somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলাম সম্পর্কে কতিপয় মৌলিক প্রশ্নের উত্তর-2

২১ শে মে, ২০০৬ দুপুর ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রশ্নঃ রসূল (স:) এর আন্দোলনের মক্কী স্তরগুলোসহ সুরা তাওবার ভাষণ সমূহ উল্লেখ করুন। উত্তরঃ
রাসূল (সঃ) এর আন্দোলনের মক্কী স্তর সমূহ ঃ রাসুল (সঃ) এর মক্কী জীবনের স্তর সমুহকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায় ঃ
প্রথম পর্যায় ঃ
নবুয়্যত লাভ হতে নবুয়্যতের প্রকাশ প্রচার ও ঘোষনা করা পর্যন্ত প্রায় 3 বছর কাল। এই সময় খুব গোপনে বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির নিকট ইসলামের দাওয়াত পেশ করা হতো।
দ্বিতীয় পর্যায় ঃ
প্রকাশ্যে দাওয়াত - নবুয়্যতের ঘোষনা হতে অত্যাচার নির্যাতন ও উৎপীড়ন শুরু হওয়া পর্যন্ত প্রায় 2 বছর। এই পর্যায়ে প্রথমত বিরুদ্ধতা শুরু হয়, পরে ইহা প্রতিবন্ধকতার রূপ পরিগ্রহ করে, ক্রমান্বয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ, মিথ্যা অপবাদ আরোপ, গালাগালি, ভর্ৎসনা, মিথ্যা প্রচারনাও বিরুদ্ধ দল গঠন পর্যন্ত পর্যবসিত হয়।
তৃতীয় পর্যায় ঃ
তৃতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার ও নির্যাতনকাল-5 বছর। অত্যাচার নিপীড়ন শুরু হওয়ার সময় হতে আবু তালিব ও হযরত খাদিজা (রাঃ) এর ইন্তেকালের সময় পর্যন্ত ইহার ব্যপ্তি। এই সময় বিরুদ্ধতা অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করে। বহু সংখ্যক মুসলমান মক্কায় কাফিরদের জুলুম নিপীড়নে অতিষ্ট হয়ে হাফসার দিকে হিজরত করে। বনী হাসিমের লোকজন শেবে আবু তালিব নামক উপত্যাকায় কঠোর বন্দী দশায় জীবন যাপন করেন। চতুর্থ পর্যায় ঃ
মক্কী যুগের শেষ তিন বছর চরম বিরোধিতা, নিষ্ঠুর নির্যাতন এমনকি রসুল (সঃ) কে হত্যার চেষ্টা চলে। এ সময়টি নবী করীম (সঃ) এবং তাঁর সঙ্গী সাথীদের জন্য অতিশয় দুঃখ কষ্ট ও বিপদের সময়। মক্কায় হযরত নবী করীম (সঃ) এর জীবন অত্যন্ত দুঃসহ হয়ে উঠে। তিনি তায়েফ গমন করেন। কিন্তু সেখানেও কোন আশ্রয় পাননি। মক্কাবাসীরা পরামর্শ করতে লাগল যে, নবী করীম (সঃ) কে হত্যা করা হবে কিংবা বন্দী করা হবে অথবা বহিস্কার করা হবে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ মদীনার আনসারদের মন ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করলেন এবং তাদেরই আহবানে নবী পাক (সঃ) মদীনায় হিযরত করলেন।
সূরা তওবার ভাষণ সমূহঃ
এই সুরায় তিনটি ভাষণ রয়েছে। প্রথম ভাষণটি সূরার প্রথম থেকে শুরু হয়ে পঞ্চম রুক'ুর শেষ অবধি চলেছে । এর নাযিলের সময় হচ্ছে নবম হিজরীর যিলক্বদ মাস বা তার কাছাকাছি সময়ে। নবী (স:) সে বছর হযরত আবু বকর (রা) কে আমিরুল হজ্জ নিযুক্ত করে মক্কায় রওয়ানা করে দিয়েছিলেন এমন সময় এ ভাষণটি নাযিল হয়। দ্বিতীয় ভাষণটি 6ষ্ঠ রুকুর পর থেকে 9ম রুকুর শেষ পর্যন্ত চলেছে। এটি নবম হিজরীর রজব মাসে বা তার কিছু আগে নাযিল হয়। সে সময় নবী (স:) তাবুক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এখানে মুমিনদেরকে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে আর যারা মুনাফিকী বা দুর্বল ঈমান অথবা কুড়েমি ও অলসতার কারণে আল্লাহর পথে ধন-প্রাণের উৎস্বর্গ করার ব্যাপারে টালবাহানা করছিল তাদেরকে কঠোর ভাষায় তিরষ্কার করা হয়েছে। তৃতীয় ভাষণটি 10 রুকু থেকে শুরু হয়ে সূরার শেষ পর্যন্ত চলেছে।এখানে মুনাফিকদের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে। তাবুক যুদ্ধে যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিলেন তাদেরকে ভর্ৎসনা ও তিরষ্কার করা হয়েছে। আর যে সাচ্চা ঈমানদার লোকেরা নিজেদের ঈমানের ব্যাপারে নিষ্ঠাবান ছিলেন ঠিকই কিন্তু আল্লাহর পথে জিহাদে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন তাদেরকে তিরষ্কার করার সাথে সাথে ক্ষমার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০০৬ বিকাল ৪:৪১
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×