ওকে
হঁ্যাচ্চু
এক বুড়োর ছিলো চার ছেলে। মেয়েও ছিল তার দুটো। ক্রমে ক্রমে ছেলে মেয়েরা বড় হলে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। লোকটি এতদিনে হলো আরো থুরথুরে। শেষ বয়সে এসে তার হঠাৎ প্রশ্ন আসে-আচ্ছা, নিজের হাতে গড়ে তোলা বিশাল খামারটিতো দিয়ে দিতে হবে ছেলে- মেয়েদের। আবার ভাবে, পৃথিবীর এটাই নিয়ম। কিন্তু সে তো এখনো কাজকর্ম করে জীবন বাঁচাতে পারে। এখনই যদি সে সবকিছু দিয়ে দেয় তাহালে তার যে কিছুই থাকবে না। অন্যদিকে তার কাজকর্মও যে থাকবে না কিছু। অথচ সে নিজেই এই খামার চালানোর মতা রাখে এখনো। তাই ভাবে,এখন সন্তানদের খামারটি ভাগ কওে দেওযা ঠিক হবে না।
তারও কদিন বাদে নতুন জিজ্ঞাসা উদয় হয় বুড়োর মনে। তাকে মৃতু্যভাবনা পেয়ে বসে।মৃতু্য তো হবে নিশ্চিত। কিন্তু কবে হবে তার মৃতু্য?
উত্তর পাবে কোথায়। একসময় খোঁজ পেল এক সন্নাসীর। ঘুরতে ঘুরতে গিয়ে পৌঁছাল সন্নাসীর দুয়ারে। জানতে চাইল- দয়া করে বলবেন কি, আমার মৃতু্য হবে কবে?
সন্নাসী তার দিকে তাকিয়ে দেখলেন কিছুটা সময়। তার পর বললেন, তোমার মৃতু্য হবে, তুমি যে সময় তিনটি হাঁচি দেয়া শেষ করবে।
সন্নাসীর কাছ থেকে এই খবর পাওয়ার পর সে চলে এলো আর সময় গুণতে লাগলো। সে খেয়াল করতে থাকলো কখন তার হাঁচি আসে।
একদিন সে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো- রাস্তার ধূলাবালি তার নাক দিয়ে ঢুকতেই হ্যাচ্চু হ্যাচ্চু করে হাঁচি দিলো একটা।
কয়েক মুহূর্ত চোখ বন্ধ করে সে ভাবলো, আর দুই হাঁচি সময় রয়েছে তার জীবনে। তারপরই তাকে মৃতু্য বরণ করতে হবে।
পরেরদিন সে ধান ভাঙ্গানোর জন্য গেলো চাউলকলে। ওখানে তো দুনিয়ার বালু আর তুষ। সবারই নাকের ভিতরে সেগুলো যেতে যেনো হা করে থাকে। বুড়োর নাকেও ঢুকে গেলো কিছু বালু। আর যায় কোথায়। উপরের দিকে চলে গেলো তার মুখ। মনে হয় যেনো সে আকাশে কিছু একটা খুঁজছে। আর ওমনি একটা শব্দ-হঁ্যাচ্চু ।
মারলো একটা হাঁচি।
বুড়ো তো মাটিতে বসে পড়লো। কারণ হিসাব অনুযায়ী আর মাত্র ্একটি হাঁচি তার বাকী রয়ে গেছে। সেই হাঁচিটা দিলেই তার জীবন শেষ।
ইতোমধ্যে চাউল ভাঙ্গানো শেষ হয়ে গেলো । তাকে মিলের ভিতরে যেতে হবে আবার। সেখানে যেতেই আবার এক দফা বালু ঢুকলো তার নাক দিয়ে। ওমনি নাক চুলকাতে থাকলো সে। আর ভাবতে থাকলো হায়রে এই বুঝি আমার শেষ হাঁচি এসে গেলো। যার মানে আমার বেঁচে থাকাটা এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
ভাবতে না ভাবতেই এসে গেলো একটা হাঁচি। হ্যাঁচ্চু হঁ্যাচ্চু করে হাঁচি দিলো ইয়া বড় একটা। তারপর আরেকটা। এভাবে কয়েকটা হাঁচি দিল সে। এত হাঁচি একসাথে দেওয়ার মানে তো খুবই গুওুতর। কারণ তিন হাঁচিতেই যেখানে মৃতু্য হওয়ার কথা সেখানে এতগুলো হাঁচি সে দিয়েছে। তারপরতো বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনাই নেই।
ভাবল দাঁড়িয়ে থেকে মৃতু্য হলে ধপাস করে শব্দ হবে। আবার শরীর থেতলেও যেতে পারে। কেটেও যেতে পারে কোথাও কোথাও। তারচেয়ে বরং শুয়ে থাকলে মৃতু্য হতে কোনো অসুবিধা হবে না। সঙ্গে সঙ্গে সে শুয়ে পড়ল। ভাবলো, এখনই তার মৃতু্য হচ্ছে। সুতরাং নিজে থেকেই শুয়ে যাওয়া ভালো। কিন্তু শুয়ে যেতেই হলো এক কারবার। মিল ঘরের দুনিয়ার তুষ তার শরীর দিলো ঢেকে।
অবস্থা দেখছিলো মিলের মালিক। সে দৌড়ে এলো। তাড়াতাড়ি তার গা থেকে তুষগুলো সরিয়ে নিতে থাকলো।
বেশ কিছু সময় লাগলো তার তুষ সরাতে।
বুড়োকে জিজ্ঞেস করলো, কি হে চাচা , কেমন লাগছে এখন?
বুড়ো তাকিয়ে রইলো। বললো,আমি তাইলে বেঁচে আছি।
মিলের মালিক বললো, দিবি্ব তো আছেন।
বুড়ো এরপর চাউল নিয়ে বাড়ি ফিরলো। আর ফিরতে ফিরতে ভাবল, কেউ বললো, আর ওমনিই কি মানুষের মৃতু্য আসে? জন্ম-মৃতু্যও মালিকতো উপরওয়ালা। আমি তো মরিনি। এক হাঁচি, দুই হাঁচি এমনি করে তিন হাঁচিও তো দিয়ে সারলাম। কই সন্যাসীর উক্তিতো সত্য হল না। মৃতু্য যখন আসবে তখন হাঁচি দিয়ে আসবে না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




