somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাম্প্রতিক বিশ্ব ও আমরা ব্লগাররা

০৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৯:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




কয়েকদিন আগের ঘটনা।একজন ব্লগার,নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না, যিনি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার কারণে পুলিশের খাঁচায় বন্দি হন।উনার স্ত্রী খুব আফসোস করে বললেন,তার স্বামীকে খুব সাধারণ একটা কারাগারে রাখা হয়েছে, যেখানে চোর,গুন্ডা ও খুনিরা থাকে।তিনি তার স্বামীর বরাত দিয়ে বললেন, যে খুনিটার সাথে উনাকে রাখা হয়েছে, সে একদিন জনাব ব্লগারকে জিজ্ঞাসা করলেন,কিরে তুই নাকি বলদা হইয়ছিস,তুইতো দেখি আমার চেয়েও খারাপ।এই হল একজন ব্লগারের অবস্থা আর বাহিরের দুনিয়ায় ব্লগাররা বলদা নামেই পরিচিত।আর একজন খুনির দৃষ্টিতে ব্লগার তার চেয়েও খারাপ।

আমি ব্লগার হিসাবে বলা যায় একেবারেই শিশু।অবশ্য লেখালেখির জগতেও আমার পদচারণা শিশুতুল্য।তবে পাঠ্যপুস্তুক বহির্ভূত বই পড়ার আগ্রহ অনেক আগ থেকে।তারপরও ব্লগে এসে নিজের কথাগুলো তুলে ধরতে পারছি,এ বিশাল পাওয়া।হয়তো অনেকের কাছে এর আবেদন নেই বললেই চলে, এই নিয়ে আমার আফসোসও নেই। তারপরও সামুর মতো প্লাটফর্ম পেয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করতে পারছি, যেখানে অনেক বিজ্ঞ ব্লগার আছেন যারা পেশাগত জীবনে অনেক বড় বড় কাজ করেন।ব্লগে এসে আরেকটা বড় যে সুযোগ পেলাম তা হল অনেক বিষয়ে, অনেক আঙ্গিকে পড়ার সুযোগ। যা পেপার পত্রিকায় খুব কমই পাওয়া যায়।ফলে ব্লগে আসার পর পত্রিকা পড়া অনেক কমে গেছে।

ব্লগ সম্বন্ধে তাত্ত্বিক আলোচনা না গিয়ে আমি সাধারনভাবে যা বুঝি তা হচ্ছে, ব্লগ হচ্ছে মতামত প্রকাশের একটি ভার্চুয়াল মাধ্যম। যেখানে সকল মতের মানুষ যুক্তিসঙ্গতভাবে তার মতামত প্রকাশ করবেন। আর গ্রহণ করার বিষয় অন্যদের স্বতন্ত্র।এই জন্য ব্লগের লেখা কখনও দলিল হিসাবে বিবেচিত হয় না। তারপরও একজন ব্লগার সামাজিক মানুষ হিসাবে তার নৈতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে,তার লেখা যেন অহেতুক উত্তেজনার উদ্রেক না করে এবং মিথ্যা তত্ত্ব দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত না করে।আসলে ব্লগ লেখাটাকে আমি বড় ধরণের বিবেক তাড়িত কাজ বলে মনে করি, যেখানে আর্থিক কোন সুবিধা নেই। হয়তো লাইক,কমেন্ট অনেকের মধ্যে সাময়িক আনন্দানুভূতি সৃষ্টি করে, তা পুরো বিবেচ্য বলা যায় না।

