তারুণ্য যেন বুঁদ হয়ে আছে
বুঁদ হয়ে আছে তারুণ্য। এমনই মনে হয় চারদিকে তাকালে। সীমন্তএলাকা থেকে শুরু করে দেশের কেন্দ্রবিন্দুতে মাদকসেবীদের দৌরাত্দ্ম্য বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক। কেন হচ্ছে এমন? তরুণদের এই অধঃপতনের কারণ খোঁজা হচ্ছে। হতাশা আর নৈরাজ্য থেকে তরুণদের বাঁচানোর জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে কি? সন্দেহ দেখা দেয়, দেশের কর্মসংস্থানের অভাব বাড়ার হার দেখে। দুনর্ীতির কারণেও তরুণদের মধ্যে মাদকদ্রব্য গ্রহণের মাত্রা বেড়ে চলেছে।
পারিবারিক জীবনে স্নেহ না পাওয়া, গৃহবিবাদ, একাকী জীবন থেকে যে মানসিক অশান্তি তৈরি হয় তা থেকেও মাদক সেবনে উৎসাহ তৈরি করে। পারিবারিক জীবনে বিচ্ছিন্নঅবস্থা আমাদের সমাজে কঠিন সমস্যা তৈরি করছে। সেই সমস্যা সমাধানের কোনো চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে বলে মনে হয় না।
সমাজ পরিবর্তনের কারণে পারিবারিক জীবনে হতাশা নেমে এসেছে। এই হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়া খুব সহজ ব্যাপার নয়। যৌথ পরিবার প্রথা ভেঙে গিয়ে সমাজে যে অস্বাভাবিক পরিসি্থতি তৈরি হয়েছে তার কারণেও যুবকদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। সাময়িকভাবে বাঁচার জন্য তারা সিগারেট খাওয়া শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা হেরোইন-গাঁজা-ফেনসিডিল সেবন করতে শুরু করে।
দেশে গাঁজা উৎপাদন নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরও গাঁজাখোরদের সংখ্যা অনেক। কাগুজে নিষেধাজ্ঞা গাঁজা উৎপাদনের ক্ষেত্রে তেমন বাধা তৈরি করতে পারছে না। যে কারণে গাঁজাসেবীদেরও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
একইভাবে বলা চলে, হেরোইন ও ফেনসিডিল আমদানি বন্ধ হয়নি বলে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভ্ভব হয় না। এখানেও আইনের কোনো ঘাটতি নেই। ঘাটতি হচ্ছে আইন পালনের।
একথা বলার অর্থ হচ্ছে_ মাদকদ্রব্যের সহজলভ্য হওয়াটাই মাদকাসক্তিকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
সুতরাং সমাজ পরিবর্তনের কথা মুখে বললেই তা সহজে সম্ভ্ভব হবে না। তার জন্য সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।
ভাবতে অবাক লাগে। এই তরুণ সমাজই মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। তারাই মায়ের ভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি আদায় করেছে। যে কোনো দুর্যোগে তারাই তো অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আজকে এ কেমন তারুণ্য দেখছি। তরুণদের সেই অংশ এখনো আছে। তারা উজ্জীবিত হলে নেশা দূর হবে সমাজ দেহ থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



