চোখের বদলে চোখ নেবেন না। গান্ধীর প্রদর্শিত পথ ধরুন। এ আহ্বান জানিয়েছিলেন- 2001 সালের টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগনে হামলার ঘটনায় নিহত একজনের স্ত্রী। সাত বছরের পুত্র ও 5 বছরের কন্যার মা এবং স্বামীহারা এ মহিলা শিকাগো ট্রিবিউন পত্রিকায় এ আবেদন জানিয়েছিলেন। তিনি একইসঙ্গে সবাইকে ভারতীয় নেতা মহাত্দ্মা গান্ধীর পথ অনুসরন করার জন্যও পরামর্শ দিয়েছিলেন। দহৃরদেশ আমেরিকার এক নারী যিনি জীবনেও গান্ধীকে দেখেননি, যিনি জীবনের বড় সম্পদ হারিয়ে দিশেহারা, তাঁর এ অনুভূতির বিষয়টি অবশ্যই আমাদের ভাবিয়ে তোলে। দেখা যায়, আজকেও অনেক সমস্যা সমাধানের পথ হিসেবে সামনে চলে আসে ভারতীয় নেতার নাম। তার আদর্শ এখনও অনুসরণীয়। তিনি এভাবেই অতীত ও বর্তমানের মধ্যে যোগসূত্র রচনা করেন।
নাইন ইলাভেনের কয়েক মাস পর একটি আলোচনায় অংশ নিয়েছিলাম আমি। সেখানে কংগ্রেসম্যান মার্ক কির্কও বিশেষ আমন্ত্রিতদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। ঐ অনুষ্ঠানে আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম অধিকাংশ আমেরিকানই ঐ মহিলার অনুভূতির সঙ্গে একমত কিনা। তিনি মত প্রকাশ করলেন, গান্ধী ভাগ্যবান। কারণ তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল ব্রিটিশ। কিন্তু আজকে কী হচ্ছে? আলকায়েদা কিংবা তালিবানদের মোকাবেলা করার জন্য কি গান্ধী মতবাদ সফল হবে?
কিছু লেখক ও বুদব্দিজীবী পশ্চিমের রাজনৈতিক নেতাদের মতোই বলেন_ ওরা আমাদের গণতান্ত্রিক ধারাকে সহ্য করতে পারে না। আমরা সফল, আমাদের প্রাচুর্য আছে তাই তারা মানতে পারে না। আমাদের জীবনযাত্রার সাথে তাদের সামঞ্জস্য নেই।
' ওরা আমাদের ঘৃণা করে কেন'_ এ শিরোনামে 2002 সালে ফরিদ জাকারিয়া নিউজউইক-এ প্রচ্ছদ প্রতিবেদন লিখেছিলেন। পশ্চিমা দুনিয়া এবং মুসলিম বিশ্বের মধ্যে যে বিভেদ রয়েছে তা উন্মোচন করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। পশ্চিমের নেতারা এ মতানৈক্যকে কমিয়ে আনার ব্যাপারে তেমন কোনো উদ্যোগই নেননি।
মত ও পথের ভিল্পম্নতা কি সভ্যতার পরিপন্থী কোনো কাজে পরিচালিত করতে পারে? বহু ধর্ম, বহু ভাষা,বহু সংস্ট্কৃতির সুস্ট্থ ধারাকে কি আমরা টিকিয়ে রাখতে চাইব না? বিশ্বাসের ভিল্পম্নতা আছে, কিছু নির্দিষদ্ব মৌলিক বিষয়ের ওপর এগুলো প্রতিষ্ঠিত। সবকিছুর মহৃল কিন্তু এক জায়গায়। সব ধর্মের মহৃল কিন্তু একই। যেমন একটি গাছের মহৃল এক জায়গায় থাকে। গাছের ডালপালা যেমন অনেক থাকে, তেমনি ধর্মও ভিল্পম্ন ভিল্পম্ন হয়ে থাকে।
গাল্পব্দী বলেছেন-সত্যাগ্রহের মহৃল নিহিত রয়েছে প্রার্থনার মধ্যে। সত্যাগ্রহী ঈশ্বরে বিশ্বাসী। নির্ভর করেন ঈশ্বরের শক্তিতে। তাই তিনি অশুভ শক্তিকে মোকাবেলা করার জন্য ঈশ্বরের সাহায্য কামনা করেন। সেখানেও তিনি নির্ভর করেন ঈশ্বরের ওপর। তার মতে সত্যাগ্রহ আমাদের বাঁচতে যেমন শিা দেয় তেমনি মরণের কথাও মনে করিয়ে দেয়।
