somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাতের মেডিকেল

২৫ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একটা মেডিকেল হাসপাতালের উপর যে দেশের সাধারণ মানুষের কতটা আস্থা আছে সেটা হয়তো রাতে মেডিকেলে না গেলে আর ভালো করে দেখা যায় না।
কিন্তু দেশের মেডিকেল হাসপাতালগুলো কি পারছে তাদের আস্থার প্রতিদান দিতে?
এটাও ভালোভাবে বোঝা যাবে রাতে মেডিকেল হাসপাতালগুলোতে গেলে।
সবচেয়ে বড় কথা হলো মেডিকেল হাসপাতালগুলোতে কেউ কারোর না।একটা মানুষ মারা গেলে মেডিকেলের সাধারণ মানুষের কাছে এটা সাধারণ ব্যাপার!
আবার কেউ সুস্থ হয়ে ফিরলে এটাও সাধারণ ব্যাপার।
কেউ মারা গেলে আশেপাশে কেউ ভিড় করে দেখার কোন মানুষ নাই কারণ এটা একটা হাসপাতালের সাধারণ ব্যাপার।
কিন্তু গ্রামাঞ্চলে অথবা মৃত ব্যাক্তির বাড়িতে এটার পরিস্থিতি ঠিক অন্যরকম!
মারা গেলে তাদের বাড়িতে নেমে আসে এক শোকের মাতম আর সুস্থ হয়ে ফিরলে তাদের যেন আনন্দের সীমা থাকেনা।
মেডিকেল হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা আমাকে আহত করেছে সেটা হলো ছোট্ট শিশুকে নিয়ে তার বাবা-মায়ের আহাজারি আর উৎকন্ঠা।
রাতে মেডিকেলে কোন রোগী শুয়ে আছে আবার কেউ কাঁতরাচ্ছে তাদের অসুস্থ বেদনায়।
সারাদিন মেডিকেলের জরুরী বিভাগে অসংখ্য রোগী আসে আর যায়।
কিন্তু রাতে কেউ আসলে নিজের আত্মাটা কেঁপে উঠে!
এতরাতে হাসপাতালে আসলো হয়তো অনেক বড় সমস্যা!আমি একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট তাই মাঝেমাঝে মেডিকেল আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে সন্ধ্যায় মেডিকেলে যায় কিন্তু আমার এক রিলেটিভ আজকে রাজশাহী মেডিকেলে আসলো তার অবস্থা খুব খারাপ তাই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে রাজশাহী মেডিকেলে স্থানান্তর করছে রাত ১২ টায় আমি মেডিকেলে গেলাম গিয়ে দেখলাম এখনো রোগী আসেনি তাই জরুরী বিভাগ থেকে একটা টিকিট কিনে রাখলাম যেন আসলে তাড়াতাড়ি তাকে ডাক্তারের কাছে নিতে পারে।
রাত ১২.৪৫ মিনিটে তারা আসলো সবকিছু ঠিক করে তাকে বেডে তুলে দিলাম। ডাক্তার দেখে বললো স্ট্রোক করেছে তিনি তিনটা ইনজেকশন লিখে দিলেন আর তিনটা টেস্ট দিলেন।
.
.
#টেস্টগুলো:-
.
.
১.RBC(লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ)
২.Platelet(শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ) আর
৩.ESR( রক্তে তলানির পরিমাণ)
পরীক্ষাগুলো সকালে করলেই হবে কিন্তু ঔষধগুলো কিনতে হবে এখনই।
তাই ওষুধ কিনার উদ্দেশ্যে বের হলাম প্রায় সব নামকরা দোকান বন্ধ।
হাটতে-হাটতে আসছি মেডিকেল গেটের সামনে থেকে একটা লোক আমার পিছু নিলো সে বলে তার দোকান থেকে ওষুধ কিনতে হবে একপর্যায়ে তিনি আমার উপর জোরপ্রয়োগ করছিলো তার দোকান থেকে ওষুধ নেয়ার জন্য।
