নিম্ন আদালতের (সহকারী জজ থেকে জেলা ও দায়রা জজ পর্যনত্দ) বিচারকদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের লৰ্যে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (পে-কমিশন) বিধিমালা জারি করা হয়েছে। সংবিধানের 115 অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী গতকাল রবিবার রাষ্ট্রপতি এ বিধিমালা জারি করেছেন। জানা গেছে, বিচারকদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি সংক্রানত্দ আরো দু'টি বিধিমালা 2/1 দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি জারি করবেন। এ দু'টি বিধিমালা জারি হলে (ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ছাড়া) নিম্ন আদালত সম্পূর্ণভাবে সুপ্রীম কোর্টের অধীনে চলে যাবে। আর বর্তমানে সংসদের বিবেচনাধীন 'ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন বিল' পাস হলে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হবে। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধি সংসদে পাসের পর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য আলাদা বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। পে-কমিশন বিধিমালা জারির ঘটনাকে আইনমন্ত্রী বিচার বিভাগ পৃথককরণের ৰেত্রে গুরম্নত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে পে-কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য মনোনয়নের ৰেত্রে সুপ্রীম কোর্ট আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি। সুপ্রীম কোর্ট তার সর্বশেষ আদেশে পে-কমিশনে বিচার বিভাগের প্রাধান্য রাখার নির্দেশনা দিয়েছিলো। বাসত্দবে আমলাদের প্রাধান্য দিয়ে কমিশন গঠন করা হয়েছে। যদিও আপিল বিভাগের 12 দফায় কমিশন গঠনের কোন রূপরেখা ছিলো না। পরবতর্ীতে আপিল বিভাগ সরকারের প্রণীত খসড়া তলব করে কমিশন কিভাবে গঠিত হবে তার একটি রূপরেখা দেন। এতে নির্দেশনা ছিলো কমিশনের চেয়ারম্যান হবেন প্রধান বিচারপতি কতর্ৃক মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি। জারিকৃত বিধিমালায় কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে মহা-হিসাব-নিরীৰক ও নিয়ন্ত্রককে। এছাড়া আপিল বিভাগ কমিশনের সদস্য হিসাবে প্রধান বিচারপতি কতর্ৃক মনোনীত হাইকোর্টের একজন বিচারক, আইন কমিশনের একজন সদস্য, প্রধান বিচারপতি কতর্ৃক মনোনীত ঢাকায় কর্মরত একজন জেলা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তা, আইন সচিব, সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার, মহাহিসাব-নিরীৰক ও নিয়ন্ত্রক, অর্থ সচিব এবং সংস্থাপন সচিবকে অনত্দভর্ুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলো। কিন্তু জারিকৃত বিধিমালার শেষোক্ত পাঁচজন ছাড়া আর কাউকে কমিশনে রাখা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, যাদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ -সুবিধার বিষয় নিয়ে কমিশন গঠিত হবে কমিশনে তাদের প্রাধান্য রাখা হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, নিজেদের বেতন বৃদ্ধির ৰমতা নিজেদের হাতে থাকা উচিত হবে না। অন্যদিকে সুপ্রীম কোর্টের একজন আইনজীবী বলেন, বিচার বিভাগের সঙ্গে সব সময়ই আমলাদের একটি দ্বন্দ্ব থাকে। ফলে কমিশনে আমলাদের প্রাধান্য থাকায় বিচারকরা ৰতিগ্রসত্দ হতে পারেন।
জারিকৃত বিধিমালার 4 ধারায় বলা হয়েছে, (ক) দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং বিদ্যমান বেতন/পারিশ্রমিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সার্ভিসের সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করে কমিশন সুপারিশ প্রণয়ন এবং সরকারের নিকট পেশ করবে। 3 ধারায় বলা হয়েছে, পে-কমিশন প্রতি পাঁচ বছর অনত্দর সরকারের বরাবরে সুপারিশ পেশ করবে। তবে সরকার কতর্ৃক আহূত হলে পে-কমিশন বৈঠকে বসে যেকোন সময়ে যেকোন বিষয়ে সরকারের নিকট অনত্দর্বতর্ীকালীন সুপারিশ পেশ করতে পারবে। সভায় কোরামের জন্য তিনজন সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হবে; উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে পে-কমিশনের সিদ্ধানত্দ গৃহীত হবে এবং মতামতের সমতার ৰেত্রে সভাপতির নির্ণায়ক সিদ্ধানত্দ প্রদানের ৰমতা থাকবে; অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ কমিশনকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।
প্রসঙ্গত, 1999 সালের 2 ডিসেম্বর সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করতে 12 দফা নির্দেশনা দেয়। ওই নির্দেশনার মধ্যে বিগত সরকারের আমলে সুপ্রীম কোর্টকে আর্থিক স্বাধীনতা দেয়া হয়। বর্তমান সরকার ৰমতায় এসে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন ও বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বিধিমালা এবং গতকাল পে-কমিশন বিধিমালা জারি করে। অবশিষ্ট জুডিশিয়াল সার্ভিস (গঠন, প্রবেশ পদে নিয়োগ, বদলি, সাময়িক বরখাসত্দ, বরখাসত্দ ও অপসারণ) বিধিমালা 2006 এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস (কর্মস্থল নির্ধারণ, ছুটি মঞ্জুরী, শৃঙ্খলা বিধান এবং চাকরির অন্যান্য শর্ত ইত্যাদি) বিধিমালা 2006 2/1 দিনের মধ্যে জারির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন। তবে ওই বিধিমালায় ম্যাজিস্ট্রেটরা অনত্দভর্ুক্ত নন। তাদের জন্য অনত্দর্বতর্ীকালীন বিধিমালা জারি করা হবে। এ সংক্রানত্দ ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন বিল সংসদের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। সংসদে এটি পাস হলে বিধিমালা জারির মাধ্যমে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের সুপ্রীম কোর্টের অধীনে নিয়ে যাওয়া হবে। আর এই কার্যক্রম সম্পন্ন হলেই বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক হবে। তবে অবশিষ্ট দু'টি বিধিমালা 2/1 দিনের মধ্যে জারি হলে নিম্নআদালত (ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ছাড়া) সম্পূর্ণ সুপ্রীম কোর্টের অধীনে চলে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



