ওকে
ইথিওপিয়ার গল্প
ইঁদুরের বিয়ে
ইঁদুর পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। অনেকদিন পর ওদের ঘর আলো করে সুন্দর টুকটুকে ইঁদুর ছেলের জন্ম হয়েছে। কেউ কেউ মনে করেছে আসলে ছোটকালে সবাইকে দেখতে এমন সুন্দর মনে হয়। বোঝা যাবে কিছু বয়স হওয়ার পর।
কিন্তু যখন ইঁদুর শিশুটি বড় হতে থাকে, সৌন্দর্য যেন আরো বাড়তে থাকে তার । তরুণ হওয়ার পর তো মনে হলো ওকে যেন আলাদা সৌন্দর্য ঢেলে দিয়ে আল্লাহ তৈরি করেছেন।
এভাবে সুন্দর হতে হতে এক সময় সে বিয়ের বয়সে গিয়ে পৌঁছালো। ওর বাবা মা ভাবতে লাগলো এমন সুন্দর ছেলের জন্য কোথা থেকে তারা মেয়ে আনবে। পাড়ার মুরুব্বীদের বলা হলো পরামর্শ দেওয়ার জন্য। তারা শেষ পর্যন্ত বললেন, ও এত সুন্দর হয়েছে যে, তাকে যেন তেন জায়গা থেকে মেয়ে এনে দিলে হবে না। ও বিয়ে করবে সবচেয়ে শক্তিশালী কোনো পরিবারের মেয়েকে। যে নাকি হবে দুনিয়ার সেরা কেউ।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, সবচেয়ে শক্তিশালী পরিবারের মেয়েটা পাওয়া যাবে কোথায়।
মুরুব্বীরাই ঠিক করে দেয়- যাও প্রভূর দরবারে। প্রভূ হলেন দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী। তার পরিবারের কোনো মেয়েকে বউ করে আনা যেতে পারে।
সে অনুযায়ী ইঁদুর পরিবারের প্রবীণ দুইজন গেলো প্রভূর দরবারে।
দরবারে পেঁৗছার পরই প্রভূ ভিতর থেকে হাক দিলেন- কে?
ইঁদুররা বললো, আমরা এসেছি দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর ইঁদুর যুবকের জন্য কন্যা চাইতে। দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী পরিবারের কন্যা চাই আমাদের। মনে করেছি, আপনি হলেন সবার চেয়ে শক্তিশালী। আপনার পরিবার থেকে আমরা একজন মেয়ে চাই।
প্রভূ বললেন, না ভাই আপনারা ঠিক জায়গায় আসেননি। কারণ দুনিয়াতে আমার চেয়েও শক্তিশালী হচ্ছে, বাতাস। তার কাছে যেতে পারেন।
ইঁদুর জিজ্ঞেস করলো, তা কিভাবে?
দেখেননি, বাতাস কেমন দ্রুত সারা দুনিয়া ধূলায় ভরিয়ে দেয়। দেখতে না দেখতে গাছপালা সব দুমড়েমুচড়ে দেয়।
ইঁদুররা তার কাছ থেকে বাতাসের ঠিকানা নিয়ে রওনা হলো।
বাতাসের বাড়ি গিয়ে হাক দিলো।
ভিতর থেকে জিজ্ঞেস করলো, তোমরা কারা? কি চাও এখানে?
