somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধুত্বের মর্যাদা

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলা থেকেই রায়হান,শুভ্র আর অলিনের বন্ধুত্ব।
বলতে গেলে একদম ল্যাংটা কাল থেকে।সুখ-দুঃখ,হাসি-
কান্না সব কিছুই তারা ভাগাভাগি করে এবং করার জন্য
সবসময় প্রস্তুত থাকে কিন্তু প্রেমের বিষয়ে তারা অনেক
সিরিয়াস!
নিজ নিজ গার্লফ্রেন্ড নিয়ে তারা অনেক সিরিয়াস
যদিও অলিনের ভাগ্যে এখনো গার্লফ্রেন্ড জুটেনি
গার্লফ্রেন্ড কি সেটা ও জানেই না।
রায়হান,শুভ্র, অলিনেরা যখন ক্লাস ফাইবে পড়ে তখন
স্যারের হাতে মার খাইয়ে তো অলিন পড়ালেখায় বন্ধ
করে দিলো।
আজ সে একটা ভালো মানের ফেরিওয়ালা! আশপাশ
কয়েক এলাকায় তার অনেক সুনাম! সে নাকি যে গ্রামে
বাদাম বেঁচতে যায় সেই গ্রামেই কেন একটা অঘটন ঘটায়
ফেলে।
আর শুভ্র অনেক ছোটবেলা থেকেই ফাজিল ওর
ফাজলামির মাত্রাটা এতোটায় বেশি ছিলো যে স্কুল
থেকে স্যার ওকে টিসি দিয়ে বের করে দেই।
তারপর থেকেই ও ভবঘুরে!! ওর এখন একটায় লক্ষ্য কিভাবে
একটা প্রেম করা যায়।তাই সে পথেঘাটে শুধু হেটে
বেড়ায় আর সুন্দরী কোন মাইয়া দেখলেই তার পিছু নেই।
পিছু কেন নেই সেটা জানিনা কিন্তু প্রতিবারই ফিরে
আসার সময় দেখি মুখে হাত থাকে।
আর রায়হান অনেক ভদ্র পোলা পড়ালেখায়ও ভালো
কিন্তু একটু লুচু টাইপের ফেবুতে শুধু মেয়েদের সাথে
লুলামি করে।
রায়হান সবসময় অলিন আর শুভ্রর উওর কতৃত্ব দেখায় কারণ
ও একটু বেশি পড়ালেখা করছে ওদের থেকে এবং ওর
নাকি একটা গার্লফ্রেন্ড আছে এই জন্য!!
.
.
একদিন তিনজন বিকাল ৪ টার সময় রাস্তার পাশে দাঁড়ায়
আছে কারণ এইসময় তাদের গ্রামের স্কুলটা ছুটি দেই।
প্রতিদিনই তারা দাঁড়িয়ে থাকে কিন্তু আজ তাদের
লক্ষ্য ভিন্ন!!
আজকে অলিন আর শুভ্রর জন্য গার্লফ্রেন্ড চয়েজ করার
দ্বায়িত্ব পড়েছে রায়হানের উপর।
.
.
>ওই হালা দেখ কত ম্যালুক আসছে আজকে আমার জন্য
আর শুভ্রর জন্য তুই কিছু একটা করবি।(অলিন)
>ওই প্রথমে আমি চয়েজ করবো হালা অলিনের চয়েজ খুব
ভালো ওর সাথে ঈদের কেনাকাটা করতে গিয়ে দেখেছি
তাই আমি চয়েজ না করলে ও সবার ভালোটা চয়েজ করে
ফেলবে।(শুভ্র)
>আচ্ছা মারামারি করিস না চয়েজ করবি তারপর যা
করার আমি করবো(রায়হান)
>যা করার করবি মানে? আমরা যা তোকে করতে বলবো
তাই করবি (শুভ্র)
>হুম একমত শুভ্রর সাথে(অলিন)
>প্রেম বিষয়ে তোরা কি আমার থেকে বেশি বুঝিস?মনে
রাখবি আমার একটা গার্লফ্রেন্ড আছে যেটা তোদের
নাই সে আমি তোদের থেকে এগুলো বেশি বুঝি(রায়হান)
>আজাইরা প্যাঁচাল বাদ দে তো আমার বাদাম বেঁচতে
যাইতে হবে আবার।(অলিন)
>দোস্ত ওইদেখ কত মাইয়া আসছে!(শুভ্র)
>শোন শুভ্র তাড়াতাড়ি বের হলেই কিন্তু মহাপুরুষ হওয়া
যায় না মহাপুরুষ সেই জন যার অনেক সময় পর বের হয়!!
(অলিন)
>কি!!! শালার ফাজিল কি বললি তুই?(শুভ্র)
