দৈনিক 8 ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে 1886 সালের 1 মে শিকাগোতে শ্রমিক আন্দোলনের ফসল হিসেবে পৃথিবীব্যাপী মহান মে দিবস পালিত হয়। কিন' সে ঘটনার 117 বছর পরও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। তারই প্রমাণ 2003 সালের 3 নভেম্বরে নারায়ণগঞ্জের বিসিকের ঘটনাবলী। নারায়ণগঞ্জের বিসিকে কর্মরত লক্ষাধিক শ্রমিক 8 ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। আন্তর্জাতিভাবে স্বীকৃত এই দাবি মানার বদলে মালিকপক্ষ প্রশাসনের সহযোগিতায় 3 নভেম্বর ভোরে বিসিকের প্যানটেক্স গার্মেন্টেসে শ্রমিকদের উপর গুলি চালায়। এতে একজন শ্রমিক নিহত ও প্রায় 2 শতাধিক শ্রমিক আহত হয়। এর প্রতিবাদে 3 নভেম্বর নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিদ্রোহের সূচনা ঘটে। এই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা এডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল। মে দিবসকে সামনে রেখে আমাদের সময়ের প্রতিবেদক মিলটন আনোয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন এ শ্রমিক নেতার। তার সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো_
মিলটন আনোয়ার: শুরুতেই আপনার কাছে জানতে চাইবো 3 নভেম্বর' 03 আসলে কী ঘটেছিল?
মাহবুবুর রহমান ইসমাইল: 8 ঘণ্টা কর্মদিবস, ওভার টাইমের মজুরিসহ 18 দফা দাবিতে ফতুল্লার বিসিকের প্যানটেক্স গার্মেন্টস এর শ্রমিকরা 3 দিন যাবত অবস্থান ধর্মঘট করে আসছিল। 2 নভেম্বর রাতে প্রশাসন বিসিকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে। হঠাৎই সেখানে 3 জন ম্যাজিস্ট্রেট এসে শিপমেন্ট খালাস করতে তৎপর হয়ে উঠে। ম্যজিস্ট্রেটরা শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করে নানা অশ্বাসও দিতে থাকে। অতীতে এধরনের প্রতিশ্রুতি ধোঁকাবাজিতে পরিণত হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শ্রমিকরা আমার উপস্থিতি ছাড়া কোনোপ্রকার বৈঠক করতে রাজি হয়নি। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাত 11 টার দিকে একজন পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে জানান, শ্রমিকরা আমাকেসহ আলোচনায় বসতে চায়। আমি তাদের বলি, আগের দিন বিকেলে ঐ কারখানায় 5 ঘণ্টা মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি কিন' 8 ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিটি মেনে না নেয়ায় কোন সমাধান হয়নি। ঐ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আপনি এখন আসলে পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে। পুলিশের সামনে বসা 3 ম্যাজিস্ট্রেট (এন.ডি.সি) সৈয়দ বেলাল হোসেন, মানজারুল মান্নান.ও প্রকাশ কান্তি তাদের পরিচয় দিয়ে আমার সঙ্গে কথা বললেন। মালিকের সঙ্গে দাবি মানার বিষয়ে চূড়ান্ত ওয়াদা আদায় করার জন্য তারা আমার কাছ থেকে আধঘণ্টা সময় নেন। আধঘণ্টা পর তারা আমাকে জানান, মলিক দাবি মেনে নিয়েছেন। তখন আমি বললাম, একথা শ্রমিকদের জানিয়ে দেন। জবাবে তারা বললেন, আপনি না এলে শ্রমিকরা আমাদের কথা বিশ্বাস করবে না। তারা আমাকে বিসিকে যাওয়ার তাগাদা দিতে থাকেন, প্রয়োজনে আমার জন্য গাড়ি পাঠানোর কথাও বলেন। পরে আমি পার্টি ও গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত নেতা-কর্মীদের বিষয়টি জানিয়ে রিকশা করে বিসিকে রওনা দেই। প্যানটেক্সে'র গেটে গিয়ে দেখি শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকরা 3 দিন 3 রাত ধরে প্যানটেক্স গার্মেন্টস ঘেরাও করেছিল। আমি পেঁৗছে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে আমার যে কথা হয়েছে তা বক্তৃতার মাধ্যমে শ্রমিকদের জানাই। প্যানটেক্সে কেউ ছিলো না। মালিক, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট পাশর্্ববর্তী একটি গার্মেন্টসের 7 তলায় বসে আছেন। নেতাসহ কয়েকজন গার্মেন্টস