somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাসি মুখের মন্তব্যের উত্তরে : ধর্মের মূলধারা প্রসঙ্গে

২৪ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৬:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাসিমুখ পূর্বের একটি পোস্টে মন্তব্য করেছেন:

"আপনি যেরকম ব্যাখ্যা দিচ্ছেন তা মূল ধারা হবে হয়তো কোনোদিন, তবে বর্তমানে সেটি মূলধারা থেকে দূরে। মূলধারার এলিট আমাদের আস্তমেয়ে। "

তার মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই এই উত্তরটি।

হ্যা, আস্তমেয়ে ক্লাসিক ইসলামী ভাবধারার অনুসারি। তাই তাকে সহজে রিলেট করতে পারবেন।

কিন্তু কি জানেন, স্রষ্টাকে জানার, বোঝার এবং পাওয়ার অনেকগুলো পথ আছে। তারমধ্যে অন্যতম একটি হলো বিশ্বাস এবং ডিভোশনাল, আরেকটি হলো জ্ঞানের, বিদ্যার ও যুক্তির। শেষ নবীর একটা খুব বড় গুন ছিলো তিনি ব্যক্তিত্বঅনুসারে উপদেশ দিতেন। যার মাধ্যমে প্রমান হয় তিনি নিজেও ব্যাপারটা একনলেজ করতেন।

যেমন সংস্কারাচ্ছন্ন কোনো বেদুইন তার কাছে উপদেশের জন্য আসলে তিনি খুব সহজে তাকে উপদেশ দিতে, বলতেন তুমি শুধু এটা করো তাহলেই হবে। আবার যাকে মনে করতেন বেশি গ্রহন করতে পারবে তাকে ডিটেইল বলতেন। এরকম।

আমি মনে করি আধুনিক যুগে আমাদের দ্্বিতীয় পথটাই বেছে নেওয়া উচিত। বিশ্বাস এবং ডিভোশন ভালো কিন্তু তা আধুনিক মানুষের চিন্তার কাছাকাছি নয়। যার খুব ভালো উদাহরন হলো পশ্চিমা বিশ্বে ক্যাথলিক চার্চের দ্রুত অনুসারী কমা (কারন তারা যুক্তি নয়, কেবলই চোখ বুঝে বিশ্বাসকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে এবং নতুন করে কোন চিন্তার পথ খোলা রাখে না।)। অনুরূপ উদাহরন হলো ইসলামের ওয়াবী ও অন্ধ ব্যাখ্যায় বিরক্ত হয়ে ইসলামের মূল থেকে নতুন প্রজন্মের সরে আসা।

অথচ মুহাম্মদের মৃতু্যর পরে আলীকে যখন আধ্যাতি্নক জ্ঞানের দায়িত্ব দেওয়া হয় তখনও এটিই মূলধারা ছিলো, যেমন ছিলো নবীর সময়েও। কারবালায় হুসেইনকে শহীদ করা এবং অব্যবহতি পরে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে ইসলামকে আবার অন্ধকারে নিক্ষেপ করার প্রচেষ্টা চলে । উপমহাদেশে সেই অংশেরই প্রভাব বেশি। তারা অন্ধের মতো বিশ্বাসকে যুক্তির চাইতে বেশি গ্রহনযোগ্য মনে করে। অথচ প্রথম যুগে যে কেউ ইসলামের যেকোন বাণীকে নবীর সামনে চ্যালেঞ্জ করতে পারতো। নবী তাদের যুক্তির মাধ্যমে বুঝিয়ে বলতেন, কখনো বলেন নি, "আমি শেষ নবী, আমি বলেছি তাই বিশ্বাস করতেই হবে।"

ধর্মকে বড় বেশি অন্ধত্বের বেড়াজালে জড়িয়ে ফেলেছি, বিশেষ করে আমাদের উপমহাদেশে। সুতরাং যাকে আপনি মূলধারা বলছেন সেটিকে মূলধারা শব্দটি না বলে, প্রভাবশালী ধারা বলা যায়। সেটি বেশি গ্রহনযোগ্য। তবে সুখের বিষয় হলো পশ্চিমা বিশ্বে আবার নতুন ভাবে ইসলামের পুরনো সোনালী ইতিহাস ফিরে আসছে। নতুন ইসলামী চিন্তাবিদরা উঠে আসছেন যারা অন্ধবিশ্বাস নয়, যুক্তির পথে নতুন করে কথা বলতে শুরু করেছেন।

যে ইসলাম এক সময়ে বিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, দার্শনিকদের অনুপ্রাণিত করেছে সেই ইসলামকে বেহেস্তি জেওর আর বার চান্দের ফজিলতের ধর্ম থেকে আবার উদার ধর্মের পথে নিয়ে যেতে অনেকেই এখন অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করছেন। যদি মূল ধারা বলতে হয়, তবে তাদের বলুন। বাইতুল মুকারমের শুক্রবারের মোল্লাদের বলবেন না। তাদেরকে বেহেস্তী জেওর আর বার চান্দের ফজিলত নিয়েই থাকতে দিন।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৬:৫১
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×