>আরে তেমন কিছু না তুই কিন্তু মেয়ের সামনে
তাড়াতাড়ি সব বলে দিস মানে তোর মুখ তাড়াতাড়ি সব
কথা বের হয়ে যায় এবার যেন আর এই ভুল করিস না এটা
বললাম(অলিন)
>তুই অলওয়েজ আমাকে ঠঁকানের ধান্দায় থাকিস(শুভ্র)
>ওই দরজা বন্ধ কর থুক্কু মুখ বন্ধ কর চলে আসছে এবার বল
কার কোনটা পচ্ছন্দ?(রায়হান)
>এমন ভাব নিচ্ছিস যে তোর মুদিখানার দোকানে মাইয়া
বিক্রি করছিস আর বলছিস যে কোনটা পচ্ছন্দ হচ্ছে বল!
(অলিন)
>দোস্ত ওই দ্যাখ রাস্তার ওইপাশ দিয়ে তিনটা যাচ্ছে ওর
সামনে যেটা একা যাচ্ছে ওইটাকে আমার ভাল্লাগছে।
আহারে!! বেচারির কেউ নাই মনে হয় তাই একা-একা
যাচ্ছে।
তুমি টেনশন কইরো না সুন্দরী তোমার রাজপুত্র খুলে বসে
আছে তোমার জন্য(অলিন)
>কি খুলে বসে আছিস?(রায়হান)
>আরে মনের দরজা(অলিন)
>শুভ্র তুই বল কোনটা ভাল্লাগছে তোর?(রায়হান)
>ওই আমি কি বলছিলাম? অলিন যেন আমার আগে চয়েজ
না করে তাও ও করলো কেন?
আমিতো অলওয়েজ ওর চয়েজের উপর ক্রাশ খাই এখনো
খাইলাম। (শুভ্র)
>আচ্ছা বাদ দে আর তুই ভুলে যাস না আমার একটা
গার্লফ্রেন্ড আছে সো ওর থেকে আমার চয়েজ অনেক
ভালো আমি নিজে তোর জন্য চয়েজ করে দিবো(রায়হান)
>আচ্ছা যা এখন গিয়ে ওই মেয়েটাকে কিছু বলে আসেক
আমার সর্ম্পকে(অলিন)
>আচ্ছা তোরা থাক আমি ওই মেয়ের সাথে কথা বলতে
গেলাম(রায়হান)
.
.
এইবলে রায়হান দ্রুতগতিতে হাটা শুরু করলো মেয়েটার
দিকে।আর মনে মনে ভাবছে ওদের কাছে যতোই ভাব নি
আমার কিন্তু মেয়েদের দেখলে হার্টবিট বেরে যায়।
প্রথম যেদিন তুলির সাথে কথা বলি সেদিনতো ভয়ে কথায়
বলতে পারছিলাম না।
.
.
.
>হাই(রায়হান)
>হ্যালো(অলিনের ক্রাশ)
>কেমন আছো?(রায়হান)
>জ্বী ভালো,, কি চাই?(অলিনের ক্রাশ)
>না আমার কিছু চাইনা আমার এক বন্ধু তোমার মন চাই,,,,,ও
নাকি তোমার জন্য চেইন খুলে বসে আছে!!(রায়হান)
>কি বললি? বদমাইশ, ইতর,ফাজিল।(অলিনের ক্রাশ)
>আরে আমি বললাম যে আমার বন্ধু তোমার জন্য তার
মনের চেন খুলে দিয়েছে তুমি যখন ইচ্ছা যাইতে পারো।
(রায়হান)
>তো কথাটা ভালো করে বলা যায় না?(অলিনের ক্রাশ)
>আচ্ছা যাহোক ও তোমাকে অনেক পচ্ছন্দ করে তোমার
কোন ফোন নাম্বার থাকলে দাও ওকে দিবো তারপর
তোমরা কথা বইলো(রায়হান)
>না ফোন নাম্বার দেয়া যাবে না আগামীকাল এইসময়
কথা বলতে বইলেন এখানে এসে আমার সাথে(অলিনের
ক্রাশ)
>আচ্ছা বাই(
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:১৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবীপ্রসাদ যাত্রা

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২১


আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। চট্টগ্রামের মোমিন রোডের রুচিশীল বই বিপণি কথাকলির বুকশেলফে চোখ বুলাচ্ছিলাম । হঠাৎ একখানি বইয়ের ওপর এসে থমকে গেল আমার চোখ । "ক্ষুদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×