মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার প্রেক্ষিত আমাদের বাস্তবতা
মৌলিক অধিকার বলতে আমরা বুঝি এই দেশে সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান, একজন সচিব, আ্ইনজীবি,শিক্ষক, সরকারী আমলা সহ সকল ভিআ্ইপি নাগরিক যে সুবিধা পাবে ঠিক তেমনি দিন মজুর, কুলি, ভ্যান চালক সহ সকল নিম্ন শ্রেনীর মানুষ ও সমান এবং সমান ভাবে সকল নাগরিক সুবিধা পাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের বিশেষ ব্যানারের ছাত্ররা যে সুবিধা পাবে সাধারন ব্যানারের ছাত্ররা সেই সুবিধা পাবে, দুই জনের রূমে ৪/৬ জন করে থাকা নয় ২ জন করে থাকাটা আমার মৌলিক অধিকার, হলের ডাইনিংয়ে ভালো ,পরিস্কার ও রুচিময় খাবার পাওয়াটা মৌলিক অধিকার,
ক্লাস শিক্ষক এর কাছ থেকে নতুন কিছু, উপকারি কিছু, এবং মানসম্মত লেকচার পাওয়াটা আমার মৌলিক অধিকার। সকল মতের স্বাধীন মতামত প্রকাশ করাটা আমার মৌলিক অধিকার।
ক্যাম্পাসে আমার ছোট ভাই ও বোনদের উপর র্যাগ নামক দৈহিক নির্যাতনের অস্ত্র প্রোয়গ করাটা আমার মৌলিক অধিকার লঙ্গন। হলে অবাধে মদ,গাজা,ইয়াবা সহ সকল নেশা জাতিয় দ্রব্য পাওয়াটা আমার মৌলিক অধিকার লঙ্গন। প্রেমের নামে আমার বোনের ক্ষতি করাটা আমার মৌলিক অধিকার লঙ্গন্। পুলিশের রাস্তায় রাস্তায় চেক পোস্ট এর নামে প্রকাশ্য চাঁদাবাজী করাটা আমার মৌলিক অধিকার লঙ্গন। জন জট,জল জট ও যান জটে আমার ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ন্ষ্ট হওয়াটা মৌলিক অধিকার লঙ্গন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভতির সময় সকল মাধ্যমের ছাত্রদের সমান সুজোগ পাওয়াটা অমার মৌলিক অধিকার । চাকরি, বিদেশ গমন, সঠিক বিচার পাওয়া, সমাবেশ করার স্বাধীনতা এবং আইনের আশ্রয় পাওয়াটা আমার মৌলিক অধিকার। সরকার এ অধিকার আমাকে দিতে বাধ্য কারণ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে এ সকল মৌলিক অধিকার আমি জন্ম সূত্রে পেয়েছি।
এখন আলোচনা করবো মানবাধিকার নিয়ে, মানব বা মানুষের প্রয়োজনীয় সকল অধিকার পাওয়াটা মানবাধিকার । তা হলে বলা যায় মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার একই । না মৌলিক অধিকার আমাদের দেশের সংবিধান মোতাবেক আর মানবাধিকার জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ি বিশ্বের সকল নাগরিক তার মানবাধিকার পাবে। এবং জাতিসংঘের সদস্য ভুক্ত সকল দেশ তার প্রতিটি নাগরিককে মানবাধিকার নিশ্চিত করবে যদি কোন দেশ তার নাগরিককে এই অধিকার দিতে ব্যার্থ হয় তাহলে জাতিসংঘ বিধি অনুযায়ী ব্যাবস্থা নিতে পারবে। এবং বিশ্বের যেকোন ব্যাক্তির মানবাধিকার লঙ্গিত হলে সে জাতিসংঘে লিখিত অভিযোগ করতে পারবে। সে ক্ষেতে জাতিসংঘ এর তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার ও সরকার প্রধানের বিরূদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে পারবে।
বাংলাদেশের জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত শত শত বার মানবাধিকার লঙ্গনের ঘটনা ঘটেছে। মানুষের জানমাল নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে আমাদের খেলোয়াররা। তাদের ছড়ি ঘুরিয়ে শাষণ করছে আমাদের। আমরা নির্যাতিত হয়ে আজ মজলুমের কাতারে। জুলুম করছে শত ভাবে, শত পদ্ধতিতে । আমাদের এই মানবাধিকার লঙ্গনের বিচার কে করবে? ধর্ষণ করে আমার বোন কে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। হত্যা করে শত শত মানুষকে নদিতে পাথর চাপা দিয়ে শলিল সমাধি দেওয়া হচ্ছে। বিচার বহিরভূত ভাবে এদেশ গড়ার কারিগরদের হত্যা করা হচ্ছে। তবে আমাদের মুক্তি কি নেই ? সংবিধানের প্রোয়গ কি দেখতে পারবো না? জাতি হিসাবে আমরা কি আমাদের সেই গৌরবময় ইতিহাস আবার ফিরে পাবোনা? সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের আরো বেশি দেশপ্রেমীক হওয়া কি সময়ের দাবি করে না?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




