somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধমর্ান্ধরা মুড়ি খাও : হাদীসের সমালোচনা করা যাবে না? (1)

০৪ ঠা মে, ২০০৬ দুপুর ১২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

( সতর্কতা: এই পোস্টটি পড়ার আগে আপনাদের মনের দুয়ারকে খুলে দিতে অনুরোধ করবো। মানুষ সবসময় যা প্রতিষ্ঠিত, যা শুনে ও দেখে বড় হয়েছে তাকে আকড়ে থাকতে চায়। বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা একটা বড় সমস্যা যাকে ধমর্ান্ধতা বলা হয়। ধর্ম কোনো বন্ধ্যা ডোবা নয় যে এটাকে যে প্যাকেটে পরিবেশন করা হবে সেটাকেই চোখ বন্ধ করে গলাধ:করন করতে হবে। সব ধর্মের ইতিহাস ও শিক্ষা সময়ে সময়ে বিজেতাদের দ্বারা নতুন করে লেখা হয়েছে, এটা মনে রাখতে হবে। সুতরাং বিশ্বাসী হিসেবে একমাত্র খোলা মন এবং সত্য সন্ধানী মন থাকলেই একজন মানুষ ধমর্ান্ধার কুৎসিত ফাঁদ থেকে বেঁেচ থাকতে পারে। অন্যথায় যে কোন বিশ্বাসীই না বুঝে, অন্ধভাবে যা প্রতিষ্ঠিত কেবল তাকেই আকড়ে থাকতে চাইবে। নতুন সত্য তাদের কাছে উপস্থাপিত হলেও তারা কেবলই মাথা নেড়ে যাবে। এই ভুল করা থেকে আপনাদের নিজের বন্ধ মানসিকতার বিরুদ্ধে আপনাকেই তাই প্রথমে সতর্ক হতে বলছি। )

সুন্নী হিসেবে বেড়ে উঠে যখন আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়াদের পার্সপেক্টিভে ইসলাম সম্পর্কে পড়তে শুরু করি, তাতে ইসলাম সম্পর্কে অনেক প্রতিষ্ঠিত ধারনা বাধ ভাঙ্গা জোয়ারে ভেসে যায়। সুন্নীদের ইসলামের ইতিহাসে অনেক কিছুকে টুইস্ট করে উপস্থাপন আমাকে ব্যাথিত করে। সুন্নীদের ইসলাম সম্পর্কে একটা আইওয়াশ এবং সীমিত ধারনা সৃষ্টির অন্যতম সুত্র হচ্ছে হাদীস। অনেক সুন্নী হাদিসকে (বিশেষ করে বুখারীকে) বেদ বাক্যের মতো মনে করে থাকে। আমি তাদের দোষ দিচ্ছি না, কেননা তারা যথেষ্ট গবেষণা করার সুযোগ পায় না, তাদের জ্ঞান আহরনের তেষ্টা কম, তারা প্রোপাগান্ডার স্বীকার এবং ছোট বেলা থেকেই ধর্মকে এমন একটা আবরনে দেখতে অভ্যস্ত যাকে প্রশ্ন করা যায় না। কিন্তু এখন তথ্য অনেক সহজলভ্য। আর সত্যকে জানার চেষ্টা করলে সেটা ধরা দেবেই। যাই হোক, বেশি ভূমিকা না করে আমি হাদীস প্রসঙ্গে আসি।

প্রথমে একটা কমন সেন্স প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি। খেয়াল করে দেখবেন, বুখারীতে বেশিরভাগ হাদীস যার মাধ্যমে বয়ান করা হয়েছে তিনি হচ্ছেন আবু হুরায়রা। তার বয়ান করা হাদীসের সংখ্যা 5374 এরও বেশী। বুখারীতেই আবু হুরায়রা নিজে দাবী করেছেন যে তিনি আবদুল্লাহ বিন ওমরের পরেই সবচেয়ে বেশি হাদীস বর্ননা করেছেন (রেফারেন্স: বুখারী, ভলিউম 1, বুক অফ নলেজ)।

