যুক্তরাষ্ট্র বসবাসকারী প্রায় সোয়া কোটি অভিবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে প্রচণ্ড। সেই উত্তেজনা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। বিশ্ব শ্রমিক দিবসের রাজপথ দেখে তাই বলেছে সেখানকার মানুষ। এ উত্তেজনা বৈধভাবে বসবাসকারী বাকি প্রায় সাড়ে তিন কোটি অভিবাসীকেও ছুঁয়ে গেছে। তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বিশেষত এইচআর 4437 বিলের কারণে। হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভে এ বিলটি উত্থাপিত হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্নঅঞ্চল থেকে আসা অভিবাসীরা অনিশ্চিত অবস্থ্থায় পড়েন।
যুক্তরাষেট্রর অর্থনীতিতে এ অভিবাসীদের অবদান বিশাল। নাগরিক সেবায় তারা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছেন। সেখানে যে বহুজাতিক সাংস্কৃতিক সম্মিলন ঘটেছে, তার পেছনেও এ অভিবাসীদের অবদান প্রায় একচ্ছত্র। বিলটি পাস হওয়ার পর এ বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবন যে অনিশ্চিত অবস্থর দিকে ঝুঁকে পড়ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
অভিভাসীরা মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র কতর্ৃপক্ষ তাদের অবদানকে অস্বীকার করতে চাচ্ছে। তাদের এ ােভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সম্প্রতি। তারা চাইছে নাগরিকত্দ্ব প্রদানের সুযোগ যেন বন্ধ না হয়। সীমান্ত সিল করে দেওয়ার মতো কোনো পদপে যেন না নেওয়া হয়।
এ বিক্ষোভে অভিবাসীদের সন্তানারাও বেরিয়ে এসেছে ঘর থেকে। হাজার হাজার মানুষের এ মিছিল সেখানকার মার্কিন নাগরিকদেরও অবাক করে দিয়েছে। তাদের এ অবাক হওয়ার পালা শুধু মিছিলের দিকে তাকিয়েই নয়, তারা অবাক হয়ে গেছে তাদের অর্থনীতিতে এ অভিবাসীদের অবদানের কথা নতুন করে দেখতে পেয়ে। এর আগে তারা হয়তো এতটা তলিয়েও দেখেনি অনেকেই।
অভিবাসীদের সবাই যখন রাস্তায় নেমে যায় তখন যুক্তরাষ্ট্রর নাগরিকদের দেখতে হলো তাদের খামারবাড়িগুলো থেকে কর্মীদের বিশাল অংশ চলে গেছে কাজ ফেলে রেখে। নির্মাণ শ্রমিকদের খুবই সামান্য দেখা গেল কাজের মধ্যে রয়ে গেছে। খাবার দাবারের দোকানগুলোতে কর্মীদের অধিকাংশকেই দেখা গেল অনুপস্থিত। সেদেশের শ্বেতাঙ্গদেরও কিছু অংশকে অংশ নিতে দেখা গেছে। তারা মহৃলত যুদব্দবিরোধী মনোভাবান্ন যুক্তরাষদ্ব্রবাসী।
বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা অভিবাসীরা এ বিােভে অংশ নিয়েছেন। এ বিােভ হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। শিকাগোতে প্রায় 4 লাখ লোকের সমাবেশ হয়েছে। এটা কল্পনারও বাইরে। তেমনি তিন লাখ হয়েছে লসএঞ্জেলেসে। ডেনভারে হয়েছে 75 হাজার লোকের সমাবেশ। তার পাশাপাশি ছোট-বড় অন্তত 50 নগরীতে অভিবাসীরা ফুঁসে উঠেছিল তাদের দাবিকে সামনে রেখে।
কী হতে পারে এ বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে? প্রতিবাদীদের প থেকে বলা হচ্ছে, তারা অন্তত আইনপ্রণেতাদের দৃষ্টি নিবন্দিত করতে সক্ষম হয়েছেন। কংগ্রেসকে এ নিয়ে পর্যালোচনা চালিয়ে যেতে হবে। অন্তত এ গুরুত্দ্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে অভিবাসীদের সঙ্গে আলোচনার একটা সম্ভাবনার দুয়ারও তো খুলে গেল। আর এটি যদি হয় তাহলে মনে করতে হবে অভিবাসীদের যে প্রতিবাদী সমাবেশ তা সফল হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



