আমার পূর্বের পোস্টটি: ধমর্ান্ধরা মুড়ি খাও : হাদীসের সমালোচনা করা যাবে না? ... যথেষ্ট বিতর্ক সৃষ্টি করবে এটা আগেই বুঝেছিলাম। যারা এখনও পড়েন নি, তাদের জন্য লিংকটি দিচ্ছি এখানে:
http://tinyurl.com/pwcmf
যারা ধর্ম সম্পর্কে সচেতন বলে দাবী করেন বা অন্তত ধর্মকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তাদেরকে অনুরোধ করবো শিয়াদের পার্সপেক্টিভ থেকে ইসলামকে পড়ার। তাদের রক্ষিত ইসলামের ইতিহাসটি দেখার।
আমি নিজে দেখার পর পরেই এই পোস্টটি দেইনি। আমি দর্ীঘদিন ধরেই পড়ছি। আমার পড়া যে শেষ হয়ে গেছে এবং আমি যে রাস্তার শেষ মাথায় পৌছে গেছি তা নয়। এখনও অনেক পড়া বাকি। আপনারাও যদি জানতে শুরু করেন তাহলে একটা আলাদা আনন্দ পাওয়া যেতো। কিছু শেয়ার করতে গেলে আপনারা হারে রে রে করে এখাবে ছুটে আসতেন না। আশা করি ইতিহাস জানার কৌতুহল থেকে হলেও শিয়াদের লিটারেচার পড়বেন দুই একজন। তাহলেও অন্তত এখানে সময় দেওয়া কিছুটা হলেও স্বার্থক হবে।
আমার বেশ কয়েকজন শিয়া ইরানী বন্ধু আছে যারা আমাকে সাহায্য করেছে ভালোভাবে জানার জন্য। আমি জানি না দেশে ভালো বই পাওয়া যাবে কি না। তবে বিদেশে যারা আছে তারা শিয়া মসজিদ বা ইসলামিক সেন্টারে গেলেই অসাধারন সব বই পাবেন। হিস্ট্রি বা স্পিরিচুয়াল যেকোন বিষয়েই। দেশে আপনারা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন।
আমি নিজেকে শিয়াও নই, সুন্নীও নই - এমন মুসলিম হিসেবে আখ্যায়িত করতেই ভালোবাসি। প্রত্যেক সুন্নীই ঠিক যেরকম শিয়াদের সম্পর্কে বায়াসড ধারনা পোষণ করতো, আমি নিজেও সেরকম ধারনা পোষণ করতাম এক সময়ে।
আমি নিজেও ভাবতাম; শিয়া সুন্নী বিভেদ খুবই সামান্য। ফান্ডামেন্টালে ঠিক আছে, সুতরাং এটি নিয়ে কেন এত বিভেদ? এই প্রশ্ন আমাকেও ভাবিয়েছে যতক্ষন না পর্যন্ত পড়ে ব্যাপারটা পরিস্কার হয়েছে। মজার বিষয় হলো শিয়ারা কিন্তু বিভেদটা হালকা দেখে না। তাদের জন্য এটা বিশাল পার্থক্য। কেন? কারন তারা প্রকৃত ইতিহাসটা জানে। তারা জানে যে নবীর মৃতু্যর সাথে সাথে তার জানাজা ও দাফনের আগেই কিভাবে একদল মানুষ ক্ষমতার জন্য হুড়োহুড়ি করে তার পবিত্র দেহকে ফেলে রেখে সিংহাসন ভাগে ছুটে যায়? তারা জানে আলী এবং ফাতেমার তীব্র শোকের কথা এবং নবীর মৃতু্যর পর পর অনেক মানুষের চেহারা পালেট যাবার ইতিহাস।
অনেকেই ভাবে শিয়া সুন্নী বোধ হয় হালকা অতীত নিয়ে রাজনৈতিক বিভেদ। কিন্তু সমস্যা অত হালকা নয়। ইসলামের পুরো বেসিক আন্ডাস্ট্যান্ডিংয়েই বিভেদ আছে। ইতিহাস লেখার ও তুলে ধরার মধ্যে মারাত্নক পার্থক্য আছে যেটা না জানলে ইসলামের প্রতি অবিচার করা হয়। তাই যারা এই পোস্টের টাইটেল এবং কনটেন্ট দেখে মনে করছেন পোস্টের রেটিং কমানো ইমানী দায়িত্ব এবং প্রতিবাদ জানানো ছাড়া ইমানী জোশ দূর্বল প্রমাণিত হবে; তাদের কাছে অনুরোধ চেষ্টা করুন শিয়াদের লিটারেচার পড়ার, তাদের পক্ষ থেকে।
কোথা থেকে শুরু করবেন?
নবীর (তার প্রতি সালাম) মৃতু্যর ইমিডিয়েট মুহুর্ত থেকে পড়তে পারেন। শিয়াদের ইতিহাসে এটা খুব ভালোভাবে সংরক্ষিত আছে যা সুনি্নরা একেবারে কার্পেটের তলায় লুকিয়ে রেখেছে।
পড়তে পারে গাদির খুমের ঘটনা, যা আমি নিশ্চিত আমাদের দেশের 99% সুন্নীরই অজানা।
পড়তে পারেন কেন কিভাবে, কখন ফাতিমা (তার প্রতি সালাম) মৃতু্য বরণ করেন? নবীর ওফাতের খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে, গর্ভবতী অবস্থায় ফাতিমার মৃতু্য এবং তারপরে রাতের অন্ধকারে খুব গুরত্বপুর্ণ ও সিনিয়র সাহাবীরা (যেমন আবু বকর, ওমর, ওসমান) যেন জানাযায় অংশ নিতে না পারে (ফাতেমার মৃতু্য পূর্ব অনুরোধে) তাকে রাতের অন্ধকারে গোপন স্থানে কবর দেওয়া হয়। আজ পর্যন্ত তার কবর অনাবিস্কৃত, কেউ জানে না কোথায় আছে...
আপাতত এই প্রশ্নগুলোর অনুুসন্ধান করুন। শিয়াদের লিটারেচার থেকে পড়তে হবে, কেননা সুনি্নরা এগুেলা গুরুত্বপূর্ন নয় মনে করে অনেক আগেই ইসলামের লিটারেচার থেকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছে। শিয়ারা দেয় নি। সবাইকে সালাম ও ভালোবাসা।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০০৬ ভোর ৪:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