দুই ইঁদুর বলল- আমরা দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী কারো পরিবারের কনেকে আমাদের সুন্দর ইঁদুরের স্ত্রী বানতে চাই। আমরা শুনেছি আপনি হলেন সেই ব্যক্তি যে নাকি সবার চেয়ে শক্তিশালী। সুতরাং আমরা ্আপনার পরিবারের কন্যাকে আমাদের সুন্দর ইঁদুরের স্ত্রী বানাতে চাই। আশা করি আপনি রাজী হবেন।
বাতাস বললো, আপনারা ভুল করলেন। আসলে আমার চেয়েও বেশি শক্তিশালী আছে এ পৃথিবীতে।
ইঁদুররা জিজ্ঞেস করলো- কে সে? আমরা তার কাছেই যাবো।
বাতাস তাদেরকে বললো, দেখুন আমি ধূলা উড়িয়ে গাছপালা ভেঙ্গে যখন পাহাড়ের কাছে যাই। সেখানে গিয়ে আমাকে হার মানতে হয়। কারণ পাহাড় আমাকে ফিরিয়ে দেয়। আমি পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খেয়ে আবার ফিরে আসি। তার মানে হচ্ছে আমার চেয়েও শক্তিশালী হলো পাহাড়।
আপনারা বরং পাহাড়ের কাছে যান। পাহাড়ের পরিবারের কোনো মেয়ে থাকলে আপনার সেখান থেকে কোনো মেয়েকে বিয়ে করিয়ে নিতে পারেন।
ইঁদুররা সে অনুযায়ী রওনা হলো পাহাড়ের ঠিকানায়।
পাহাড়ে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়লো।
ভিতর থেকে প্রশ্ন হলো- কে? কাকে চান আপনারা? কি চান?
দুই ইঁদুর জবাব দিলো- আমরা এসেছি সুন্দর ইঁদুরের বাড়ি থেকে। আমাদের ইঁদুর সারা দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর প্রাণী। তার মতো এত সুন্দর আর কেউ হতে পারে কিনা সন্দেহ। সে সুন্দর ইঁদুরের স্ত্রী হিসেবে আমরা দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী কারো পরিবারের কন্যাকে পেতে চাই।
পাহাড় বললো- খুব ভালো কথা। এমন সুন্দর ইঁদুরের জন্য নিশ্চয়ই সবচেয়ে শক্তিশালী কারো মেয়েই দরকার। তবে কথা হলো কি, আপনারা কিন্তু চিনতে ভুল করেছেন।
দুই ইঁদুর একজন আরেকজনের দিকে তাকালো। ভাবলো পাহাড়ের চেয়েও শক্তিশালী আবার কে?
পাহাড় তখন বললো, দেখুন এই যে আমার এত বড় দেহ, তাকে যে ছিদ্র করে দিতে পারে সে কি আমার চেয়েও শক্তিশালী নয়। তার ইচ্ছা হলো, বেস, আমার বুকটাই ফুটো করে দিল।দেখুন আমি কিন্তু কিছুই করতে পারি না। বলুন সে কি আমার চেয়ে শক্তিশালী নয়?
দুই ইঁদুর জানতে চাইলো, কে সে শক্তিধর?
পাহাড় তাদের দেখিয়ে দিল- ঐ যে দেখা যায় তার বাড়ি। আপনারা সেখানে যেতে পারেন।
দুই ইঁদুর রওনা হলো সেদিকে। বাড়িতে গিয়ে কড়া নাড়লো।
ভিতর থেকে হাক শোনা গেলো, কে ?
দুই ইঁদুর জবাব দিল, আমরা এসেছি দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী কারোর মেয়ের খোঁজে। শ্রেষ্ট সুন্দর ইঁদুরপুত্রের জন্য দুনিয়ার মহাশক্তিশালী কারোর কন্যা চাই।
সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে এলো এক ইঁদুর। দুই ইঁদুর তাকে দেখে তো চোখ ছানাবড়া।
ইঁদুর তার স্ত্রীকে ডাকলো, দেখ মেহমান এসেছে। তাড়াতাড়ি শরবত দাও। বসার জায়গা দাও।
দুই ইঁদুরের কাছে সব জানতে পারলো এ ইঁদুর। তার পর বললো, হ্যা, ঠিকই পাহাড় বলেছে। আর আমরা মনে করি আমাদের কন্যার জন্য সেরা যুবক ইঁদুরই দরকার। তাই আপনাদের প্রস্তাবে আমি রাজী হলাম।
সুন্দর ইঁদুরের পরিবারে এলো সুন্দর আরেক ইদুর কন্যা। ঘরসংসার বানালো তারা। সুখেই দিন চললো তাদের।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




