রক্ত জমাট নিথর দেহ মরন খাটিয়ায়,
সোনামুখ খানি, তুলা গুজে রাখা নাসিকা ছিদ্রদ্বয়,
লতানো শরীর সাদা কাফনে মুড়িয়ে রেখেছে কেন?
অমন দেহে লালশাড়ি ব্যাতিকে যাচ্ছেতাই লাগছে যেন।
হাত ঝুম-ঝুম চুড়িতে সাজিবে,
মেহেদীর নকশা দুদিনের পুরনো, এমনইতো মনে হয়।
চোখের কাজল কোথায় ভাসিলো,
লাল টুকটুক হাসিহাসি মুখ এতটা শুভ্র আগেতো দেখি নাই!
কোথায় একটু হেসে উঠবে মুক্তো চমকপ্রদ,
ওমা! এত অভিমান আগে জানতাম নাতো।
এই যে দেখ লাল-নীল ফিতা আরো অনেক কিছু,
এমন সাজে মাত করবে গিলমান আছে যত।
অনেক সাধের বোনটি আমার কথা কইছে নাকো,
বোনটি আমার রাগ করেনা, কতদুর হতে ছুটে এসেছি দেখ,
এইবার তোর সব আবদার মেটাবো মনের মতো,
একদিন তুই গলা জড়িয়ে বলেছিলি নেকি কন্ঠে,
'ভাই, রুপোর নূপুর এনে দেবে? '
অমন কচি মুখ দেখেও সেদিন পারিনি দিতে হাতে তুলে,
কোথায় যেন পালিয়ে গিয়েছি দু মুঠো ভাতের খোঁজে,
এমন ভাগ্যের বোন যেন আর কারোর না জোটে।
কি করে আজ ভাত তুলে নেব, চালান দেব পেটে?
যতটুকু হতো খেতাম দুজন একে অপরের হাতে,
কি করে ও থাকবে এখন নিঝঝুম নিরালাতে,
শেয়াল ডাকেও ত্রস্ত হতো, আশ্রয় নিত বুকে,
মা তো গেল সেই হারিয়ে, বোনকে আমার দু বছরের রেখে,
একটা কিছুর আগল ছাড়া মানুষ কেমনে বাঁচে!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৮:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




