গতকাল শনিরআখড়া গিয়েছিলাম পারিবারিক প্রয়োজনে। তখন সকাল 10-30টা। গরম আবহাওয়া যেন মানুষকে আরো উত্তপ্ত করে দিয়েছে। হাজার হাজার মানুষ ছুটে যেতে থাকে রাস্তার দিকে। মূল কেনদ্র শনিরআখড়া ব্রিজ হলেও যাত্রাবাড়ি থেকে শুরু করে শনিরআখড়াগামি অংশে মানুষের ঢল নামে তখন। আর উত্তপ্ত মানুষের উত্তেজিত চেহারা দেখলাম দূরে থেকে।
ছুটছে মানুষ। শনিরআখড়া ব্রিজ থে েক প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ছিলাম আমি তখন। গোবিন্দপুরে। দেখলাম সেখান থেকে মানুষ ইট নিয়ে ছুটছে ব্রিজের দিকে।
যে লোকটি ছুটছে সে কিন্তু জানে ব্রিজের কাছে হাজার হাজার পাথরের টুকরো আছে। সেখানে ইচ্ছা করলে সে এই টুকরা ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু তার উত্তেজনা এতই বেশি যে সে ঐ চিন্তা করাটাও ভুলে গেছে।
উত্তেজনার কারণ- সে শুনেছে স্থানীয় এমপি নাকি পুলিশকে বলেছে গুলি করার জন্য।
এ কথা ছড়িয়ে পড়ার পর প্রথম শ্লোগান শুনলাম। ঢাকার কানসাট শনিরআখড়া শনিরআখড়া। ঢাকার কানসাট গোবিন্দপুর গোবিন্দপুর।
মানুষ তখন মরিয়া হয়ে উঠেছে।
অবাক করা কাণ্ড দেখলাম তার পর।
পিঁপড়া যেমন চিনি নিয়ে মিছিল করে বাসার দিকে, তেমনি সেখানকার মানুষ স্থানীয় এমপির পুত্রর গুদাম ভেঙ্গে জিনিসপত্র মাথায় করে নিয়ে যেতে থাকে।
যারা দেখছে এ কাজ, তারা একজনও বাধা দিচ্ছে না। ভাবটা এমন যেন পাবলিকের মালই পাবলিক নিয়ে যাচ্ছে কার কি বলার আছে।
তার পর দেখলাম, মানুষ মিছিল করছে, আর সেই মিছিলের সামনে হাঁটছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
মানুষ মিছিল করছে, আর নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে হাঁটছে পুলিশ। কখনো মিছিলকারীরা উত্যক্ত করলে পুলিশ চরম ধৈর্যধারণ করছে। পিছু হটছে তারা।
মনে হলো জনতার বিজয়ে যেন তারাও অংশিদার।
বুঝতে পারছিনা এই আগুন কি নিভবে অচিরেই?
সর্বশেষ= একটু আগে ফোন করলাম শনিরআখড়ায় একজনের বাসায়। গত রাত থেকে সেখানে অসংখ্য গাড়িতে করে পানি বিতরণ করছে। বেলা সাড়ে 4টাতেও পানি বিতরণ চলছে।
মন্তব্য করছে- মানুষ, এক মাইরে পানি আইছে, আরেকবার মাইর দিলে বিদু্যৎও আইব। আর ঐসময়ও বিদু্যৎ ছিলনা শনিরআখড়াতে। আর আমি যেখানে আছি সেখানেও চলছিল জেনারেটর।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



