ঢাকার কয়েকটি ক্লিনিকে ঘোড়ার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল আমার। আশ্চর্যজনক অভিজ্ঞতা হলো আমার।
গ্রিনরোডের একটি ক্লিনিকের কথা দিয়ে শুরু করিঃ
রাত দশটার পরে রোগি নিয়ে ভর্তি করাতে গেলাম। সাধারণ বিছানা ছাড়া খালি নেই। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলল, পরেরদিন কেবিন পাওয়া যাবে । রাজি হয়ে গেলাম।
কিন্তু সাধারণ বিছানার নমুনা যা দেখলাম তাতে চক্ষু চরকগাছ। একসময় এটা ছিল রান্নাঘর। ওখানে 4টা বিছানা পাতা। জানালাগুলো কাগজ দিয়ে লেপ্টে রাখা হয়েছে। দুটি বিছানার জন্য একটি ওয়াল ফ্যান। বিছানা থেকে বিছানার দুরত্ব মাপা সম্ভব নয়। কারণ একটির গায়ে আরেকটি লেগে আছে প্রায়।
রোগী নিয়ে ঢুকে সঙ্গে সঙেগ বেরিয়ে আসতে হলো। কারণ সেখানে ঢুকেই বমির উদ্্বেগ হলো রোগীর সাহায্যকারী হিসেবে উপস্থিত আমারো।
ব্যাপারটা কি? এই ক্লিনিকের জন্য কোনো চিকিৎসক কিভাবে রেফার করতে পারেন।
চিকিৎসক হলেন মিরপুর রোডের কোণায় তিন নম্বর রোডের উলেটাদিকের এক চেম্বারের অধিপতি। তিনি আবার একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক পত্রিকাও প্রকাশ করে থাকেন।
চিন্তা করলাম রিসিপসনেই রেখে দেব রাতটা। বললাম একটা টেবিল ফেনের ব্যবস্থা করতে পারে কিনা। কতর্ৃপক্ষ বলল, না।
অতঃপর রোগী নিয়ে বাসায় গমন।
ছিল হরতাল। তাই সেই ক্লিনিকের একটি এম্বুলেনস নিতে হলো। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলো। যাত্রাবাড়ি পর্যন্ত যেতে ঐ এম্বুলেনসটি ভাড়া নিল 1100টাকা। উপায় ছিল না সেসময়। কারণ দিনের বেলায় হরতাল থাকার কারণে গাড়ি ছিল না রাস্তায়।
ভাবলাম, চিকিৎসা না করিয়েই বোধ হয় মরতে হবে এদেশের মানুষকে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



