আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেসরকারি ইলেক্ট্রনিক চ্যানেলগুলোয় আগামী মাস থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা আছে। যেসব টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকানায় সরকারদলীয় সাংসদ বা সমর্থক রয়েছে সেসব চ্যানেলেই পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ানো ও তাদের দুর্নীতির খবরাখবরকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য এ পরিবর্তন আনা হবে বলে একটি সূত্র জানায়। সূত্রটি আরো জানায়, দর্শকরা যাতে সহজে বুঝতে না পারে এজন্য সরকারদলীয় সমর্থকদের চ্যানেলগুলো পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন আনবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য বর্তমান সরকার টেলিভিশন চ্যানেলকে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। এজন্যই তথ্য মন্ত্রণালয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চালু করার জন্য অনেক আবেদনপত্র জমা পড়লেও সরকার কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দলীয় সাংসদ ও সমর্থকদের নামে-বেনামে টিভি চ্যানেল খোলার অনুমতি দিয়েছে। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার আগেই বর্তমান সরকারের সমর্থকদের আরো কয়েকটি টিভি চ্যানেল খোলার অনুমতি দেয়া হবে বলে সূত্রটি দাবি করে।
অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, সরকারের বিরুদ্ধে যেন নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করা না হয় এজন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বেশ কয়েকটি বেসরকারি চ্যানেল কতর্ৃপক্ষকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফিং করা হয়। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এরকম কোনো সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্যও ওই ব্রিফিংয়ে চ্যানেলগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়। ব্রিফিংয়ে আরো বলা হয়, দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে, প্রবৃদ্ধির হার সন্তোষজনক প্রভৃতি সংবাদকে যেন গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়। একটি চ্যানেলের বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন সরকারের বিপরীতে যাওয়ায় ওই চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে ব্রিফিংয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়। উল্লেখ্য, বেসরকারি চ্যানেলগুলোর মধ্যে ওই চ্যানেলটির সংবাদ ও গ্রহণযোগ্যতা দর্শকদের মধ্যে বেশ ভালো।
একটি সূত্র জানায়, সরকারের তরফ থেকে ব্রিফিংয়ের পর গত মাসের শেষ সপ্তাহে বেশ কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশনের বার্তা বিভাগকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে এ চ্যানেলগুলো সরকারের সমর্থনে উন্নয়নধর্মী অনুষ্ঠান তৈরি ও গবেষণা কার্যক্রম চালাচ্ছে। আগামী সংসদ নির্বাচনের সময় যতো ঘনিয়ে আসবে চ্যানেলগুলো সরকারের পক্ষে ততো বেশি প্রচারণা চালাবে।
এদিকে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রথম থেকেই বেশকিছু বেসরকারি চ্যানেলের সাংবাদিকদের তাদের প্রেস কনফারেন্স বা সুধা সদনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য অনুমতি দিচ্ছে না। অনেকে আমন্ত্রণ না পেয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য গেলেও তাদের ঢুকতে দেয়া হয় না। গত 5 জুলাই যুবলীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক ফজলুল হক আতিক স্বাক্ষরিত এক প্রেস রিলিজে জানানো হয় এনটিভি, আরটিভি, চ্যানেল ওয়ান, বাংলাভিশন ও বৈশাখী_ এ 5টি টিভি চ্যানেলকে যুবলীগের সভা-সমাবেশ ও সংবাদ সংগ্রহ করতে দেয়া হবে না। প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়, গণবিরোধী এ চ্যানেলগুলো বর্জনের সিদ্ধান্ত কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় গৃহীত হয়।
এছাড়া 5 জুন সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে 14 দলের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শেখ হাসিনার নির্দেশ বলে ওই বৈঠকে এ 5 চ্যানেলের সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যানকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঢুকতে দেয়া হয়নি। ভেতরে ঢোকার অনুমতি না পেয়ে 5 চ্যানেলের সাংবাদিকরা বাইরে অপেক্ষা করতে থাকে কিন' তাদেরকে সেখান থেকেও চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের একদল কর্মী ধর ধর আওয়াজ তুলে এ সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। এমতাবস্থায় 5 চ্যানেলের সাংবাদিকরা ঠিকমতো সংবাদ সংগ্রহ না করেই ফিরে যান।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল এমপি বলেন, এ চ্যানেলগুলো আাগামী সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে। নির্বাচনের সময় এরা বস'নিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করবে কিনা এ বিষয়েও সংশয় আছে।
বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিয়ে আওয়ামী লীগ আশংকা করছে যে, নির্বাচনে এ চ্যানেলগুলো বস'নিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করবে না এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন দল যদি আগামী নির্বাচনে মিডিয়াকে ব্যবহার করে তাহলে জাতি ভয়াবহ তথ্য সংকটের মুখোমুখি হবে। আর অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা ঘটলে জনগণের তথ্য জানার অধিকারকে হরণ করা হবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