এখন প্রশ্ন করতে পারেন এই ব্যক্তি রাসুল মুহাম্মদ (তার প্রতি সালাম) এর সাথে কতদিন ছিলেন? মজার তথ্যটি হচ্ছে বিখ্যাত (!) আবু হুরায়রা নবীর সাথে মাত্র 2 বছর সময় কাটিয়েছেন। এই স্বল্প সময়ে তিনি সুবিশাল হাদীসের ভান্ডার হয়ে উঠলেন কিভাবে সেটা বিস্ময়কর। সাধারন একটা গনিতের হিসাবে দিন প্রতি তিনি 7.3 টি হাদীস মনে রেখেছেন।

অন্যদিকে আলী (তার প্রতি সালাম) যিনি নবুয়্যতেরও আগে থেকে নবীর সার্বনিক সঙ্গী, নবীর 30 বছরেরও বেশি সাহাবী; তার কাছ থেকে হাদীস বুখারীতে নেই বললেই চলে। বুখারীতো ভালো, অন্য হাদীসের বইতেও খুব কমই পাবেন। যে আলীকে নবী নিজে জ্ঞানের দরজা বলেছেন, যার মেধা আরবে আনপ্যারালাল, যার স্মরণ শক্তিছিলো অসাধারন তার কাছ থেকে রেকর্ড করা হাদীস নেই কেন? এমনকি বর্ননার চেইনেও তিনি অনুপস্থিত।

ইতিহাসের বই ঘাটলে আবু হুরায়রা সম্পর্কে আরো বিস্ময়কর তথ্য বেরিয়ে আসবে। ঐতিহাসিক সত্য অনেক সময়ে তিতো মনে হতে পারে, বিশেষ করে তা যদি মানুষের প্রচলিত ধারনাকে আঘাত করে। সুতরাং খুব মন খোলা নিয়ে পড়ার চেষ্টা করুন। এখানে উল্লেখিত তথ্যগুলো ইতিহাসে রেকর্ড করা সত্য।

রেফারেন্স বই হলো: ইকদুল ফারিদ, ভলিউম 1, যার প্রথম চ্যাপ্টারে রেকর্ড আছে যে খলিফা ওমরের সময়ে আবু হুরায়রাকে বাহরাইনের গভর্ণর নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু করাপশনের অভিযোগে তার চাকুরী চু্যত করেন খলিফা নিজেই। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে অর্থ আত্নসাতের এবং সাধারনের অর্থকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করার। শিয়া মুসলিমরা আবু হুরায়রার কাছ থেকে বর্নিত যেকোন হাদীসকেই বর্জন করে থাকে; এবং যে কারনগুলো এখানে তুলে ধরেছি তার থেকেও অনেক বেশি যুক্তিতেই তারা তা করে থাকেন। সময় এবং জায়গার সীমাবদ্ধতার কারনে সবগুলো তুলে ধরার মধ্যে যাচ্ছি না।

বুখারীর হাদীসে আবার দৃষ্টি ফেরাই: ভলিউম 1 এ নলেজ চ্যাপ্টারে পাবেন এই হাদীসটি যেখানে আবু হুরায়রা নিজেই বলছে : I have got two container of Hadith from the Holy Prophet! I have emptied only one of them, but if I emptied the other container, my throat would be slashed.

এখন চিন্তা করুন এই ব্যক্তিটি রাসুলের অর্ধেক গুরুত্বপূর্ণ হাদীস জেনেও চেপে গ্যাছেন এই ভয়ে যে সাহাবীরা তার গলা কেটে ফেলবে! হাদীস জেনে শুনে গোপন করার কোনো বিষয় নয়। যিনি হাদীস নিয়ে নিজের ইচ্ছে মতো এভাবে ইমপোর্ট এক্সপোর্টের ভুমিকায় অবতর্ীন হয়েছেন তার মাধ্যমে বর্ণিত অসংখ্য হাদীস নিয়ে রচিত যে বই, সেই বুখারী কতখানি গ্রহনযোগ্য এবার নিজেরাই নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন।


"Do not accept anything that you have no knowledge of. Surely the hearing, the sight and the mind you are responsible for." (Quran, 17:36)


(চলবে ...)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০০৬ দুপুর ১২:৫৮
৪০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×