somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রূপকথা-3

০৫ ই এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৮:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুণ্ডুহীন গাড়িচালক
মধ্যরাত। ঘুটঘুটে অন্ধকার। রাজপথ খালি হয়ে গেছে অনেক আগে। ঘরের আলোও নিভিয়ে দিয়েছে মানুষ-ঘুমে যাওয়ার আগে। মৃদু বাতাস বইছিল দনি থেকে। একবারে চুপচাপ সব-সুনশান। এমনি নীরব মুহূর্তকে সঙ্গী করে বসে আছে এক মহিলা। জানালা খুলে অপো করছে- কখন ডাক্তার আসবে। অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা করে সারিয়ে তুলবে।
মোমের আলোয় সে দেখছে তার স্বামী কী কঠিণ যন্ত্রণায় ছটফট করছে। সে তার স্বামীর হাত শক্ত করে আক্রে ধরল। তার ধারণা ভালো করে চেপে ধরলে হয় তো ব্যথার কিছুটা উপশম হতেও পারে। মহিলার হাতের চাপ পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয় তার স্বামী একটু চুপ হয়ে যায। মনে হচ্ছে কিছুটা কমেছে রোগযন্ত্রণা। ধীরে ধীরে স্বামী ঘুমিয়ে পড়ছে। উহঃ আহঃ শব্দ করছে না। স্বামীর যন্ত্রণা কমে যাওয়ার পর তার মনের ইচ্ছাগুলো স্মরণ হতে থাকে। সে এখন চাইছে-ইশ্বর যেন তাকে স্বামীহারা না করেন।
সে ইচ্ছাতে পূরণের জন্যই ডাক্তারের উপস্থিতি খুবই জরুরী।
একসময় তার কানে বাজে ঘোড়ার পায়ের আওয়াজ। তার মানে ঘোড়ার গাড়িতে করে নিশ্চয় ডাক্তার আসছেন। সে অধির আগ্রহে অপো করতে থাকে কখন ঘোড়ার গাড়ি তার ঘরের দুয়ারে এসে থামবে।
মনে হচ্ছে ঘোড়ার গাড়িটা দ্রুতই এগিয়ে আসছে। হয়তো বা দুয়েক বাড়ি দূরে মাত্র। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার বাড়ির সামনে এসে থামবে।
ডাক্তারকে অভ্যর্থনা জানাতে হবে। কারণ এত রাতে তিনি আসছেন। তিনি অন্যের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। এ কাজ করতে গিয়ে তাকে রাতের ঘুম নষ্ট করতে হয়েছে।
মহিলা তাকিয়ে দেখে তার স্বামী সজাগ। স্বামীকে বলে একটু সময়ের জন্য তাকে ঘরের দরজার কাছে যেতে হবে। ডাক্তারকে স্বাগত জানাতে হবে।
এরপর সে ঘরের দরজার কাছে যায়। ও মা, অন্ধকার রাতেও সে দেখতে পায় এক আজব কারবার। ঘোড়ার গাড়িতে ঘোড়া আছে। গাড়ির চালকও আছে। তবে সেই চালকের মুণ্ডু নেই।
এ অবস্থা দেখলে কী আর কারো হুশ থাকে?
এক দৌড়ে সে চলে আসে স্বামীর কাছে। স্বামীকে বলে- হায়! কোথায় ডাক্তার।
স্বামী জানতে চায়, ঘোড়ার গাড়ি কি ঠিকমতো এসেছে?
মহিলা চুপ করে থাকে। আর ভয়ে কাঁপন ধরে তার।
স্বামী তাকে সাহস দেয়। স্মরণ করিয়ে দেয়, তোমাকে অনেক আগেই বলেছিলাম, ঘরের দুয়ারে যদি ঘোড়ার গাড়ি থামে আর সে গাড়িতে যদি ধরহীন মানুষ থাকে তাহলে জানবে আমার মৃুতু্যদূত সেই মুণ্ডুহীন মানুষ।
স্বামী মহিলাকে বলে, তুমি আর খামোখা চেষ্টা তদবির করো না। কারণ আমার যমদূত চলে এসেছে। সে আমাকে নিয়েই যাবে।

মহিলা বুঝতে পারছে না এ অবস্থায় কী করবে । কয়েকবার সে দরজার দিকে তাকাতে চেষ্টা করলো। কিন্তু সাহস হলো না।
এদিকে তার স্বামী যেন কুমড়ো লতার মতো নেতিয়ে পড়ছে। চোখ দুটি টেনে রাখতে পারছে না। মনে হচ্ছে ঘুম যেন জেকে ধরেছে তাকে। কিন্তু এটা যে ঘুম নয় তা তো আর বুঝতে অসুবিধা হয় না। কারণ চোখ বুঝে আসার সঙ্গে সঙ্গে তার বোধশক্তিও কমে আসছে। দেখতে না দেখতেই তার চোখ বন্ধ হয়ে এল। চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো দুফোঁটা।
মহিলা বুঝতে পারল, সবই শেষ।
কিন্তু ডাক্তারকে জানিয়ে দেওয়া দরকার যে, তার স্বামী ইতোমধ্যে মৃতু্য বরণ করেছে। স্বামীর মৃতদেহ পেছনে ফেলে সে রওনা দেয় পাশের ঘরেও। ওখানে টেলিফোন রয়েছে।
ও মা দেখে কি, তার স্বামী দরজার সামনে দাঁড়ানো।
তাহলে বিছানায় কে? দ্রুত তার চিন্তা হলো, হয়তো সে মরেনি। এবং ওঠে দরজার কাছে চলে গেছে। তাই সে আবারো বিছানার দিকে তাকালো।
ও মা বিছানায় তার স্বামীর মৃতদেহ পড়ে আছে।
এমন অবস্থায় কার খারাপ না লাগবে। সে ভাবতে থাকে। হায় কী হবে আমার। কী দেখছি এসব?
ঘরের এদিক ওদিক তাকাতে থাকে মহিলা। কানে বাজে তার স্বামীর কণ্ঠ। বলছে- বিদায় । আমি চলে যাচ্ছি। তুমি সুখে থেকো। আমার এখন আর কোনো যন্ত্রণা নেই। যন্ত্রণা হবে না আর কোনোদিনও। বিদায় বন্ধু বিদায়।
তার কানে বাজল ঘোড়ার পায়ের শব্দ। কিন্তু সাহস পাচ্ছিল না ঘরের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়ার। তবে সে বুঝতে পারছিল, তার স্বামী মুণ্ডুহীন গাড়ি চালকের সাথেই চলে যাচ্ছে।
তবে এটা ঠিক এখন তার স্বামীর কোনো যন্ত্রণা নেই। সে আর কোনোদিনও যন্ত্রণাবিদ্ধ হবেও না। কিন্তু মহিলার মনে যন্ত্রণা রয়েই গেলো।
যন্ত্রণা তাকে কুঁকড়ে খেতে থাকে। কারণ এ যন্ত্রণায় তার মনকে বিষিয়ে দিয়েছে। সে যন্ত্রণা ভোগতে থাকবে। প্রথম যন্ত্রণা সে তার স্বামীকে হারিয়েছে। দ্বিতীয় যন্ত্রণা হচ্ছে- সে রাতের যেসব দৃশ্য সে দেখেছে তা কাউকে বলতে পারবে না।
কারণ সবাই বলবে- এগুলো সবই কল্পনা। স্বপ্ন। কারণ তার স্বামীর মৃতু্যকে সে সহজে মেনে নিতে পারেনি।


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×