জীবন্ত যন্ত্রে পরিণত হয়েছিলাম আমি। তার ওয়েস্ট কাউন্টির বাস ভবনটিতে তিনে এখন শতভাগ স্বাধীন একজন মানুষ। একই রকম স্বাধীনতা ভোগ করছেন ল্যান্ডস্কেপ গার্ডেনার জুলিয়ান ইয়েটস। তিনি তার নিজের খামারে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমের চেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তিনি স্পষ্টই বলেন, শহরে কাজের মধ্যে কোনো প্রশান্তি নেই। আর আমি এখন নিজেই আমার বস। পাব কিংবা বারের রাতের জীবন অনুভব করেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বিবিসিকে বলেন, আমি আমার প্রয়োজনের সবই এখানে পাই। তাছাড়া আমি ভালো থাকার জন্য এতোটুকু ত্যাগ করতে পারি। কেননা আমি মনে করি শহরে আমি একটি ভালো গাড়ি হাকাতে পারি সেটা হয়তো আমাকে ক্ষণিকের জন্য প্রশান্তি দেবে। কিন' রাস্তায় গাড়িটিতে কেউ দাগ দিয়ে দিলে আমার কষ্টের আর অন্ত থাকবে না। বর্তমান সাধারণ জীবনেই তিনি সুখী বলে বিবিসি প্রতিবেদককে বলেন। সূত্র: বিবিসি
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




