হাসিমুখ পূর্বের একটি পোস্টে মন্তব্য করেছেন:
"আপনি যেরকম ব্যাখ্যা দিচ্ছেন তা মূল ধারা হবে হয়তো কোনোদিন, তবে বর্তমানে সেটি মূলধারা থেকে দূরে। মূলধারার এলিট আমাদের আস্তমেয়ে। "
তার মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই এই উত্তরটি।
হ্যা, আস্তমেয়ে ক্লাসিক ইসলামী ভাবধারার অনুসারি। তাই তাকে সহজে রিলেট করতে পারবেন।
কিন্তু কি জানেন, স্রষ্টাকে জানার, বোঝার এবং পাওয়ার অনেকগুলো পথ আছে। তারমধ্যে অন্যতম একটি হলো বিশ্বাস এবং ডিভোশনাল, আরেকটি হলো জ্ঞানের, বিদ্যার ও যুক্তির। শেষ নবীর একটা খুব বড় গুন ছিলো তিনি ব্যক্তিত্বঅনুসারে উপদেশ দিতেন। যার মাধ্যমে প্রমান হয় তিনি নিজেও ব্যাপারটা একনলেজ করতেন।
যেমন সংস্কারাচ্ছন্ন কোনো বেদুইন তার কাছে উপদেশের জন্য আসলে তিনি খুব সহজে তাকে উপদেশ দিতে, বলতেন তুমি শুধু এটা করো তাহলেই হবে। আবার যাকে মনে করতেন বেশি গ্রহন করতে পারবে তাকে ডিটেইল বলতেন। এরকম।
আমি মনে করি আধুনিক যুগে আমাদের দ্্বিতীয় পথটাই বেছে নেওয়া উচিত। বিশ্বাস এবং ডিভোশন ভালো কিন্তু তা আধুনিক মানুষের চিন্তার কাছাকাছি নয়। যার খুব ভালো উদাহরন হলো পশ্চিমা বিশ্বে ক্যাথলিক চার্চের দ্রুত অনুসারী কমা (কারন তারা যুক্তি নয়, কেবলই চোখ বুঝে বিশ্বাসকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে এবং নতুন করে কোন চিন্তার পথ খোলা রাখে না।)। অনুরূপ উদাহরন হলো ইসলামের ওয়াবী ও অন্ধ ব্যাখ্যায় বিরক্ত হয়ে ইসলামের মূল থেকে নতুন প্রজন্মের সরে আসা।
অথচ মুহাম্মদের মৃতু্যর পরে আলীকে যখন আধ্যাতি্নক জ্ঞানের দায়িত্ব দেওয়া হয় তখনও এটিই মূলধারা ছিলো, যেমন ছিলো নবীর সময়েও। কারবালায় হুসেইনকে শহীদ করা এবং অব্যবহতি পরে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে ইসলামকে আবার অন্ধকারে নিক্ষেপ করার প্রচেষ্টা চলে । উপমহাদেশে সেই অংশেরই প্রভাব বেশি। তারা অন্ধের মতো বিশ্বাসকে যুক্তির চাইতে বেশি গ্রহনযোগ্য মনে করে। অথচ প্রথম যুগে যে কেউ ইসলামের যেকোন বাণীকে নবীর সামনে চ্যালেঞ্জ করতে পারতো। নবী তাদের যুক্তির মাধ্যমে বুঝিয়ে বলতেন, কখনো বলেন নি, "আমি শেষ নবী, আমি বলেছি তাই বিশ্বাস করতেই হবে।"
ধর্মকে বড় বেশি অন্ধত্বের বেড়াজালে জড়িয়ে ফেলেছি, বিশেষ করে আমাদের উপমহাদেশে। সুতরাং যাকে আপনি মূলধারা বলছেন সেটিকে মূলধারা শব্দটি না বলে, প্রভাবশালী ধারা বলা যায়। সেটি বেশি গ্রহনযোগ্য। তবে সুখের বিষয় হলো পশ্চিমা বিশ্বে আবার নতুন ভাবে ইসলামের পুরনো সোনালী ইতিহাস ফিরে আসছে। নতুন ইসলামী চিন্তাবিদরা উঠে আসছেন যারা অন্ধবিশ্বাস নয়, যুক্তির পথে নতুন করে কথা বলতে শুরু করেছেন।
যে ইসলাম এক সময়ে বিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, দার্শনিকদের অনুপ্রাণিত করেছে সেই ইসলামকে বেহেস্তি জেওর আর বার চান্দের ফজিলতের ধর্ম থেকে আবার উদার ধর্মের পথে নিয়ে যেতে অনেকেই এখন অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করছেন। যদি মূল ধারা বলতে হয়, তবে তাদের বলুন। বাইতুল মুকারমের শুক্রবারের মোল্লাদের বলবেন না। তাদেরকে বেহেস্তী জেওর আর বার চান্দের ফজিলত নিয়েই থাকতে দিন।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৬:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



