শুধুমাত্র ধর্মীয় কারণে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুসলমানদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে। লন্ডনে 7/7 বোমা হামলার ঘটনার পর মুসলমানদের ওপর নির্যাতন ও হামলার ঘটনা ঘটছে। মুসলমানদের দেখলে ব্রিটিশরা কটূক্তি করছে বিশেষ করে মুসলিম নারী যারা হিজাব পরেন তাদেরকে অহরহই এসব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একটি বহুবর্ণ ও ধর্মের রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ব্রিটেনের মানুষদের মধ্য এখন ইসলামোফোবিয়া অর্থাৎ ইসলামভীতি কাজ করছে। ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং পশ্চিমা মিডিয়ার অপপ্রচারের জন্যই দিন দিন এই ইসলামোফোবিয়া বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের সমাজ ব্যবস্থায় এর বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হওয়ায় সে দেশের সরকার এই ধর্মীয় বৈষম্য ও নির্যাতন বন্ধে নতুন আইন প্রণয়নের কথা ভাবছেন। সকল ধর্ম ও মতের মানুষেরা যাতে সকল সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা সমানভাবে ভোগ করতে পারে এবং অযথা অন্য ধর্মাবলম্বীদের সম্পর্কে বিরূপ ধারণা দূর করতে ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন সমপ্রদায়ের মধ্য একটি সংলাপের ব্যবস্থা করছে। 2001 সালের আদম শুমারি অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে 16 লাখ মুসলমান বাস করছে। বর্তমানে এই সংখ্যা 18 লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ব্রিটেনে সংখ্যাগুরু খ্রিস্টান সমপ্রদায়ের (শতকরা 71 দশমিক 8 শতাংশ) পরই আছে মুসলিম সমপ্রদায় (মোট জনসংখ্যার 2 দশমিক 8 শতাংশ)। মুসলমানরা চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। চাকরির আবেদনে যদিও কোনো বাধা নেই কিন্তু চাকরিতে নিয়োগের বেলায় অমুসলিমদেরই বেশি প্রধান্য দেওয়া হয়। কিন্তু এই বৈষম্যের কোনো প্রমাণ নেই।
কর্তৃপক্ষের ভাষায় যোগ্যতার মাপকাঠি উতরেই সবাই চাকরি পাচ্ছে। তবে একথাও ঠিক কিছু মুসলিম নাগরিক তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার বলে ভালো চাকরি পাচ্ছে।
তবে এদের সংখ্যা খুবই কম। ব্রিটিশরা মুখে মুখে বহু সংস্কৃতি আর কৃষ্টির ধারক ও বাহক হিসেবে নিজেদের দাবি করলেও তাদের মধ্য রয়েছে ভিন্ন ধর্মের প্রতি অশ্রদ্ধাবোধ- বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের প্রতি। হিজাব পরা মেয়েদের রাস্তাঘাটে নানারকম কটু কথা শুনতে হয়।
শুধু তাই নয়, চাকরির ক্ষেত্রেও মুসলমান মেয়েরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। হিজাব পরা অনেক মেয়েকে ব্রিটেনে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে চাকরিচু্যত করা হয়েছে। সামপ্রদায়িক-সহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে এ্যাংগেজিং উইথ দি ইসলামিক ওয়ার্ল্ড গ্রুপ (ইআইডবি্লউজি) নামে ওয়ার্কিং টিম গঠন করেছে ব্রিটিশ সরকার। এর মাধ্যমে মুসলিম দেশ ও সমপ্রদায়ের সঙ্গে বোঝাপড়া ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের পথ প্রশসত্দ হবে বলে ধারণা করছে যুক্তরাজ্যের সরকার।
তবে একথাও ঠিক যে, আইন করে এই বৈষম্য দূর করা খুব সহজ হবে না। ধর্ম ও বর্ণ বিভেদ মানব জাতির বহু পুরোনো একটি সমস্যা। আইন করে রাতারাতি তা দূর করা যাবে না। এ জন্য প্রচার মাধ্যমকে ইসলামোফোবিয়া দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে ইসলাম সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রচার করে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
ব্রিটেনে মুসলমানরা বৈষম্যের শিকার



