somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুশাফ
একজন আম-প্রযুক্তিপ্রেমী। অনলাইনে সময় কাটানোর প্রিয় উপায় প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন নিবন্ধ পড়া। বাংলা ভাষায় প্রযুক্তির উৎকর্ষ ছড়িয়ে দিতে আগ্রহী। পাইরেসিকে নিরুৎসাহিত করি। মনে-প্রাণে বাঙালি। রবীন্দ্রভক্ত এবং বাঙালি সংস্কৃতির একজন ধারক।

ভ্যাট বিরোধী আন্দোলন কেন অমূলক ছিল না

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিক্ষার্থীদের উপর থেকে ৭.৫% ভ্যাট প্রত্যাহার করতে অর্থমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রীর গোয়ার্তুমি কিছুতেই যাচ্ছিল না। একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এটার সুরাহা হতে পারত এবং শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে। এর মাধ্যমে তথাকথিত 'ফার্মের মুরগিরা' একটি সুশৃঙ্খল-সংঘবদ্ধ-অহিংস আন্দোলন করে দাবী আদায় করে নিয়েছে। তোমাদের অভিনন্দন!

বৃহস্পতিবার থেকেই ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনকে কটাক্ষ করে বিভিন্ন কথা চাউর ছিল। সেগুলি এখনও আছে। দ্বিমত থাকাটা অবান্তর না। এই কয়েকদিনে ভোগান্তির শিকার সিংহভাগ মানুষ যখন শিক্ষার্থীদের নীরব সমর্থন দিয়ে গেছে তখন গুটিকয়েক মানুষের দ্বিমতকে পাত্তা দেবার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু দ্বিমতগুলি যখন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের কাছ থেকে আসে, যার প্রায় সবগুলিই ভিত্তিহীন, তখন কিছু জবাব দেয়া জরুরি হয়ে দাঁড়ায়।

আনিসুল হক পুটুনদা, মোজো কাকু কিংবা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম যখন বলেন বাজেট প্রস্তাব হয়েছে জুনে, আন্দোলন এখন কেন, আমি তখন চিন্তা করি শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নেমে আসা আসলেই কতটা জরুরি ছিল। আমি নাহয় নিয়মিত খবরের কাগজ পড়ি না, কিংবা টিভিতে খবর দেখি না, আমার ধারণা ছিল তারা এগুলি করেন। বাজেটে ১০% ভ্যাট প্রস্তাবের পর থেকেই আন্দোলন হয়ে আসছে। শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দিয়েছে, ফেসবুক ইভেন্ট খুলে মানববন্ধন করেছে। খালি তখনও রাস্তায় নেমে গাড়িঘোড়া বন্ধ করে দেয়নি। সে কারণে ঐ আন্দোলনকে উনাদের কাছে আন্দোলন মনে হয়নি। উনাদের কথাতেই স্পষ্ট বাংলাদেশে রাজপথে না নেমে কোনো আন্দোলন করলে সেটাকে আন্দোলন ধরা হয় না। শিক্ষার্থীরা গত কয়েকদিনে সেই কাজটাই করেছে মাত্র।

একটা প্রশ্ন অহরহ এসেছে যে, ওরা কাড়িকাড়ি টাকা টিউশন ফি দিচ্ছে, ৭.৫% ভ্যাট সরকারকে দিতে সমস্যা কোথায়? প্রথম কথাটায় কিছু সত্যতা আছে। দেশের শীর্ষ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালগুলিতে কাড়িকাড়ি টাকাই টিউশন ফি দিতে হয়। ৭.৫% ভ্যাট সেই তুলনায় হয়তো খুব বেশি মনে হবে না। কিন্তু প্রশ্ন এখানে ৭.৫% বা ৪.৫%-এর নয়; ১% ভ্যাট বসালেও এই আন্দোলন পুরোপুরি যৌক্তিক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যখন শিক্ষার্থীদের চুষে খাচ্ছে - যেখানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত, এমনকি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা - সেখানে সরকার শিক্ষার্থীদের পক্ষে কিছু না করে তাদের উপর আরও করের বোঝা কেন চাপিয়ে দিবে? সরকারের উচিৎ ছিল বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আরও শক্ত নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসা; তারা নিজস্ব ক্যাম্পাস, শিক্ষার মানোন্নয়ন কিংবা গবেষণার পিছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া টাকাগুলি ব্যয় করছে কিনা সেটা দেখা; টিউশন ফি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয়া; সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে মনিটর করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে পর্যাপ্ত ক্ষমতা প্রদান করা। এসব না করে সরকার এটাকে শুধু রাজস্ব আয়ের আরও একটা খাত হিসেবে দেখতে চাইলে তো ভুক্তভোগীদের আন্দোলনে যেতেই হবে।