কিন্তু এত কষ্ট বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পন্ডশ্রম বলে মনে হয়। যেমন, লিখতে গিয়ে আমরা অনেক ভুল করি, যেহেতু আমরা পেশাদার না। গত কয়েকমাসের সামুুকে যদি কেউ বিশ্লেষণ করে তবে সামু ব্লগারদের সুধীজনদের কেউ বলদা বললে অবাক হব না।একই বিষয় নিয়ে লেখা হয়েছে কয়েক হাজারবার।আবার এমন কতগুলো বিষয় আশ্চর্যজনকভাবে দু’একটা লেখা ছাড়া আসেই নাই।যেমন:ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। দুইদফা নির্বাচনে কমপক্ষে ৩৫ জন লোক মারা গেছে এবং আহত হয়েছে হাজার হাজার। যেখানে প্রার্থীকে মেরে পেলে ধান ক্ষেতে পেলে দেওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে।এছাড়া যে পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তার যোক্তিকতা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কতটুকু,সে বিষয়ে একটা পোষ্টও পাইনি।অনেকে বলে বসবেন,আপনি লিখতেন,যদিও প্রশ্নটা অবান্তর।তবু বলি,আমি খুব কমই সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে লিখি। কিন্তু সামুতে অনেক ব্লগার আছেন,যারা ক্রিকেট,৮০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি,বায়োমেট্রক্সি পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন,তনু হত্যা, ধর্ষণ, ধর্ষণের প্রতিকার নিয়ে ভাল ভাল পোষ্ট করেছেন।তাদের দেখাদেখি সবাই যেন এগুলোর উপর হামড়ে পড়ল।আরো অবাক করা বিষয়, আমরা বিশ্বগ্রামে বাস করি অথচ ভিয়েতনামের নির্বাচন হয়ে গেল, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, আমেরিকার নির্বাচন এসবসহ বিশ্বের নানাপ্রান্তে ঘটে যাচ্ছে অজস্র ঘটনা।এসবের উপর কোন পোষ্ট নেই। অথচ তামাম দুনিয়ার রাজনীতি, অর্থনৈতিক স্বার্থ, ভূরাজনৈতিক স্বার্থ ওতোপ্রতোভাবে জড়িত।বলুন,আমরা বলদা না, কি?

পরিশেষে সামু কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করছি।আপনারা কাউকে কোন নোটিশ না দিয়েই দেখা গেছে ব্লগটি বন্ধ করে দেন। আমি আগেই বলেছি, এখানে যারা আসেন অধিকাংশ প্রফেশনাল নয়। আর আপনারা বিষয়ভিত্তিক পোষ্টের বিষয়গুলো পরিবর্তন করুন।২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলকে এখনও বিষয়ের অন্তর্ভূক্ত রেখেছেন।এর পরিবর্তে খেলাধুলা একটা বিষয় রাখুন।নেপালের ভূমিকম্প না রেখে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয় করুন।সাহিত্য,মতামত,সৃজনশীলতা,বিনোদন, বিজ্ঞান,ধর্মসহ মোলিক জায়গাগুলোকে বিষয় নির্ধারণ করুন,সেভাবে নির্বাচিত পোষ্টের কার্যক্রম পরিচালনা করুন।আর নির্বাচিতের নিচে আরো একটা টপিক দিন সাম্প্রতিক বিশ্ব,তাহলে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো নিয়ে অনেকে লিখবে, সেগুলোর বিশ্লেষন করবে, না হয় আমাদের সচেতন সমাজ হুজুগে থেকে যাবে।আশা করি, সামু কতৃপক্ষ এই ক্ষুদের কথাগুলো ভেবে দেখবে।তাহলে সামু ব্লগ হয়ে উঠবে চিন্তার এক উজ্জল ও উর্বর ভার্চুয়াল মাধ্যম।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৯:৪৩
১২টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রধানমন্ত্রী বিদেশে, আইনও কি সঙ্গে নিয়ে গেছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০৬


প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে গেলেই দেশ অশান্ত হয়ে ওঠে । সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে কেন? প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলেই কিছু নেতাকর্মী যেন নিজেদের দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪


৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তখন

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

তখন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তখন আলিফ লায়লা হতো
দেখতাম বিটিভিতে বাংলা মুভি
মিনা কাটুন, হারকিউলিস, রবিন হুড
নাটক, ইত্যাদি, বেশ আনন্দ পেতাম।
খেলাধুলা করতাম বন্ধুদের সাথে
বিবিধ রকম, সবসময় থাকতাম প্রাণবন্ত!
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাদের
একটি সাদা-কালো টিভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×