
দুইমাস থেকে শিলার কোন খোঁজ নাই।ফোন অফ আইডি ডিএ্যাক্টিভ শিলার সাথে আমার যোগাযোগের সব মাধ্যমগুলো এখন অফ।
কিন্তু শিলা কেন এমনটা করলো?আগে তো শিলা এমন ছিলো না! সবকিছু কত সুন্দর এবং শৃঙ্খলভাবে চলতো দুইজন দুইজনের খোঁজ নেয়া ঘুরতে যাওয়া!দিনের ভিতর কতবার যে শিলার সাথে ফোনে কথা হতো সেটা গণনার বাইরে।
কিন্তু হঠাৎ করে সবকিছু কেন উলটপালট হয়ে গেলো?
.
.
.
#দুইমাস আগে:-
আজকে শিলার সাথে দেখা করার কথা তাই বাসা থেকে বের হয়েছি হঠাৎ শুনতে পারলাম আমার এক ফ্রেন্ড এ্যাক্সিডেন্ট করেছে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি অবস্থা অনেক খারাপ রক্ত লাগবে O (+ve) আমার রক্তের গ্রুপও O (+ve) তাই দ্রুত আসলাম মেডিকেলে তাকে রক্ত দিতে।
রক্ত দিয়ে বের হয়ে রিক্সা নিলাম শিলার সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে এমন সময় শিলার ফোন:-
.
.
.
>ওই কই তুমি?(শিলা)
>এইতো প্রায় চলে আসছি তুমি আরেকটু অপেক্ষা করো প্লিজ আমি চলে আসছি।(আমি)
>এই আমাকে একা একা পার্কে ২ ঘন্টা ধরে বসে আছি আর তুমি এখন বলছো আরেকটু অপেক্ষা করো?(শিলা)
>প্লিজ রাগ কইরো না একটা সমস্যায় পড়ছিলাম তাই দেরি হয়ে গেলো(আমি)
>তুমি সারাজীবন সমস্যাতেই পরবা এটাতেই পরো বারবার অন্যকিছুর আর কি দরকার?তাড়াতাড়ি আসো ১০ মিনিটের মধ্যে নাই আমি চলে যাবো (শিলা)
>ওকে থাকো আমি প্রায় চলে আসছি(আমি)
.
.
এসে শিলার পাশে বসলাম কিন্তু শিলার সাথে কথা বলার সাহস পাচ্ছিনা কারণ আমার দেরি হয়ে গেছে আসতে অনেক।
শিলাও অন্যদিকে মুখ করে বসে আসে মনে হচ্ছে আমি পাশে আসি এটা সে জানেই না।
.
.
>এটাই কি আমার অপরাধের শাস্তি?(আমি)
>ওই আমার সাথে কথা বলবা না তোমার মতো তুমি বসে থাকো আমার মতো আমি তারপর চলে যাও কারণ আমার প্রতি তোমার তো কোন দ্বায়িত্ব ও কর্ত্যব্য বলে কিছু নাই(শিলা)
>আরে দেরিটা কেন হলো আগে শুনবা তো!(আমি)
>বলে যান আপনার মতো(শিলা)
>একজন শ্রোতা না থাকলে কি একা একা বকবক করা যায়? আর যারা একা একা বকবক করে তারাতো পাগল! আমি এমনটা করলে তো তোমাকে সবাই বলবে পাগলের জামায়!(আমি)
>ওই এত কথা না পেঁচায় বলো!(শিলা)
>আসলে আমার এক ফ্রেন্ড এ্যাক্সিডেন্ট করেছে ওর জন্য জরুরী রক্ত লাগবে তাই আমি মেডিকেলে গিয়েছিলাম রক্ত দিতে!(আমি)
>তুমি রক্ত দিছো!(অবাক হয়ে শিলা)
>হুম রক্ত দিয়েই সরাসরি রিক্সায় করে তোমার কাছে আসলাম(আমি)
