দৈনিক পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত সাহিত্যের মান খুব একটা ভালো নয়। আজ 11 জুলাই। বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক আল মাহমুদের 71তম জন্মদিন উপলক্ষে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দৈনিক পত্রিকাগুলোর সাহিত্য পাতা প্রসঙ্গে তিনি একথা বলেন।
কবি আল মাহমুদ আরো বলেন, আমাদের দৈনিক পত্রিকাগুলো যে সাহিত্য ছাপে তার মান খুব একটা ভালো নয়। এগুলো পড়ে সাহিত্য পাঠের পূর্ণাঙ্গ স্বাদ পাওয়া যায় না। তবে দৈনিক সমকাল 'কালের খেয়া' নামে যে সাহিত্য ম্যাগাজিন প্রকাশ করে, তাতে আমি কিছুটা হলেও সাহিত্যের আভাস পাই_ যদিও তা' পূর্ণাঙ্গ নয়। আমাদের দেশে হাতেগোনা দুয়েকটি সাহিত্য পত্রিকা রয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ কারণে দৈনিক পত্রিকাগুলো সাহিত্য পাতা বের করে। তাদের বিজ্ঞাপনের চাপ বাড়লে হয়তো পত্রিকাগুলো সাহিত্য চর্চা ছেড়ে দেবে। তরুণ প্রজন্ম সাহিত্য চর্চার সামান্য সুযোগটুকুও হারাবে। তাই সাহিত্য চচ্র্চার জন্য সাহিত্য পত্রিকার প্রয়োজন রয়েছে। তবে অনেক সময় অনেক পত্রিকা তরুণদের ভালো কবিতা ছাপে যা আমার কাছে ভালো লাগে।
দৈনিকগুলোতে সাহিত্য পাতার প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে জানান, আমাদের দেশে এ সাহিত্য পত্রিকা না থাকায় দৈনিক পত্রিকায় সাহিত্য চর্চা শুরু করেছে। তবে দৈনিক পত্রিকায় এর প্রয়োজন খুব একটা বেশি নয়। তবে প্রয়োজন সাহিত্য বিকাশে সাহিত্য পত্রিকা।
সংবাদপত্র মূলত সংবাদের জন্য পাঠ করা সাহিত্য এখানে উপেক্ষিতই বলা চলে। আমাদের দেশে সাহিত্যের ক্ষেত্রেও রাজনীতি জড়িয়ে পড়েছে। নিরপেক্ষভাবে সাহিত্য প্রকাশ করতে পারছে না পত্রিকাগুলো। তবে সাহিত্যকে যদি নিরপেক্ষভাবে প্রকাশ করা সম্ভব হয় তাহলে দেশের তরুণ প্রজন্মের সাহিত্যপিপাসুরা উপকৃত হবে বলে তিনি মনে করেন।
1936 সালের এ দিনে এক বর্ষাঘন রাতে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া শহরের মৌড়াইলে জন্মগ্রহণ করেন আল মাহমুদ। শৈশব থেকেই কবিতা লেখা শুরু করলেও নবম শ্রেণীতে পড়া অবস্থাতেই ভাষা আন্দোলনের ওপর কবিতা লিখে তৎকালীন পুলিশের নজরদারিতে পড়ে ঘর ছাড়েন তিনি। এরপর থেকেই তিনি ঘরছাড়া। পথে পথে ঘুরে লিখেছেন কালজয়ী কবিতা। যুদ্ধ করেছেন দারিদ্র্য ও অশিক্ষার বিরুদ্ধে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সার্টিফিকেট না থাকলেও তিনি এখনো লিখে যাচ্ছেন সমাজের বিভিন্ন অসংগতি, মনের সকল আকুতি ও সাফল্য প্রকাশ পাচ্ছে কবিতার মাধ্যমে।
সৌজন্যে: আমাদের সময়
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




