somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গরমে সাবধান!!!

৩০ শে এপ্রিল, ২০০৬ ভোর ৬:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রচণ্ড কড়া রোদ পড়লেও বৃষ্টিটা তেমন হচ্ছে না। আবার ভ্যাপসা গরমও কাটছে না। নিশ্চয় এই পরিস্থিতিতে আপনার বাচ্চা ঠিকমত খেতেও চাইছে না। ভাবছেন কি করবেন?
শুধু বাচ্চা কেন? এই আবহাওয়ায় ছোট-বড়ো সবারই খাওয়ার ইচ্ছে একটু কমই হবার কথা। আর এই কম খাবার ইচ্ছাটা হচ্ছে অতিরিক্ত পিপাসায় বেশি পরিমানে পানি বা ঠান্ডা পানীয় খাওয়া।
যা আমরা বরাবরই করে থাকি বা করছি। চিনত্দার কিছু নেই জোর করে খাওয়ানোরও দরকার নেই। পানি, ওরস্যালাইন, লবণ-চিনির শরবত, অল্প ফলের তৈরি জুস, হাল্কা খাবার চাহিদা অনুযায়ী বাচ্চাকে খাওয়াতে থাকুন। তবে খেয়াল রাখবেন খাবার যেন পুষ্টিকর এবং টাটকা হয়। খোলা পানি, ফুটপাতের খোলা খাবার, অনেক সময় ধরে কেটে রাখা ফল অথবা সালাদ না খাওয়াই ভালো। তাহলেই বাচ্চা ভালো থাকবে।
সাধারণ পেটের গোলমাল থেকেই জন্ডিস, কলেরা, অতিরিক্ত বমি, টাইফয়েড হয়। আর এ সব কিছুর মুলেই হচ্ছে দূষিত পানি এবং বাইরের খোলা খাবার। সে জন্য সবসময় বাচ্চাদের পানি ফুটিয়ে খাওয়ানো উচিত। সেই সাথে বাচ্চাকে বাসার তৈরি খাবারও দেয়া উচিত। আর এ ব্যাপারেও যতটা সম্ভব প্রত্যেক বাবা-মাকেই খেয়াল রাখতে হবে।
স্কুলে, ছাদে, খেলার মাঠে কিংবা বেড়াতে বের"লে চাহিদা অনুযায়ি পানি এবং টিফিনে বাচ্চাদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার দিয়ে দেন তাহলে উপরিউক্ত রোগগুলো না হবার সম্ভাবনাই বেশি। অনেক সময় অনেকগুলো বাচ্চা একসঙ্গে থাকলে তারা একে অন্যের সঙ্গে আনা খাবার ভাগাভাগি করে খায় তাই আপনার বাচ্চার সঙ্গে থাকা খাবারের পরিমাণটাও যেন সেই পরিমানেই হয় যাতে করে তারা একে অন্যের সাথে শেয়ার করে খেতে পারে। অনেক সময় অনেক বাবা-মাই বাচ্চাকে ঠান্ডা পানীয় কিনে খাওয়ান এটা ঠিক নয়, এক্ষেত্রে ফলের রস দিয়ে তৈরি পানীয় হলে অসুবিধা নেই কিন' অন্য পানীয় যেমন কোলা জাতীয় হলে বাচ্চার খিদে আরো কমে যাবে। অনেক বাবা-মাই তাদের বাচ্চাদের সকালে স্কুলে যাবার আগে সামান্য কিছু খাইয়ে তাড়াহুড়ো করে বাসার সামনের কোন দোকান থেকে বিস্কুট, কেক, পরোটা-ভাজি, হালুয়া, ফাস্টফুডের খাবার এমনকি চকোলেট, চানাচুরও দিয়ে দেন এটা মোটেই ঠিক নয়। খেয়াল রাখবেন স্কুলে থেকে ফিরে বা খেলাধুলো করে আসার পর ভাল করে শুকনো তোয়ালে দিয়ে মুছে, 10-15 মিনিট পাখার নিচে বসতে হবে। তারপর এক গ্লাস লেবুর সরবত, টেস্টি স্যালাইন, ফলের রস কিংবা ডাবের জল খাওয়ানোর পর একটু বিশাম নিতে দিন।