শ্রমিককে নিয়ে সেখানে যাই। মালিক ও প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় আলোচনার পর চুক্তিনামার কথা জিজ্ঞেস করতেই তারা গড়িমসি শুরু করে। একপর্যায়ে তারা আমাকে বলে শ্রমিকদের চলে যেতে বলতে। আমি জানাই, কথা অনুযায়ী কাজ না হলে আমি কিছু বলতে পারবো না। আমার জবাবে উপস্থিত মালিক- প্রশাসন ও তাদের কয়েকজন মাস্তান উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে পিস্তল দেখিয়ে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। রাত 2 টার দিকে তারা আমাকে জোর করে নিচে নামিয়ে দেয় এবং এন.ডি.সি সৈয়দ বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে মালিক ও পুলিশ কর্মকর্তরা শ্রমিকদের চলে যেতে বলে। কিন' শ্রমিকরা তাতে সাড়া দেয়নি। রাত 3টার দিকে পুলিশ আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। ঘন্টা খানেকের মধ্যে আরো কয়েক ট্রাক পুলিশ বিসিকে প্রবেশ করে। কোনপ্রকার অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও ভোর সোয়া 5টায় আমাকে গ্রেফতার করে একটি মাইক্রোবাসযোগে ফতুল্লা থানায় নিয়ে যায়। পৌনে 6 টার দিকে থানায় ওয়ারলেসের মাধ্যমে বিসিকে গুলির শব্দ শুনতে পাই। এরপর এসপি একের পর এক গুলি করার নির্দেশনা দিতে থাকে। ওয়ারলেসে শ্রমিকদের আর্তচিৎকার শুনতে পাই। এই গুলিবর্ষণেই গার্মেন্টস শ্রমিক আমজাদ হোসেন কামাল নিহত হয়। আহত হয় প্রায় 2 শতাধিক শ্রমিক।
রমজান মাসের পরিবর্তিত ডিউটিসূচির কারণে সকাল 7টার দিকে বিসিকমুখী 50/60 হাজার শ্রমিক প্রথমে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। পরে শ্রমিক হত্যা ও আমাকে গ্রেফতারের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার শ্রমিক শহর দখল করে নেয়। সকাল পৌনে 8টার দিকে প্রায় 30/40 হাজার শ্রমিক পুলিশের সকল ব্যারিকেড ভেঙ্গে আমার মুক্তির দাবিতে ফতুল্লা থানা ঘেরাও করে। এসময় থানায় অবস্থানরত সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমি শ্রমিকদের আদালতে যেতে বললে তারা জানায় 10 মিনিটের মধ্যে তারা আমাকে মুক্ত করে নিয়ে যাবে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে একজন বৃদ্ধ সেন্ট্রি ছাড়া সব পুলিশ পালিয়ে যায়। শ্রমিকরা থানার ভেতর ঢুকে পড়লে সেন্ট্রি "আমাকে বাঁচান" বলে লক-আপের তালা খুলে দেয়। থানা থেকে বেড়িয়ে দেখি হাজার হাজার শ্রমিক দাঁড়িয়ে আছে। আমি খবর নিয়ে জানতে পারি নারায়ণগঞ্জ শহর শ্রমিকরা দখল করে নিয়েছে এবং শহরে প্রশাসন বলতে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। আমিসহ 11 দলের নেতৃত্বে হাজার হাজার শ্রমিক ডিসি অফিস ঘেরাও করি। শ্রমিকদের দাবির মুখে ডিসি ও স্থানীয় এমপি ঘোষণা দেন, শ্রমিক হত্যার বিচার করা হবে। দুইদিন পরে বিকেএমইএ কার্যালয়ে মালিক, প্রশাসন ও শ্রমিকদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়।
মি. আ: কিন' সে চুক্তি তো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি, 3 নভেম্বরের আন্দোলনকে এখন আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
মা.র.ই: এটা সত্য, চুক্তি অনুযায়ী সবগুলো দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। অনেক কারখানাতেই 8 ঘণ্টা কর্মদিবসের নিয়ম মানা হয় না। কিন' কোনো আন্দোলনই বৃথা যায় না। 3 নভেম্বরের ঘটনায় শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে- তাদের মত প্রকাশ এবং সংগঠন করার স্বাধীনতা। ঐ ঘটনার পর শ্রমিকরা খোলামেলাভাবে তাদের মত প্রকাশের মাধ্যমে দরকষাকাষি করতে পারছে এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের সাংগঠনিক তৎপরতার উপর যে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটা অনেকটাই দূর হয়েছে।
মি.আ: আদমজী পাটকল বন্ধের সময় আপনি তো সেখানে ছিলেন। এতবড় একটি কারখানা বন্ধ হলো অথচ শ্রমিকরা তা প্রতিরোধ করলো না কেন?
