ফাজিলকে ডিগ্রি ও কামিলকে মাস্টার্সের সমমান দেয়া নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করছে। ছাত্রদল বলছে, মানসম্পন্ন কারিকুলামের মাধ্যমে সমমান দেয়া হলে তাদের আপত্তি নেই। ছাত্রলীগ বলছে, সিলেবাস সময়োপযোগী না করে মান দেয়া হলে তা হবে আত্দঘাতী সিদ্ধান্ত। অপরদিকে শিবির এ সিদ্ধান্ত নেয়ায় সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলছে, এর মাধ্যমে শিক্ষার গুনগত মানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ছাত্রদলের সেক্রেটারি শফিউল বারি বাবু আমাদের সময়কে বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা পদ্ধতিকে উন্নত করে মানসম্মত পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে ডিগ্রি-মাস্টার্সের সমমান দিলে ক্ষতির কিছু নেই। মাদ্রাসার শিক্ষা কারিকুলাম পরিবর্তন করে সঠিক মানদণ্ডে নিয়ে যেতে সমস্যা নেই। মাদ্রাসায় পড়ছে বলেই একটা ছেলে মাস্টার্সের মান পাবে না, তা ঠিক নয়। পাবলিক কমিশনের অধীনে বিসিএস একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। মাদ্রাসার ছাত্ররা এ মান উৎরাতে পারলে বিসিএস অফিসার হতে অসুবিধা নেই। আলীয়া মাদ্রাসায় শিবিরের আধিপত্যের প্রশ্নে তিনি বলেন, আলীয়া মাদ্রাসার সবাই শিবির করে তা সঠিক নয়। তাদের সংখ্যা বেশি হতে পারে, কিন' শিবিরের বাইরে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনকেও তারা সমর্থন করে। শিবিরের কেউ মেধাবী হলে বিসিএস দিতে পারবে না, এমন কোনো কথা নেই।
ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, মাদ্রাসার বর্তমান সিলেবাস আধুনিকায়ন, বিজ্ঞানসম্মত ও সময়োপযোগী না করে এখনই এ সিদ্ধান্ত হবে আত্দঘাতী। তিনি বলেন, আগে সিলেবাস-কারিকুলামের আধুনিকায়ন, তারপরই কেবল মান দেয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে। আধুনিকায়ন না করেই মান দিয়ে দিলে তা হবে চারদলীয় জোট তথা জামায়াত-শিবিরের নিজেদের ইচ্ছার প্রতিফলন।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি সামসুল আলম সজ্জন বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমমান দিলে শিক্ষাব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে এবং দেশকে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ঠেলে দেয়া হবে।
শিবিরের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, এটি একটি ভালো পদক্ষেপ। এজন্য সরকারকে অভিনন্দন জানাই। এর মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ইসলাম সব সময়ই আধুনিক। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে কারিকুলাম মিলিয়ে নিলে আর কোন সমস্যা থাকবে না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