>ওই কুত্তা আগে বলবা না রক্ত দিয়েছো! তুমি ফোন করে বলতে পারতা আমি চলে যেতাম তুমি আবার আসলা কেন?অনেক ব্যাথা লাগছে তাইনা? তুমি রক্ত দিলা কেন বুঝলাম না তোমার দেহে কি কিছু আছে? তোমারই তো রক্ত নাই মনে হয়।অনপক কষ্ট হইছে তোমার তাইনা?আমি খুব খারাপ তাইনা? তোমাকে একটুও বুঝিনা!সত্যিই আমি খারাপ বসে থাকতে তোমার অনেক কষ্ট হচ্ছে তাইনা?(কাঁদো-কাঁদো কন্ঠে শিলা)
>ওই পাগলী এত প্রশ্ন একবারে করলে উত্তর দিবো কিভাবে?তুমি খারাপ হবা কেন তুমিতো আর জানতে না ব্যাপারটা(আমি)
>আমি অনেক সোরি প্লিজ ক্ষমা করো আমিতো জানতাম না এমন সমস্যায় পরছো তুমি না জেনে অনেক বকাবকি করছি(শিলা)
>আরে কোন সমস্যা নাই...........ফুসকা খাবা?(আমি)
>না কিছুই খাবো না চলো বাসায় চলো এখন তুমি বাসায় গিয়ে রেস্ট নিবে(শিলা)
.
.
.
তারপর বাসায় চলে আসলাম শিলা আমাকে বাসা পর্যন্ত রেখে গেলো। শিলাকে অনেক বেশিই উদ্বিগ্ন মনে হচ্ছিল! ও শেষে বললো আমার যেতে ইচ্ছা করছে না তোমাকে রেখে।আমি ভাবছি রক্ত দেয়াতো অস্বাভাবিক কিছু না? রক্তদান মহৎ একটা কাজ আর রক্ত দিলে রক্তদাঁতার তো তেমন কোন অসুবিধাও হয়না।এসব শিলাতো জানে তাও শিলাকে এত বেশি উদ্বিগ্ন মনে হচ্ছিল কেন আমাকে নিয়ে? ভালোবাসার মানুষের জন্য আপন মানুষের জন্য এমনটাই কি হয়?
এগুলো ভাবতে-ভাবতে রুমে চলে আসলাম।এসেই শুয়ে পড়লাম মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা করছে উঠে দাঁড়াতে পারছি না দৌঁড়ানোর কারণে হয়তো এমনটা হচ্ছে। আর না দৌঁড়ায় কিই বা করবো দশমিনিটের মধ্যে না গেলে শিলা চলে যেত আর ফোন অফ থাকতো।
এর আগেও একবার এমন হয়েছে সেইবার অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম এক সপ্তাহ শিলার ফোন বন্ধ ছিলো।আর এখন প্রায় দুইমাস শিলার সাথে কোন যোগাযোগ নাই অনেক খুঁজেছি শিলাকে কিন্তু পাইনি।শিলা কেন আমার সাথে এমন করলো এই কারণটা এখনো অজানা। যখন এগুলো ভাবি মনের অজান্তে চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরে।
আজকে শিলার জন্মদিন! কিন্তু শিলা নাই।
শিলার জন্মদিনে কত মজায় না করতাম!ওর জন্মদিনে কিছুই না জাস্ট উইশ করলেই যে ও কত্তো খুশি হতো সেটা আমি কাউকে বোঝাতে পারবো না।
এখন শিলা রবীন্দ্রনাথের "তুমি কি কেবলই ছবি" গানের মতো ছবি হয়ে আছে আমার কাছে।
আর ভাবতে পারছিনা!মনের অবস্থা এবং শরীরের অবস্থা খুব খারাপ হয়তো বেশি দিন বাঁচবো না।
মৃত্যুর আগে কি শিলাকে একবার দেখতে পারবো না?
হাসপাতালের বেডে শুয়ে
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০১৬ সকাল ৮:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



