বিলুপ্তির পথে দক্ষিণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেঁজুর গাছ
২২ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও উপর্যুপরী কর্তনের ফলে বিলুপ্ত হতে চলে দক্ষিণ বাংলার ঐতিহ্যবাসী খেঁজুর গাছ। খেঁজুর গাছ মূলতঃ এ দেশের একটি মূল্যবান বৃক্ষসম্পদ হিসেবে বিবেচিত। আমাদের রসনা তৃপ্তিতে খেঁজুর গাছ থেকে আমরা প্রতি শীত মৌসুমে পেয়ে থাকি সুস্বাদু গুড়-পাটালীসহ স্বাদে ভরা অনেক রকম খাদ্য।
নবান্ন উৎসবের খাবার প্রস্তুতের অতি প্রয়োজনীয় উপাদান রস বা গুড় আমরা পেয়ে থাকি এই খেঁজুর গাছ থেকে। পিঠা-পুলি-পায়েস রাঁধতে খেঁজুর রস বা গুড়ের কোন জুড়ি নেই। খেঁজুর রস বা গুড় বেশ অর্থকারী ফসল হিসেবেও বিবেচিত। খেঁজুর রস দিয়ে তৈরি সুস্বাদু গুড়, পাটালী বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়ে থাকে। এছাড়া ফল হিসেবে খেঁজুরও বেশ মজাদার ও সুস্বাদু খাদ্য। গ্রাম অঞ্চলে শীত মৌসুমে অনেক পরিবারের অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান হয় এই খেঁজুর গাছ থেকে। অন্যের গাছ বর্গা নিয়ে তা থেকে উপার্জিত গুড় বা রস বাজারে বিক্রি করে বেশ স্বাচ্ছন্দে সংসার চলে অনেকেরই। অতি প্রয়োজনীয় খেঁজুর গাছের রস ও গুড় দিয়ে এত সুস্বাদু খাবার তৈরি হলেও বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী খেঁজুর গাছ। নানা প্রয়োজনে উপর্যুপরী কর্তন করা হচ্ছে খেঁজুর গাছ। কখনও বসতবাড়ি তৈরির উদ্দেশ্যে জায়গা স্বল্পতার জন্য কাটা হচ্ছে খেঁজুর গাছ, আবার কখনও ইটের ভাটার জ্বালানী হিসেবে খেঁজুর গাছ কেটে উজাড় করে দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচরে খেঁজুর গাছ কাটা হলেও নতুন করে এর চারা রোপণের কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। প্রাকৃতিকভাবে যা জন্মাচ্ছে তাও আবার সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ছাগল-গরুতে খেয়ে ফেলছে। যার ফলে বর্তমানে এ গাছের সংখ্যা প্রায় শূণ্যের কোটায় দাঁড়িয়েছে। গ্রাম বাংলার মানুষের অতি প্রয়োজনীয় এই বৃক্ষটি এ ভাবে নির্বিচারে নিধন হতে থাকলে এক সময় ঐতিহ্যবাহী এই খেঁজুর গাছ দক্ষিণাঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই নতুন করে চারা রোপণের উদ্যোগ গ্রহণসহ সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এবং এর কর্তনের উপর বিধি নিষেধ আরোপ করে গ্রাম বাংলার মানুষের অতি প্রয়োজনীয় এই বৃক্ষ সম্পদকে রক্ষা ও সম্প্রসারণ একান্ত আবশ্যক।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
লিখেছেন
করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব...
...বাকিটুকু পড়ুনলিখেছেন
বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭

মানুষ আসলে কী?
Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো...
...বাকিটুকু পড়ুনলিখেছেন
রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২
নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।
আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
লিখেছেন
সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬

এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন...
...বাকিটুকু পড়ুন
ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?
ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের...
...বাকিটুকু পড়ুন