এছাড়া যারা বলে, ওদের টিউশন ফি বাড়ার পরে তো কখনও আন্দোলন করতে দেখি না তারা ঠিকমত খোঁজখবরই রাখে না। ২০০৮ বা '০৯-এ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন-পুরাতন সব শিক্ষার্থীদের কোর্স ফি বাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। পুরাতনরা সেটা মেনে নেয়নি। তারা রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে প্রতিবাদ করেছিল। বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ বন্ধ করে দিয়েছিল কয়েক ঘন্টার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগে পুলিশ এসে কিছু শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারও করেছিল। পরে অবশ্য পুরাতনদের কোর্স ফি আগের অঙ্কে ফিরিয়ে আনতে হয়েছিল। এমনিতে টিউশন ফি যখন বাড়ে তখন শুধু নতুনদের জন্য বাড়ে। নতুনদের খুব একটা প্রতিবাদের সুযোগ থাকে না কারণ তারা টিউশন ফি জেনেই পড়তে যাচ্ছে। তাদের না পোষালে কম টিউশন ফি এর অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে নিতে হবে যারা মানের দিক দিয়ে হয়তো একই রকম ভালো নয়। অনেকে মানের কথা চিন্তা করে বেশি টিউশন ফি এর বোঝা মাথায় নিয়েও পড়াশোনা করে।

সরকার যদি মনে করে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এবং তাদের লাভের অংশ সরকারের প্রাপ্য তাহলে তাদের উপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সেজন্য শিক্ষার্থীদের উপর জুলুম করা যাবে না।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:০৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চুক্তিতে নেই, তবু প্রবাসীদের আশা: NCT দিলেই মিলবে ভিসা ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:০০


জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল, বিগত অনির্বাচিত সরকারের সকল প্রজেক্ট পর্যালোচনা করা হবে। দেশের স্বার্থবিরোধী হলে তা বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু সরকার তো আগের দেখানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুগল এ.আই. - প্রফেশনাল সার্টিফিকেট পেয়ে গেলাম

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৫


বিগত কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কোর্সেরাতে টুকটাক কোর্স করছি, মাঝে মধ্যেই সার্টিফিকেট পাচ্ছি। তবে প্রফেশনাল সার্টিফিকেট কোর্স কখনো করা হয় নি। বলে রাখা ভালো কোর্সেরা ফ্রি নয়, এখানে আপনাকে পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মদিনার মিষ্টান্ন, শ্রী ঘোষের দধি: সম্প্রীতির যে রেখা চোখে পড়ে না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৮



২০২১ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে প্রয়াত লেখক, গবেষক ও বাম রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরকে দেশের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ষাটের দশকে যিনি ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নামে আস্ত একটা বই... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বেগম রোকেয়া, একজন মাদাম কুরী এবং একজন আএলিটা

লিখেছেন নাজনীন১, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০



মঙ্গল গ্রহের রাণী আএলিটা।



রাশিয়ান বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর একটি চরিত্র। ১৯২৪ সালের সাদা কালো ম্যুভিটি বানানো হয়েছে,সায়েন্সফিকশন উপন্যাসটি লিখেছিলেন এলেক্সে নিকোলেভিস টলস্টয়, ১৯২৩।


বাংলাদেশে এক সময়ে বিজ্ঞানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×