মেঘের পরে মেঘ জমলেই বৃষ্টি নামে না। কি বিশ্বাস হচ্ছে না। এই মস্কোর রেড স্কয়ারের কথাই ধরুন না। সেখানে কখনো বৃষ্টি নামে না। স্বনিয়ন্ত্রিত আবহাওয়া! হ্যাঁ এমন দৃঢ়তা নিয়েই বিবিসিকে বলেন মস্কোর মেয়র। শুধু মস্কোই নয়, একই অবস্থা মার্কিন মুল্লুক থেকে চীন পর্যন্ত। পরিবেশের ওপর এমন নিয়ন্ত্রণ বৈজ্ঞানিকভাবেই সম্ভব। কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের সাত সতেরো নিয়ে বিবিসিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুলিখন তুলে ধরা হলো। কলারাডোর বিস্তৃতি স্কি জোন, ক্যালিফোর্নিয়ার জলবিদু্যৎ কেন্দ্রের পাশর্্ববর্তী অঞ্চলে বরফ জমিয়ে হরহামেশাই কৃত্রিম তুষারপাত ঘটানো হয়। তাছাড়া চীনের মরুময় অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের মাধ্যেমে শস্য উৎপাদনের ঘটনাও অন্তত বিশ বছরের পুরনো। বেশ কয়েকভাবে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো সম্ভব। এর মধ্যে অন্যতম হলো মেঘের কণাতে সিলভার আয়োডাইড স্প্রে করা। এ স্প্রের কারণে পানির কণাগুলো আয়তনে বড় হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ভারী হয়ে পৃথিবীর টানে নিচে নামে। তবে এর আরো বেশকিছু উপায় আছে। যেমন মেঘের স্তরের অনেক উপরে বিমান থেকে পানি স্প্রে করা। এ স্প্রের সঙ্গে দ্রবণীয় মাত্রায় আয়োডাইড মেশালে সেটা বাতাসের আদর্্রতা শুষে নিয়ে তুষার পাত ঘটাতে সাহায্য করে। এ পদ্ধতিতে ক্যালিফোর্নিয়ায় তুষারপাত ঘটানো হয়। তুষারপাত বন্ধ করারও রয়েছে বেশ কিছু অত্যাধুনিক পদ্ধতি। শীত প্রধান দেশের বিমানবন্দর, নৌবন্দরকে অত্যাধিক তুষারপাতের হাত থেকে বাঁচাতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়। নর্থ আমেরিকা ওয়েদার সেন্টারের প্রধান ডন গ্রিফিত বলেন, বৃষ্টিপাতের পূর্বশর্ত হিসেবে মেঘের নিচের স্তরের ড্রাই আইস, লবণ কিংবা আয়োডাইড স্প্রে করা হয়। এছাড় অনেক ক্ষেত্রে মেঘের উপর থেকে বিমানযোগে রাসায়নিক পদাথ ছড়িয়ে দেয়া হয়। তিনি আরো বলেন, এ জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষা করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মেঘ না থাকলে এভাবে বৃষ্টিপাত ঘটানো সম্ভব নয়। এছাড়া কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো নিয়ে গবেষকদের মধ্যে দ্বন্দ্বও রয়েছে। অনেকেই বলেন, বিষয়টি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের কারণে পরিবেশের পরিবর্তন সম্পর্কিত একটি গবেষণার কাজও চলছে। কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের আরেকটি অশোভন দিক হচ্ছে এটি মেঘের স্বাভাবিক গতিপথ বিঘি্নত করে, যা পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রাখতে পারে বলে গবেষকরা আশঙ্কা করছেন। সূত্র: বিবিসি
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০০৬ বিকাল ৪:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




