somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

IRRI তে কিছুক্ষণ

২৩ শে জুন, ২০১৪ দুপুর ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছোট বেলায় ফিলিপাইন নামের সাথে আমার প্রথম পরিচয়( IRRI ) ইরির মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত? এর উত্তর জানতেই পরিচয় হয় ফিলিপাইন নামের দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির সাথে।যেখানে ১৯৬০ সালে ফোর্ড ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন এবং ফিলিপাইন সরকারের সহযোগিতায় ২৫২ হেক্টর জমির ওপর গড়ে ওঠে IRRI । কখনও ভাবিনী এই দেশ দেখার সুযোগ আমার হবে। কিন্তু মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের ভাবার বাইরেও অনেক কিছুই আমাদের ভাগ্যে নির্ধারণ করে রাখেন। ফিলিপাইনে কাজের সুযোগও ঠিক তেমনি । আর এই কাজের সুবাদেই সুযোগ হল ছোট বেলার সেই বইয়ে পড়া ইরি পরিদর্শনের সুযোগ।
খ্রিষ্টান সংখ্যাগরিষ্ঠের এই দেশে মসজিদের সংখ্যা হাতে গোনা , বিশেষ করে লুযন প্রদেশে। ঈদের নামাজ পড়ার জন্য জামাতের ব্যবস্থা খুঁজতে গিয়ে জানতে পারলাম আমার অফিস থেকে নিকটতম দুরত্তে লসবানিওস নামক স্থানে ইরির অবস্থান, সেখানে একটি মসজিদ আছে এবং ঈদের নামাজের জামাত হয়। সময় জেনে নিয়ে হাজির হলাম মসজিদে। খুব সুন্দর দ্বিতল ভবনের মসজিদ , নিচতলায় পুরুষ এবং দোতালায় মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা। বিদেশী হিসেবে সম্মানের সাথে আমাকে তাঁরা সামনের কাতারে বসার সুযোগ করে দিলেন। সামনের দেয়াল ঘেঁসে রাখা বেশকিছু বই। ভাল করে চোখ রাখতেই দেখলাম বাংলায় লেখা “ নেয়ামুল কোরআন” আশেপাশে তাকাতে শুরু করলাম জিজ্ঞাসু চোখে , এই দূর দেশে কে নিয়ে আসলো এই বাংলা কিতাব!
নামাজ শেষে ভাবনার অবসান হল, পরিচয় হল কিছু বাংলাদেশীর সাথে যারা এই ইরিতেই পড়াশুনা এবং গবেষণা করছেন। তাঁদের কাছেই শুনলাম প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে অনেকেই সরকারী বৃত্তি নিয়ে উচ্চ শিক্ষা ও গবেশনার জন্য আসেন ইরিতে। তাঁদেরই কেউ এনেছেন এই বাংলা কিতাব। তাঁরা আরও বললেন এখানে বাংলাদেশ একটি সুপরিচিত এবং সম্মানিত নাম । শুনে গর্বে বুকটা ভরে উঠলো। সেই গর্বে ভরা বুকটা উঁচু করে রওনা হলাম ইরি পরিদর্শনে।
পাহাড়ের কোল ঘেঁসে গড়ে তোলা সবুজ , স্নিগ্ধ , শান্ত পরিচ্ছন্ন ভাল লাগার মত পরিবেশ। ভাবলাম প্রবাসের এটাই আমার ঈদ আনন্দ। প্রথমেই গেলাম ইরির ক্যানটিনে। দেখলাম সেখানে আমাদের বাঙ্গালিয়ানা কিছু খাবার পাওয়া যায়, যেমনঃ ঝাল মুরগির মাংস, মুগের ডাল , ডিম রান্না ইত্যাদি, দামও নাগালের মধ্যে। কিছু খাবার নিয়ে বসতেই দেখলাম আরও কিছু বাঙ্গালী মুখ, পরিচয় হল। কথা হল কিছু ভারতীয়, শ্রীলংকান ও জার্মানি নাগরিকের সাথে। ঈদের আনন্দ সত্যিই পরিপূর্ণ হতে শুরু করল। যখন দীর্ঘদিনেও একজন বাঙ্গালিকে খুঁজে পাইনা, আর আজ মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মত বেশ কিছু বাঙ্গালির সাথে শুরু হল ঈদের আড্ডা।
সবাই মিলে আড্ডার সাথে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম কেমন করে গ্রীন হাউজ ইফেক্ট তৈরি করে বিভিন্ন পরিবেশে ধান চাষের পরীক্ষা চলছে। গবেষণায় উৎপাদিত চারা রোপণ করা হয়েছে সামনের মাঠ জুড়ে। দেখলাম শতবর্ষ পুরনো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের হাজারো রকম ধানের জীন ব্যাংক। তারপর গেলাম ইরির জাদুঘরে। ধান চালের হরেক রকম ব্যবহার। শুধু খাদ্য হিসাবেই নয় , ধান দিয়ে তৈরি কারা হয়েছে ঘর সাজানোর মত চিত্র ও পণ্য। রাখা আছে চাল থেকে তৈরি মদ, কৃষি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সময়ের কৃষি যন্ত্রপাতি। একটি কম্পিউটার রাখা আছে যেখানে দেখা যাচ্ছে এই মুহূর্তে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা কত, চালের চাহিদা কত, উৎপাদিত চালের পরিমান কত , ঘাটতি কত … ইত্যাদি। দেয়াল জুড়ে সাজানো আছে কৃষি প্রধান কিছু দেশের কৃষি চিত্র। বাংলাদেশের কৃষি চিত্রে চোখ পড়তেই বুকের মধ্যে হাতুড়ির আঘাতের মত কষ্ট অনুভব করলাম।
“ এক হাড় জিরজিরে বৃদ্ধ , খালি গায়ে , নেংটি পরে, কাঁধে লাঙ্গল তুলে , হাড্ডিসার দুটি বলদ নিয়ে খালি পায়ে হেঁটে চলেছে মাঠের পানে”
এই চিত্র বাংলাদেশের কৃষির প্রতীক চিত্র এটা আমি মানতে পারছিলাম না। একটা সময় সেটাই ছিল আমাদের কৃষির চিত্র এটা সত্য, কিন্তু আজ আমাদের কৃষি অনেক দূর এগিয়েছে। দু একটি উদাহরণ ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবহার হয় কলের লাঙ্গল। ফিলিপাইনে যখন এখনও মাত্র দুইটি মৌসুমে ধান চাষ হয়, সেখানে আমরা করি বছরে তিন মৌসুমে ধান চাষ। শত প্রতিকুলতা সত্ত্বেও আমরা আজ খাদ্দ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ । সেখানে এই চিত্র আমাদের দেশপ্রেমকে আঘাত করে। সেখানে তাঁদের বলেছিলাম আমাদের বর্তমান চিত্রটা বেশ উন্নত সেটাও তোমাদের রাখা উচিৎ।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×