মা.র.ই: প্রথমেই বলে নেয়া ভালো যে, আদমজী বন্ধের জন্য সরকার যেসব যুক্তি দেখিয়েছিল তা যথার্থ ছিল না। বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়িত করতেই মিলটি বন্ধ করে দেয়া হয়। আদমজী বন্ধের শেষ 7 দিন আমি সেখানে ছিলাম। প্রকৃতপক্ষে সেসময় শ্রমিকদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার জন্য স্কপসহ বামপন্থি নেতাদের সেখানে টেনে নেয়া যায়নি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি চায়নি আদমজী টিকে থাকুক। তাছাড়া দীর্যদিন ধরে বেতনভাতা ও অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে শ্রমিকদের ভেতরে মিল বন্ধের জন্য এক ধরনের সর্মথন তৈরি করা হয়েছিল। দুঃখজনক হলো, বামপন্থি নামধারীদের সুবিধাবাদী অবস্থানের কারণে আদমজীতে কোনো প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে ওঠেনি। আসলে এটা চরম সুবিধাবাদী ট্রেড ইউনিয়নের বহিঃপ্রকাশ।
মি.আ: এবার তাহলে ট্রেড ইউনিয়ন প্রসঙ্গে আসি, প্রায়শই বলা হয় ট্রেড ইউনিয়নের কারণে কারখানাগুলো লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, এটা কতোটা সত্য?
মা.র.ই: ট্রেড ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মালিকপক্ষের যতোরকম অপপ্রচার আছে তার মধ্যে সবচেয়ে জোরালো হলো, ট্রেড ইউনিয়ন থাকলে কারখানা লোকসান করে। ট্রেড ইউনিয়ন করাটা শ্রমিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। বর্তমানে বাংলাদেশে বন্ধ সাড়ে 6 হাজার কারখানার 1 শতাংশেও ট্রেড ইউনিয়ন নেই। এগুলো বন্ধ হলো কেন? গার্মেন্টসে ট্রেড ইউনিয়ন নেই, তারপরও আড়াই হাজার গার্মেন্টস রুগ্ন কেন? অতএব কারখানার লোকসানের সঙ্গে ট্রেড ইউনিয়নের কোনো সম্পর্ক নেই।
মি.আ: আদমজীসহ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প কারখানাগুলো বন্ধের পেছনে ট্রেড ইউনিয়নকে দায়ী করা হয় কেন?
মা.র.ই: এসব কথাবর্তার উদ্দেশ্য হলো- রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোকে ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেয়া। আমি মনে করি সঠিক ট্রেড ইউনিয়ন থাকলে এসব কারখানা বন্ধ হতো না। কিন' এসব কারখানায় ট্রেড ইউনিয়নের নামে একশ্রেণীর সুবিধাবাদী নেতার সঙ্গে ম্যানেজমেন্টের যোগশাজস তৈরি হয়েছে।
মি.আ: বাংলাদেশে কখনো সঠিক ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে উঠেছে কী ?
মা.র.ই: কোনো কোনো সময় সঠিক ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে উঠলেও সেটা ধারাবাহিকভাবে দাঁড়ায়নি। যদিও 52'র ভাষা আন্দোলন, 69'র গণঅভু্যত্থানসহ আমাদের মুক্তি সংগ্রামে শ্রকিমদের একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে। কিন' পরবর্তীতে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের কারণে এটা আদর্শহীন রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। মূলতঃ বামপন্থি রাজনীতির সাংগঠনিক ও মতাদর্শিক দুর্বলতাই এদেশে সঠিক ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে উঠতে দেয়নি।
মি. আ: এক্ষেত্রে স্কপের ভূমিকা কি?
