প্রশ্নঃ
"ইসলামী বিপ্লবের পথ"- বইয়ের আলোকে ইসলামী বিপ্লবের সঠিক কর্মনীতি সম্পর্কে লিখুন।
উত্তরঃ
ইসলামী বিপ্লবের জন্য সমাজ জীবনের আমূল পরিবর্তন এবং সম্পূর্ণ ভাবে পরিগঠন করার সঠিক কর্মনীতি হচ্ছে ঃ
(ক) আল্লাহর সার্বভৌমত্ব মেনে নেবার আহবান ঃ
হযরত মুহাম্মদ (সঃ) তৎকালীন সমাজের অজ্ঞতা, নৈতিক অধ:পতন, দরিদ্র ও দীনতা এবং ব্যাভিচার ও পারস্পারিক কলহ বিবাদ, সামজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য সবকিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে আল্লাহর একত্ব সার্বভৌমত্ব মেনে নেবার আহবান জানান। কারণ এটাই হচ্ছে সংশোধনের মূল ভিত্তি। এই ভিত্তির উপরই ব্যক্তিগত চরিত্র ও সমাজ ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অট্টালিকা সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে উঠছে। হযরত আদম (আঃ) থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত সৃষ্টি হবে তার সবই একমাত্র এই বুনিয়াদী পন্থায় সমাধান হওয়া সম্ভব।
(খ) অগি্ন পরীক্ষায় নিখাদ প্রমাণিত হওয়া ঃ
আল্লাহর সার্বভৌমত্ব মেনে নেয়া ও ঘোষনা দেয়ার সাথে সাথে কুফর মিল্লাতে ওয়াহিদা এই নীতি কথাটির বাস্তব রূপ লাভ করে অর্থ্যাৎ জমিদার মহাজন অবৈধ উপার্জনকারী গোষ্ঠী ও জাতি পূজারীরা নিজস্ব স্বার্থ ভংগের ভয়ে এক হয়ে এর বিরোধিতা শুরু করে। ফলে ঈমানদারদেরকে এক কঠিন অগি্ন পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদেরকে উত্তীর্ণ করতে হয়।
উপকারিতা:
# ভীরু কাপুরুষ, হীন চরিত্র ও দূর্বল সংকল্পের লোকেরা নয় বরং সমাজের মনিমুক্তা গুলোই এসে এ আন্দোলনে শরীক হয়।
# ইসলামী আন্দোলনের উপযোগী মন মানসিকতাও খাঁটি ইসলামী চরিত্র সৃষ্টি হতে থাকে। আল্লার ইবাদতে সৃষ্টি ও বৃদ্ধি হতে থাকে পরম আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা।
(গ) নেতা ছিলেন আদর্শের মডেল ঃ
রাসূলে করীম (সঃ) এর জীবনকে আদর্শ হিসেবে মেনে নিয়ে ব্যক্তিগত জীবনের মাধ্যমে আন্দোলনের যাবতীয় মূলনীতি এবং উদ্দেশ্য সমূহ সুস্পষ্টভাবে মানব সমাজের সামনে তুলে ধরতে হবে। প্রতিটি কথা প্রতিটি কাজ এবং চাল চলন ও গতিবিধির মধ্যে ফুটে উঠবে ইসলামের প্রাণসত্তা। এই কাজে সকল লোভ লালসা অর্থ-সম্পদ ও নারীর মমতা ত্যাগ করতে হবে। নিজ দেশ জাতি গোষ্ঠী ও বংশের কারও স্বার্থেই কোন পরওয়া করা যাবে না। মানুষের অধিকার ও আমানতদারীতার ব্যাপারে হতে হবে আপোষহীন।
(ঘ) আদর্শের কার্যকর স্বাভাবিক বিপ্লব ঃ
এই বিশেষ কর্মনীতি ও কর্মপদ্ধতিতে কাজ করার জন্য শিক্ষা-দীক্ষা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কর্মী বাহিনী তৈরি করতে হবে। একই বৃত্তির উপরই এমন এক নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যা থেকে সৃষ্টি হবে মুসলিম বিজ্ঞানী, দার্শনিক, ঐতিহাসিক, অর্থনীতিবিদ, আইনজ্ঞ, রাজনীতিবিদ মোটকথা জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় এমনসব আইনজ্ঞ গড়ে উঠবে যারা নিজেদের মনমানসিকতা, ধ্যানধারণা, চিন্তা চেতনার দিক হতে হবে পূর্ণ মুসলিম। যারা নিজেদেরকে খোদাদ্রোহী চিন্তা নায়কদের মোকাবেলায় নিজেদের ওহঃবষবপঃঁধষ খবধফবৎংযরঢ় কে বিজয়ী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করার যোগ্যতা রাখবে। এই চিন্তা ও বুদ্ধি বৃত্তিক প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে ইসলামী আন্দোলনকে সমাজের বুকে ছড়িয়ে থাকার ভ্রান্ত ব্যবস্থার ভিত্তিতে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। এভাবে প্রতিটি কথা ও কাজ দ্বারা নিষ্কলুস, নি:স্বার্থ, সত্যবাদী, পূতচরিত্র, ত্যাগী, নীতিবান ও খোদাভীরু, মানবতার কল্যাণকামী প্রমাণ করতে পারলেই জনগণের চিন্তা চেতনাই সৃষ্টি হবে এক প্রচন্ড বিপ্লব। সমাজ জীবনেও উত্থিত হবে সেই বিশেষ রাষ্ট্র ব্যবস্থার তীব্র দাবী। পরিবর্তিত মানসিকতার সমাজে অপর কোন রাষ্ট্র ব্যবস্থার চালু থাকার পথ হয়ে যাবে রুদ্ধ। এভাবেই প্রবল সামাজিক দাবীর মুখেই ইসলামী বিপ্লব কায়েম হবে। বাস্তব ময়দানে কর্মীদের হাতে থাকে যথার্থ প্রশিক্ষণ এবং সত্য আন্দোলনকে জানার জন্য মানুষের মনে সৃষ্টি হবে ব্যকুলতা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




