বিশাল জনসংখ্যার বাংলাদেশে প্রতিবছর কুরবাণীর সময়ে যে অবস্থাটা দাড়ায় তা দেখলে খারাপই লাগে। যেখানে কুরবাণী করাটা হজ্জের সাথে সংযুক্ত একটি সিম্বলিক রিচুয়াল সেটিকে হজ্জের বাইরে নিয়ে এসে অনেকটা আবশ্যকীয় উপাদানে পরিণত করেছি আমরা। প্রতি বছর হজ্জের ঈদে তাই দেখা যায় এই উপমহাদেশে প্রত্যেকেই গরু বা ছাগল কেনার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে যায়। ব্যাপারটা এতটাই নেতিবাচক দিকে এগিয়ে গেছে যে এখন কে কত বড় গরু কিনলো তা নিয়ে প্রতিযোগিতা চলে। ঘুষের পয়সা হালাল (হুজুর ফতোয়া দিয়েছেন যে !) করতে লক্ষ টাকার উট কেনা হয়। দেশের হাজার হাজার গরীব মানুষ খেতে পায় না, তার চিন্তা নেই নিজের উদর পূর্তি করতে হাড়ির পরে হাড়ি মাংস রান্নার ধুম।
আমাদের নবী বেঁচে থাকলে কি যে মন্তব্য করতেন আমার চিন্তা হয়।
যাই হোক মূল প্রসঙ্গে আসি। আমার প্রশ্নটি হলো যেহেতু কুরবাণী হজ্জের একটা অংশ , সেখান থেকে এটিকে হজ্জের বাইরে নিয়ে এসে অত্যাবশ্যকীয় কাজ হিসেবে পালন করা কতখানি ইসলামিক?
যা অত্যাবশ্যকীয় নয়, সেটিকে অত্যাবশ্যকীয় করার মনোভাব সম্পর্কে নবী নিজেই সতর্ক করে দিয়ে গেছেন।
কমন সেনস থেকে বলা যায় যে কুরবাণী ব্যাপারটা হজ্জের মতোই জীবনে একবার করার মতোই একটা বিষয়। কারন যে ইব্রাহিমের সন্তান উৎসর্গের উদারহন থেকে কুরবাণী পালন করা হয় সেই ইব্রাহিমকে কিন্তু তার তার সন্তানকে একবারই উৎসর্গ করতে বলা হয়েছিলো। প্রতিবছর নয়।
চিন্তাশীল, যুক্তিবাদীরা আওয়াজ দিয়েন। দূর্বল হাদীস থেকে রেফারেনস না দিলেই খুশি হবো। কুরআন থেকে রেফারেনস এবং উদার মন থেকে যুক্তি দিলে বাধিত হবো।
যারা বাংলাদেশে থাকেন তারা জানেন কুরবাণীর নামে পরিবেশ, সামাজিক আচার আচারনে কি ধরনের প্রভাব পড়ে। আশা করি সেটার প্রতিও অন্ধ হবেন না।
http://mysticsaint.blogspot.com
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