মা.র.ই: স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে স্কপ একটা বড় ভূমিকা পালন করেছে। কিন' এরশাদের পতনের পরপরই স্কপের আন্দোলনে ভাটা পড়তে শুরু করে। এর অন্যতম কারণ স্কপের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলগুলোর শ্রমিক সংগঠনগুলোও ছিল। ফলে 90-এর পর শ্রমিকরা কিছুই পায়নি। এভাবে স্কপ ও স্কপের নেতৃত্ব শ্রমিকদের মধ্যে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।
মি. আ: সম্প্রতি মন্ত্রিসভা নূন্যতম মজুরির একটা হার নির্ধারণের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। গার্মেন্টেসে 930 টাকা যে নূন্যতম মজুরি প্রচলিত আছে সেটা কতটা কার্যকর?
মা.র.ই: দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি যেভাবে সরকারি কর্মচারীদের বেতনভাতা বেড়েছে সে তুলনায় 930 টাকা শ্রমিকদের জন্য কিছুই নয়। গার্মেন্টস শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি হওয়া উচিত 4 হাজার টাকা।
মি. আ: গার্মেন্টস কারখানায় কোনো ট্রেড ইউনিয়ন নেই কেন? এক্ষেত্রে কোনো আইনগত বাধা আছে কী?
মা.র.ই: প্রকৃতপক্ষে মালিকরা অধিক মুনাফার লোভে গার্মেন্টসে ট্রেড ইউনিয়ন করতে দিচ্ছে না। গার্মেন্টেসে ট্রেড ইউনিয়ন করতে কোনোপ্রকার আইনগত বাধা নেই। তাছাড়া ট্রেড ইউনিয়ন করতে না দেয়াটা আইএলও কনভেনশ বিরোধী।
মি.আ: সম্প্রতি গার্মেন্টস কারখানায় যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকদের মধ্য থেকে যে ধরনের প্রতিবাদ আসার কথা ছিল সেটা আসেনি কেন?
মা.র.ই: সামগ্রিক শ্রমিক আন্দোলনের দুর্বলতা এবং প্রগতিশীল রাজনীতির সংকটের কারণেই শ্রমিক আন্দোলন গড়ে উঠছে না। তাছাড়া শ্রমিকদের নিজেদের সংগঠনিক দুর্বলতাও এক্ষেত্রে দায়ী।
মি.আ: এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনকে আপনি কীভাবে দেখেন?
মা.র.ই: বাংলাদেশের বর্তমান শ্রমিক আন্দোলন নেতৃত্ববিহীন। এমনিতেই বাংলাদেশের শ্রমিকরা বর্তমানে এক অসহনীয় অবস্থা অতিক্রম করছে। চাকরির নিরাপত্তা নেই, বেতন নেই, দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊধর্্বগতি এবং অনিরাপদ কর্মস্থল- সবমিলিয়ে অবস্থাটা খুব খারাপ। অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় শ্রমিকরা অনেক বেশি সংকটাপন্ন। তারপরও শ্রমিকদের মধ্যে লড়াই সংগ্রাম কম, একবারে নেই বললেই চলে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, পুঁজিবাদী অবক্ষয়ী রাজনীতি সকল প্রকার শ্রমিক আন্দোলনকে গ্রাস করে ফেলেছে। তবে আমি মনে করি, শ্রমিক আন্দোলনের জন্য অনুকুল পরিবেশ বিরাজ করছে। শুধু সঠিক নেতৃত্ব ও সংগঠনের অভাবে আন্দোলন গড়ে উঠছে না।
মি.আ: সেক্ষেত্রে আমাদের দেশে শ্রমিক আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কি?
মা.র.ই: আমি মনে করি, জাতীয়ভিত্তিক আন্দোলন গড়ে তোলার একটা সম্ভাবনা বিদ্যমান রয়েছে। দরকার কেবল যোগ্য নেতৃত্ব ও সংগঠন। যতোক্ষণ পর্যন্ত শ্রমিকরা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি গড়ে না তুলবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত জাতীয়ভিত্তিক আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তবে আমি আশাবাদী। কেননা শ্রমিকদের বাস্তবতার কারণেই জাতীয় ভিত্তিক একটি আন্দোলন গড়ে উঠবে এবং সে সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে।
মি. আ: আপনাকে ধন্যবাদ।
মা. র.ই: আপনাকেও।
সৌজন্যে ঃ আমাদের সময়
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