রাত ১ টা বাজে কি করবো বুঝছিনা!তাই ফোন দিলাম মেসের এক বড় ভাইয়ের কাছে তিনি আমাকে বললেন ওনার কাছ থেকে ওষুধ কিনো না তখন আমি আসলাম অন্য দোকানে এটাই শুধু খোলা ছিলো ভালো দোকানগুলোর মধ্যে তখন এটা থেকে ওষুধ নিলাম দাম নিলো ২৫০ টাকা আমি পরে দোকানদারের কাছে সব ঘটনা খুলে বললাম তখন তিনি বললেন এই ২৫০ টাকার ওষুধ তোমাকে ১০০০ টাকা দিয়ে কিনতে হতো ওই দোকানে গেলে।
আমি ভাবলাম হায়রে মানুষ!!!!!
কোথায় আমাদের বিবেক?
একটা মানুষ অসুস্থ তার ওষুধ কেনা নিয়েও এত দালালি?
ওষুধ কিনে ফেরার পথে ওই দালাল আবার আমাকে বলে যে বকশিশ দাও তোমাকে তো আমি আমার শ্রম দিয়ে সাহায্য করলাম!
আমি বললাম শ্রম দিলেন কখন?
তিনি বললেন রোগীকে ভর্তি করার সবকিছু ঠিক করে দিলাম।
অবাক হওয়া ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিলোনা না দিয়ে চলে আসছি তখন দালালটা আমাকে বললো তোমাকে চিনে রাখলাম আমি মনে মনেই বললাম সকালটা আসতে দে কে কাকে চিনে রাখে কারণ রাতে আমার কিছুই করার ছিলোনা।
অবাক হলাম একটা বিষয় দেখে যে এতরাতে যারা আছে সবাই কোন না কোন ধান্দা নিয়ে।
কিন্তু এদিকে মেডিকেলের ভিতরে কাঁতরাচ্ছে অসংখ্য মুমূর্ষু রোগী! নাই তেমন কোন ডাক্তার তাও রাতে মেডিকেলের উপর মানুষ আস্থা রেখে রোগীকে আনছে মেডিকেলে কিন্তু আনার পর তারা শিকার হচ্ছে অনেক হয়রানীর বিশেষ করে গ্রাম থেকে যারা আসে তারা বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছে।আজকে একটা রোগীকে দেখে সবচেয়ে খারাপ লাগলো বাবা-মা তার মেয়েকে এতরাতে মেডিকেলে আনছে চিকিৎসার কারণে!
কিন্তু তারাই একদিন বড় হয়ে বাবা মায়ের ইচ্ছাকে মাটিচাপা দিয়ে নিজের ইচ্ছা নিয়ে টানাটানি করবে।
শেষে সবকিছু ঠিক করে দিয়ে যখন জরুরী বিভাগের গেটের কাছে আসলাম তখন দুর থেকে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসলো।হয়তো আজকের রাতটা শুধু তাদের কাঁদার জন্যই!
রাস্তায় আসার পর সোডিয়াম লাইটের আলো দেখে ইচ্ছা করছিলো ক্ষণীকের জন্য হিমু হয়ে যায়!কিন্তু আমার তো হলুদ পান্জাবি নেই!
হিমুর তো পায়ে স্যান্ডেল, হাতে ফোন থাকতো না কিন্তু আমার আছে তাই এখন আর হি
মু হওয়া হলো না।
এখন হলাম না তাতে কি?
রাতে না হয় শুয়ে হিমুর মতো কোন এক ময়ুরাক্ষী নদীকে নিয়ে ভাববো!!!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:১০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবীপ্রসাদ যাত্রা

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২১


আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। চট্টগ্রামের মোমিন রোডের রুচিশীল বই বিপণি কথাকলির বুকশেলফে চোখ বুলাচ্ছিলাম । হঠাৎ একখানি বইয়ের ওপর এসে থমকে গেল আমার চোখ । "ক্ষুদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×