somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসাম্প্রদায়িক ওরুস

০৬ ই মে, ২০০৬ সকাল ৯:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই হাত থেকে ওই হাত, এমনি করে আগুন চালাচালি হলো কিছুটা সময়। জ্বলে উঠলো শত শত মোমবাতি, কয়েক মুহহৃর্তের মধ্যে। জেনারেটর অকার্যকর হওয়ার পরও তাই আলোয় ঝলমল করে ওঠলো হাজার বিশেক মানুষের রাতের জমায়েত। মাইত্রেক্রাফোন কাজ না করলেও মুর্শিদী কিংবা কাওয়ালী গান চলল অবিরত। বল্পব্দ হয়নি জিকির। বড় জোড় মিনিট পনের। তারপর বিদু্যৎ এলো আবার। ঝলসে ওঠলো অর্ধ কিলোমিটারব্যাপী উরশের এলাকা। সেইসঙ্গে জেনারেটরের উদ্ভট শ্বন্ধও গেলো মিলিয়ে । মেতে ওঠলো রাতের ধামতি। যার শুরু ভোর থেকে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনার কাছে নুরিতলা সদ্ব্যান্ড থেকে উত্তরে তিন কিলোমিটার রাস্টস্নার পুরোটাতেই চলেছে সে মিছিল। রাতেও থামেনি। উত্তরে দেবিদব্দার কিংবা পহৃর্বে কুমিল্ক্না সবখানেই যেন কেউ না কেউ মুখ রেখেছে ধামতির দিকে। কেউ আসছে, কেউ যাচ্ছে। কারো হাতে গরু মহিষ কিংবা ছাগল, কারো হাতে হয়তো ঢোল, করতাল কিংবা একতারা। বিউগলেও বাজছে সুর কোথাও কোথাও। সারা পথেই শোনা যাচ্ছে বাবা ধামতিপুরির নামে জয়ধ্বনি।
সমঙ্্রতি অনুষ্ঠিত তিনদিনব্যাপি উরশের বর্ণনা দেওয়া যায় এভাবেই। কিন্তু এই উরশের কিছু আলাদা দিক চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে এখানে সর্বধর্মীয় একটা রূপ দেখা যায়। হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে এখানে জমায়েত হয় হাজার হাজার মানুষ। উলুধ্বনিও শোনা যায় মুর্শিদী মারফতি গানের পাশাপাশি। ভক্তি করছে মুসলমান মাজার জিয়ারত করে। হিন্দুরা ভক্তি করছে নমস্ট্কার জানিয়ে। খেলনার বাঁশীর সঙ্গে বিউগল কিংবা সানাই যেমন বাজে তেমনি ঢোল করতাল আর একতারারও অভাব নেই। বেতার টেলিভিশনের শিল্কপ্পীদের কণ্ঠে যেমন সঙ্গীত প্রচারিত হচ্ছে, তেমনি জাত শিল্কপ্পী বাউলের কণ্ঠেও উচ্চারিত হচ্ছে, সাহ শুয়া'র নামে রচিত হরেকরকমের সঙ্গীতমালা।
বাউল জমায়েত হিসেবেও বেশ বড়ই বলতে হবে। ফকিরি গানের জলসা জমে ওঠে প্রথম দিন থেকেই। মানুষ আসে চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে সিলেট পর্যনস্ন বিশাল এলাকার অনেক জায়গা থেকে। এখানকার আলাদা বৈশিষদ্ব্য আছে একটা। বিভিল্পম্ন গ্রুপে আসা ভক্তরা নিজেরাই নিজেদের আসর মাতিয়ে রাখে। নিজেরাই নিজেদের খাবার দাবারের ব্যবস্ট্থা করে। জিকির আজকার করে নিজেদের মতো। মাজার কমিটির খাবারের দিকে তারা নির্ভর করে কম। তবে নিজেদের আনা গরু মহিষ কিংবা ছাগলের চামড়া পায় মাজার কতর্ৃপ। তাদের খাবারের কিছু অংশও তারা দিয়ে দেয় মাজার কমিটির হাতে। মাজার কমিটিও সেগুলো বিতরণ করে সাধারণ ভক্তদের মধ্যে। সেগুলো কাফেলা বহির্ভুত ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। অত্যনস্ন সুশৃংখল পরিবেশে সেসব চলে। অথচ এখানে কোনো প্রকাশ্য গাইড নেই। কেউ নির্দেশ করছে না কোনটা হবে কোনটা হবে না এমন বলে।
সারি ধরে বানানো ঘরের হেন জায়গা নেই যেখানে আসর বসেনি জিকির কিংবা গানের। আমতলি, জামতলি কিংবা পাশের জমির পুরোটাই দখল করে রেখেছে হাজার ভক্তের দল। মহৃল মাজারের পশ্চিমে ও পহৃর্বে রয়েছে আরো কিছু ভক্ত'র কবর। সেখানেও পড়েছে মোমবাতির আলো। সেখানেও জ্বলছে আগরবাতি।
বিরাট এলাকাজুরে বসেছে মেলা। গ্রামীণ সামগ্রীর পাশাপাশি শহুরে খেলনাপাতির ঘাটতি নেই। গ্রামীণ মেলার ঐতিহ্য নিয়ে মুড়ি মুরকিরও পসরা সাজানো হয় মেলায়। স্ট্বাভাবিক কারণেই প্রচুর শিশুকিশোরেরও জমায়েত হয় সেখানে।
কিন্তু মাজার প্রাঙ্গনে বড় বড় গাছগুলোর মাথায় উড়নস্ন লালসালু পতাকাগুলো দেখে ভয় হয়, কখন না জানি পতাকার রঙ্গে রঞ্জিত হয়ে যায় ধামতীপুরী সুয়াপীরের পবিত্র মাটি। ভয় হচ্ছিল সেখানকার নির্লিপ্টস্ন অবস্ট্থা দেখে। হাজার হাজার মানুষের এই জমায়েত, অথচ পুলিশী তৎপরতা নেই। গ্রাম্য চৌকিদার আর শহৃণ্য হাতে কিছু ভলান্টিয়ার এখানে ওখানে ঘুড়ছে। ভয় হচ্ছে, ওখানে যদি কোনো জঙ্গিপনা আঘাত করে বসে।
মাজার কমিটির লোকজন স্ট্থানীয় চেয়ারম্যানের কথা বললেন। দেখা গেল চেয়ারম্যানও জিকিরে মত্ত। কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়ে তার মধ্যেও কোনো উদ্বিগ্গম্নতা দেখা গেল না। বিশ্বাস আর বাস্টস্নবতা এক নয়, তারা বুঝতে নারাজ। এবার তাদের বিশ্বাসের জয় হয়েছে। আগামীতেও কি তেমনি চলবে? একটু সাবধান হতে দোষ কোথায়।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯



বিএনপি সরকার দেশে ক্ষমতায় আসতে না আসতেই দেশে প্রতারকের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
প্রতারক সব আমলেই ছিলো। কিন্তু বিএনপির আমলে যেন প্রতারকের উৎসব শুরু হচ্ছে। দেশে বেড়ে গেছে মারামারি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বর্ণামতি সেতু’ থেকে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ৩০ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯



আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে একটা নদী বয়ে গেছে। তার একটা আদুরে নাম আছে, ‘স্বর্ণামতি’। কে, কবে, কেন নদীটির এ নাম দিয়েছে, তা আমার অজানা। তবে নামটি আমার খুবই প্রিয়। এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষড়যন্ত্রঋতু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:২৯

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সারাবছরই ঐক্যের ঋতু, এখানে রাজনীতিতে শত্রু না থাকলে মিত্র টেকে না। যতদিন হাসিনা ছিল, স্বাধীনতাবিরোধীরা ছিল একটি সুখী পরিবার। বাম জানত ডানকে ঘৃণা করতে হয়, কিন্তু আপাতত স্থগিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পছন্দের বাংলা গানগুলো

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১:১১


অনেকদিনের ইচ্ছে পছন্দের বেশকিছু গান নিয়ে একটা পোস্ট দেব। দেওয়া হয়নি, কারণ, বিষয়টা সময়সাপেক্ষ। আজ হুট করে বসেই পড়লাম। রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুলগীতি, লালনগীতিসহ নানান ধরনের গানের একটা তালিকা করছি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×