গ্রেনেড, টাইম বা লেটার বোমার কথা আমরা অনেকেই শুনেছি। কিন' তাদের মধ্যে ঠিক কতোজন শুনেছেন পোস্টার বোমার কথা। অনেকেই হয়তো শোনেনি। টাইম বা লেটার বোমের মতোই জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে এবার এসেছে পোস্টার বোমা। সম্প্রতি ভারতের ঝাড়খন্ড প্রদেশে দেখা দিয়েছে এ পোস্টার বোমার আতঙ্ক।
মাওবাদী অঞ্চল বলে পরিচিত এ এলাকাটিতে গত কিছুদিন ধরে দেখা দিয়েছে পোস্টার বোমার অপপ্রচার। প্রদেশটির অধিকাংশ জায়গাতেই সাটা হয়েছে এরকম পোস্টার। এতে লেখা রয়েছে 'কেউ পোস্টার ছিঁড়বেন না। এতে যুক্ত রয়েছে বোমা। ছিঁড়তে গেলেই মারা পড়তে পারেন আপনি।' ঠিক তাই। কারণ মাটির নীচে পুতে রাখা বোমা থেকে তারের সাহায্যে সংযোগ দেয়া হয়েছে পোস্টারের সঙ্গে। তারটির বের করে ফাঁপা বাঁশের মধ্যে দিয়ে পোস্টারের কাছে নেয়া হয়েছে। পোস্টার ছিঁড়তে গেলেই তারে টান পড়বে। আর তাতেই মাটির নীচে পুতে রাখা বোমা থেকে ডেটনেটর বের হয়ে আসবে। সেই সঙ্গে বোমাটি বিস্ফোরিত হবে।
এ নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছে সেখানকার প্রশাসন ও সাধারণ জনগণ। তাদের আতঙ্ক আরো বেড়েছে যখন গামলা জেলায় এরকম একটি ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, গামলা জেলার কাছাকাছি একটি জংগলের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় পুলিশের একটি দল এরকম একটি পোস্টার ছিঁড়তে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এতে অবশ্য কেউ হতাহত হয়নি।
তবে কারা এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এরকম প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ বলছে, মাওবাদীরাই এর জন্য দায়ী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানায়, নিরাপত্তা বিঘি্নত করার জন্য এটি মাওবাদীদের নতুন একটি ফাঁদ।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরো জানান, এ বিষয়টি পুলিশ প্রধানের কাছে জানানো হয়েছে। তিনি সকল পুলিশ কর্মকর্তা কেউ দূর থেকে রশি বা অন্য কিছুর মাধ্যমে বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য মাওবাদী গেরিলারা ঝাড়খণ্ড প্রদেশের 22 জেলার প্রায় 16 জেলায় সক্রিয় রয়েছে। গত 5 বছরের তাদের হামলায় 550 জন সাধারণ নাগরিক ও 220 জন পুলিশ নিহত হয়েছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়া
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