তারপর হাত-মুখ ধুয়ে অথবা গোসল করে ঠান্ডা হয়ে বসার পর বাচ্চারা যে ধরনের খাবার খেতে অভ্যসত্দ তা খেতে দিন। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন খাবারটা যেন টাটকা হয়। বেশি তেল-মসলা দিয়ে তৈরি অথবা তেলে ভাজা দোকানের পুরি, সিঙ্গারা, চপ, পিঁয়াজো, ঘুমনি ইত্যাদি খাওয়ালে হজমে অসুবিধা হবে। অনেক সময় বাচ্চাদের খিদে কমে গেলে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। খাবারের মেনু্য বা র"টিনটা এরকমও হতে পারে। সকালে র"টি-তরকারি, ডিম, দই-চিড়া, ঘি-ভাত অথবা খিচুড়ীর সঙ্গে যে কোন একটা ফল দিতে পারেন। দুপুর এবং রাতে অবশ্যই ঘরের তৈরি ভাত, সবজি, মাছ, মাংস, ডাল এবং খাবার শেষে যেকোনো এক বেলায় টক দই দিতে পারেন। রোগা বাচ্চাদের বেশি পরিমানে সালাদ খেতে না দেয়াই ভালো। এই আবহাওয়ায় বাচ্চাদের বাইরে বেরুতে না দেওয়াই ভালো। এমনি খেলাধুলোয় নয়। অনেকেই আছেন দুপুর রোদে বেড়াতে বিশেষ করে মার্কেটে কেনাকাটা করতে বাচ্চাদের সঙ্গে নেন। এটা মোটেও ঠিক নয়। আর কোনো কারণে যদি বেরুতেই হয় তাহলে ছাতা বা টুপি অবশ্যই ব্যবহার করুন এবং হাল্কা সুতির পোশাক পড়-ন। ফুলহাতা জামা, ফুলপ্যান্ট বা ভারী জিনস পরবেন না। সঙ্গে খাবার স্যালাইন এবং পানি দিয়ে বা নিয়ে নেবেন। বেশি সময় বাইরে অবস্থান করলে মাঝে মধ্যে মুখ-হাত ধোয়ার কথাটা মাথায় রাখবেন। সবদিন তো আর বৃষ্টি থাকে না, চড়া রোদও পড়ে। কড়া রোদে বেশি থাকলে হঠাৎ অনেক জ্বর উঠে যেতে পারে। সেসময় প্রচুর পরিমাণে ঘাম, মাথা ঘুরা, জ্ঞান হারিয়ে ফেলা ইত্যাদিও হতে পারে। প্রচণ্ড রোদে ঘাম ঝড়ে গা ভিজে গেলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা থাকে। তাই গামছা বা তোয়ালে দিয়ে হাত-পা, গা, মুখ মুছে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পাশাপাশি সরবত খেলে ক্লানত্দিতো দুর হবেই কোনো দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাও কম থাকবে। খেয়াল রাখবেন, হাসপাতালে যাবার মতো পরিস্থিতি যেন না হয়। মনে রাখবেন ভিজে তোয়ালে দিয়ে বারবার মুছলে ছত্রাক সংক্রামণের সম্ভাবনা থাকে এ ধারণা ভুল। তবে ভ্যাপসা গরমে বের"লে ভেঝা তোয়ালে বা ঝারন শরীরের তাপমাত্রা সাময়িকভাবে হলেও কিছুটা কমায় বলে আপনি এবং আপনার বাচ্চা আরাম পাবেন। হাসপাতালে যাবার পরিস্থিত কখন হবে? ক্লানত্দি, মাথা ঘোরা, হাত-পা-গা প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব, খিচুনীশুরু হলে প্রথমে নিজেকে বা বাচ্চাকে তাড়াতাড়ি রোদ থেকে সরিয়ে ঠান্ডা স্থানে রাখুন পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে গোসল করান। তারপর লবন-চিনির মিশ্রিত শরবত বা ওরস্যালাইন খাওয়ান। এ অবস্থায় শরবত বারবার খাওয়াবেন। একাধিকবার গোসলও করানো যেতে পারে। জ্বর এসে পড়লে শরীরের তাপমাত্রা কমাতে বরফ পানিতে গোসলসহ মাথায় বরফ সেক এবং শরীরে ভিজে কাপড় জড়িয়ে ফুলস্পীডে ফ্যান ছেড়ে দিতে হবে। সেই সাথে জ্বর কমানোর ওষুধ খাওয়াতে হবে। লক্ষ্য রাখবেন বাচ্চার বমি শুরু হলে বা অজ্ঞান হয়ে গেলে একটুও দেরী না করে হাসপাতালে নিতে হবে। সবসময় ডাক্তারদের পরামর্শ নিন সুস্থ ও সুন্দর থাকুন।

সৌজন্যেঃ- ভোরের কাগজ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×