যদি আপনি সুফিবাদের ইতিহাস দেখেন তবে দেখবেন যে স্থানগুলোতে সুফিবাদ লালিত হয়েছে সেই ইরাক, ইরান, সামারা, আফগানিস্তান, তুরস্ক দেশগুলোতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে সুফিদের উপরে নেমে এসেছে অকথ্য নিযর্াতন। যেহেতু সুফিরা মানবতার মুক্তির কথা বলতো, ন্যায়ের কথা বলতো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলো তাই তাদেরকে রাজনৈতিক কুচক্রিরা বশে আনতে পারে নি। আর সুফিরা যেহেতু অর্থ বা যশের প্রতিও আকৃষ্ট নয়, সেহেতু তাদের কেনাও সম্ভব ছিলো না যা অনেক তথাকথিত মোল্লাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিলো। যারা বাদশার দরবারে ঠাই পাওয়ার জন্য রাজা বাদশাহদের মনমর্জি মতো ধর্ম সম্পর্কে নতুন ফতোয়া জারি করতে ব্যস্ত থাকতো।
এ কারনেই পৃথিবীর প্রায় সব সুফি কেন্দ্রগুলো থেকেই ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে সুফিবাদ বিলীন হতে থাকে। মধ্যযুগ থেকে আরম্ভকরে এমনকি এই বিংশ শতাব্দিতে এসেও রাশিয়ার অনেক যায়গায়, সৌদিআরবে এমনকি পূর্ব ইউরোপের মেসিডোনিয়া বা আলবেনিয়াতে যে সুফি গ্রুপগুলো ছিলো তাদের উপরে মৌলবাদীদের অত্যাচার ঘটছে। রাজনৈতিক দমনও চলছে।
এই যখন পরিপ্রেক্ষিত তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মতো রাজ্যে প্রচুর মূল ধারার সুফি কেন্দ্র গড়ে উঠছে যারা আবার ইসলামের প্রকৃত আধ্যাতি্বকতার সাথে পশ্চিমা বিশ্বের মানুষের পরিচয় ঘটাচ্ছে। সুফিরা সরাসরি কাউকে ধর্ম পরিবর্তন করতে ডাক দেয় না। তারা ঈশ্বর প্রেমের সাথে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেয়। এবং তাদের এই এ্যাপ্রোচ আগেও যেমন সফল, এখনও তেমনি সফল। তাদের এ্যাপ্রোচে অনেকেই ইসলামের মূল উদারভাবটির সাথে পরিচয় হতে পারছে। জঙ্গী ইসলামের সাথে সম্পূর্ণ কনট্রাস্ট সত্যিকারের শান্তির বাণীকে সুফিরাই ধারন করে রেখেছে তাদের মননে।
গোলেডন সুফি সেন্টার ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত একটি সুফি সেন্টার যেখানে প্রচুর অমুসলিম আমেরিকান নিয়মিত যান সুফি লেকচার শোনার জন্য। এমনকি ধর্মের উর্দ্ধে ওঠা অনেক মানুষ আলোর সন্ধান পান এখান থেকে।
ওয়েবসাইটের ঠিকানাটি এখানে দিচ্ছি। ঘুরে দেখতে পারেন।
http://www.goldensufi.org/
অডিও লেকচারগুলো পাবেন এখানে:
http://www.goldensufi.org/5-AudioArchive.html
লিউলিন ভন লি এর লেকচারগুলো শুনে দেখতে পারেন। ওনার কথা বলার ধরন খুবই অসাধারন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



