
একটা মেডিকেল হাসপাতালের উপর যে দেশের সাধারণ মানুষের কতটা আস্থা আছে সেটা হয়তো রাতে মেডিকেলে না গেলে আর ভালো করে দেখা যায় না।
কিন্তু দেশের মেডিকেল হাসপাতালগুলো কি পারছে তাদের আস্থার প্রতিদান দিতে?
এটাও ভালোভাবে বোঝা যাবে রাতে মেডিকেল হাসপাতালগুলোতে গেলে।
সবচেয়ে বড় কথা হলো মেডিকেল হাসপাতালগুলোতে কেউ কারোর না।একটা মানুষ মারা গেলে মেডিকেলের সাধারণ মানুষের কাছে এটা সাধারণ ব্যাপার!
আবার কেউ সুস্থ হয়ে ফিরলে এটাও সাধারণ ব্যাপার।
কেউ মারা গেলে আশেপাশে কেউ ভিড় করে দেখার কোন মানুষ নাই কারণ এটা একটা হাসপাতালের সাধারণ ব্যাপার।
কিন্তু গ্রামাঞ্চলে অথবা মৃত ব্যাক্তির বাড়িতে এটার পরিস্থিতি ঠিক অন্যরকম!
মারা গেলে তাদের বাড়িতে নেমে আসে এক শোকের মাতম আর সুস্থ হয়ে ফিরলে তাদের যেন আনন্দের সীমা থাকেনা।
মেডিকেল হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা আমাকে আহত করেছে সেটা হলো ছোট্ট শিশুকে নিয়ে তার বাবা-মায়ের আহাজারি আর উৎকন্ঠা।
রাতে মেডিকেলে কোন রোগী শুয়ে আছে আবার কেউ কাঁতরাচ্ছে তাদের অসুস্থ বেদনায়।
সারাদিন মেডিকেলের জরুরী বিভাগে অসংখ্য রোগী আসে আর যায়।
কিন্তু রাতে কেউ আসলে নিজের আত্মাটা কেঁপে উঠে!
এতরাতে হাসপাতালে আসলো হয়তো অনেক বড় সমস্যা!আমি একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট তাই মাঝেমাঝে মেডিকেল আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে সন্ধ্যায় মেডিকেলে যায় কিন্তু আমার এক রিলেটিভ আজকে রাজশাহী মেডিকেলে আসলো তার অবস্থা খুব খারাপ তাই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে রাজশাহী মেডিকেলে স্থানান্তর করছে রাত ১২ টায় আমি মেডিকেলে গেলাম গিয়ে দেখলাম এখনো রোগী আসেনি তাই জরুরী বিভাগ থেকে একটা টিকিট কিনে রাখলাম যেন আসলে তাড়াতাড়ি তাকে ডাক্তারের কাছে নিতে পারে।
রাত ১২.৪৫ মিনিটে তারা আসলো সবকিছু ঠিক করে তাকে বেডে তুলে দিলাম। ডাক্তার দেখে বললো স্ট্রোক করেছে তিনি তিনটা ইনজেকশন লিখে দিলেন আর তিনটা টেস্ট দিলেন।
.
.
#টেস্টগুলো:-
.
.
১.RBC(লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ)
২.Platelet(শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ) আর
৩.ESR( রক্তে তলানির পরিমাণ)
পরীক্ষাগুলো সকালে করলেই হবে কিন্তু ঔষধগুলো কিনতে হবে এখনই।
তাই ওষুধ কিনার উদ্দেশ্যে বের হলাম প্রায় সব নামকরা দোকান বন্ধ।
হাটতে-হাটতে আসছি মেডিকেল গেটের সামনে থেকে একটা লোক আমার পিছু নিলো সে বলে তার দোকান থেকে ওষুধ কিনতে হবে একপর্যায়ে তিনি আমার উপর জোরপ্রয়োগ করছিলো তার দোকান থেকে ওষুধ নেয়ার জন্য।
রাত ১ টা বাজে কি করবো বুঝছিনা!তাই ফোন দিলাম মেসের এক বড় ভাইয়ের কাছে তিনি আমাকে বললেন ওনার কাছ থেকে ওষুধ কিনো না তখন আমি আসলাম অন্য দোকানে এটাই শুধু খোলা ছিলো ভালো দোকানগুলোর মধ্যে তখন এটা থেকে ওষুধ নিলাম দাম নিলো ২৫০ টাকা আমি পরে দোকানদারের কাছে সব ঘটনা খুলে বললাম তখন তিনি বললেন এই ২৫০ টাকার ওষুধ তোমাকে ১০০০ টাকা দিয়ে কিনতে হতো ওই দোকানে গেলে।
আমি ভাবলাম হায়রে মানুষ!!!!!
কোথায় আমাদের বিবেক?
একটা মানুষ অসুস্থ তার ওষুধ কেনা নিয়েও এত দালালি?
ওষুধ কিনে ফেরার পথে ওই দালাল আবার আমাকে বলে যে বকশিশ দাও তোমাকে তো আমি আমার শ্রম দিয়ে সাহায্য করলাম!
আমি বললাম শ্রম দিলেন কখন?
তিনি বললেন রোগীকে ভর্তি করার সবকিছু ঠিক করে দিলাম।
অবাক হওয়া ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিলোনা না দিয়ে চলে আসছি তখন দালালটা আমাকে বললো তোমাকে চিনে রাখলাম আমি মনে মনেই বললাম সকালটা আসতে দে কে কাকে চিনে রাখে কারণ রাতে আমার কিছুই করার ছিলোনা।
অবাক হলাম একটা বিষয় দেখে যে এতরাতে যারা আছে সবাই কোন না কোন ধান্দা নিয়ে।
কিন্তু এদিকে মেডিকেলের ভিতরে কাঁতরাচ্ছে অসংখ্য মুমূর্ষু রোগী! নাই তেমন কোন ডাক্তার তাও রাতে মেডিকেলের উপর মানুষ আস্থা রেখে রোগীকে আনছে মেডিকেলে কিন্তু আনার পর তারা শিকার হচ্ছে অনেক হয়রানীর বিশেষ করে গ্রাম থেকে যারা আসে তারা বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছে।আজকে একটা রোগীকে দেখে সবচেয়ে খারাপ লাগলো বাবা-মা তার মেয়েকে এতরাতে মেডিকেলে আনছে চিকিৎসার কারণে!
কিন্তু তারাই একদিন বড় হয়ে বাবা মায়ের ইচ্ছাকে মাটিচাপা দিয়ে নিজের ইচ্ছা নিয়ে টানাটানি করবে।
শেষে সবকিছু ঠিক করে দিয়ে যখন জরুরী বিভাগের গেটের কাছে আসলাম তখন দুর থেকে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসলো।হয়তো আজকের রাতটা শুধু তাদের কাঁদার জন্যই!
রাস্তায় আসার পর সোডিয়াম লাইটের আলো দেখে ইচ্ছা করছিলো ক্ষণীকের জন্য হিমু হয়ে যায়!কিন্তু আমার তো হলুদ পান্জাবি নেই!
হিমুর তো পায়ে স্যান্ডেল, হাতে ফোন থাকতো না কিন্তু আমার আছে তাই এখন আর হি
মু হওয়া হলো না।
এখন হলাম না তাতে কি?
রাতে না হয় শুয়ে হিমুর মতো কোন এক ময়ুরাক্ষী নদীকে নিয়ে ভাববো!!!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