গাল্পব্দী মনে করতেন, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যেমন রুটির প্রয়োজন হয়, তেমনি তাকে প্রার্থনাও করতে হয়। দেহের জন্য যেমন খাদ্য প্রয়োজন তেমনি মনের জন্য প্রার্থনা প্রয়োজন। আজকে যে দ্বন্দ সারা দুনিয়ায় চলছে, তার জন্য দায়ি করতে হবে প্রকৃত প্রার্থনার অভাবকে। স্ট্বীকার করতে হবে- প্রার্থনা কোনোদিনও বিফল হয় না। দৃঢ় বল্পব্দনের জন্য সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে প্রার্থনা।
পৃথিবীকে প্রার্থনার বল্পব্দনে আবদব্দ করার জন্য কেউ কি চেষদ্বা করেছে? গাল্পব্দী মনে করতেন তার বিশ্বাস ও আদর্শ বিশ্বব্যাপি প্রযোজ্য। তিনি বলেছেন, আমার ধমের্র ( অহিংস, বিশ্বাস ও ত্যাগ) কোনো ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারিত নেই। আমি যদি আমার বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি তাহলেই ভারতের প্রতি আমার ভালবাসা প্রমাণিত হবে। গাল্পব্দী লিখেছেন- আমি যেসব পদপে নিয়েছি এগুলো কোনো স্ট্বপম্নদ্রষদ্বার কাজ নয়। বাস্টস্নব জগতের জন্য বাস্টস্নবসল্ফ্মত রাজনৈতিক প্রশম্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। রাজনৈতিক পদব্দতি হিসেবে সেগুলো পরিবর্তন পরিবধর্্বন হতে পারে।
মহাত্দ্মা গাল্পব্দীর মতে ঈশ্বর এবং সত্যের মধ্যে যে নিবীড় সমঙ্র্ক রয়েছে তা যদি আমরা বিশ্বাস করি তাহলে আমাদেরকে সৃষদ্বির প্রতি উদার থাকতেই হবে। তখনই সল্ফ্ভব হবে সৃষদ্বিকে ভালবাসা। সত্যই শ্রষদ্বা। অন্যভাবে বলা যায়- সত্যই হলো অহিংসা। সত্যের শক্তি দেখতে হলে একজনের সৃষদ্বিকে ভালবাসতে হবে। ধর্ম রাজনীতিতে কিছু করতে পারে না বলে যারা মনে করেন আমি জানিনা তারা ধর্ম বলতে কি বোঝান?
এটাইতো এখন বড় সত্য হয়ে দেখা দিয়েছে। আজকে তো বড় করেই বলা হচ্ছে যে ধর্ম রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে বলেই যতসব অনাসৃষদ্বি দেখা দিয়েছে।
গাল্পব্দী আজ বেঁচে থাকলে সংঘাতময় পৃথিবীকে কিভাবে দেখতেন? এটা নিশ্চিত যে তিনি চুপ করে থাকতেন না। তিনি নিজে উদাহরণ তৈরি করতেন । সব ধর্মের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার চেষদ্বা তিনি করতেনই। সামঙ্্রদায়িক সমঙ্্রীতি প্রতিষ্ঠার পদপে অবশ্যই নিতেন। সবধরনের অবিচারের বিরুদব্দে তিনি সোচ্চার হতেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ল্যে তিনি কাজ করতেন, নারী-পুরুষ বৈষম্যকে নিরসনকল্কেপ্প সর্বোময় প্রচেষদ্বা চালাতেন, রাজনৈতিক স্ট্বাধীনতার পাশাপাশি মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনেরও চেষদ্বা করতেন তিনি।
সুষ্ঠু ধারা চালুর জন্য তিনি হটকারী মনোভাব তিকর। চীনের নেতা দেং জিয়াও পিং যেমন মনে করতেন_ ইঁদুর মেরেছে যে বিড়াল সে বিড়ালের রং কালো না সাদা তা দেখার প্রয়োজন নেই। বিড়াল ইঁদুর মেরেছে এটাই বড় কথা। সে মতে বিশ্বাস করতেন না গাল্পব্দী। তিনি মনে করতেন- সেই উত্তম ব্যক্তি যে, অন্যের ব্যথা অনুভব করে এবং অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




