যারা পরম বিস্ময়ে মনে মনে ভাবছেন, হঠাৎ সাদিকের কি হইলো যে সে হাদীসের পেছনে লাগলো, আবু হুরায়রাকে হঠাৎ অপছন্দ করতে শুরু করলো ... তাদের জন্য প্রথমেই জানিয়ে নি যে ইসলামের ইতিহাস না পড়ে একচোখা দৃষ্টি নিয়ে পৃথিবী দেখা ঠিক না। আমি রেফারেনস দিচ্ছি, মনগড়া কথা বলছি না। সুতরাং ব্যক্তিগতভাবে আমার প্রতি বিদ্ধেষ পোষণ করার কোন প্রয়োজন নেই। ইন্টারেস্টিং মনে হলে বা যদি মনে হয়, না ব্যাটা কি বলে পড়ে দেখি তাহলে নিজে খোলা মনেই পড়ুন।
আবু লাহাবের মতো : 'না বাপ দাদারা যা শিখিয়েছে তা পরিবর্তন সম্ভব নয়', এভাবে ইসলাম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে লাভ নেই। ইসলাম অসম্ভব ডাইনামিক, অসম্ভব সুন্দর একটা ধর্ম। তবে সেই ডাইনামিজম বুঝতে হলে মনটাকে ডাইনামিক করতে হবে। নইলে আবু লাহাবের পর্যায়েই আধ্যাতি্নক উন্নতি থেমে থাকার চরম সম্ভাবনা।
আমি ইমাম বুখারীর হাদীস সংগ্রহের প্রচেস্টাকে খাটো করছি না। হাদীস রেকর্ডের প্রচেষ্টাটি অসাধারন একটি পদক্ষেপ কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু বুখারীতে অন্যতম বেশি হাদীস যে মানুষটির মুখ থেকে এসেছে সেই আবু হুরায়রার বর্ণিত অনেক হাদীসই নির্ভুল নয়, এটাই আমার বক্তব্য। যারা তার হাদীসকে নির্ভুল মনে করতে চান তার বড় একটা ফাঁদে পা দেবেন, কেননা ঐ হাদীসগুলো নবী (তার প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম) কে এমন অবৈজ্ঞানিক, অপ্রয়োজনীয়, অসামঞ্জস্যপূর্ণ কথার জন্য ক্রেডিট দিয়ে থাকে। এরকম অনেক হাদীস (যার বেশিরভাগ আবু হুরায়রা বর্নিত যাকে মুয়াবিয়া নিজে অর্থ পুরস্কার দিয়েছে বিভিন্ন সময়ে) পাওয়া যাবে বুখারী এবং মুসলিমে যার ক্রেডিবিটি মারাত্নক প্রশ্নের সন্মুখিন।
প্রশ্ন করতে পারেন কেন এই ক্রেডিবিলিটির প্রশ্ন এতদিনে? উত্তর হলো এই ক্রেডিবিলিটির প্রশ্ন আমি প্রথম তুলছি না। শিয়ারা খুব ভালো করেই জানেন আবু হুরায়রার ঘটনা। তাই তারা তার বর্ণিত সব হাদীসকে বর্জন করে। আমরা এই সুন্নীরাই শুধু আংশিক ও কর্তন করা ইসলাম পড়ি বলেই অন্ধকারেই থেকে যায় আমাদের ধর্ম বোধ।
খলিফা ওমর নিজেই আবু হুরায়রাকে বাহরেইনের গভর্নর পদ থেকে বিচু্যত করেন ঘুষ গ্রহনের অভিযোগে এবং পরে তাকে নিজের হাতে শাস্তি দেন। অভিযোগ এখানেই সীমিত নয়। নবীর পরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্যও অনৈতিক শাসক যেমন মুয়াবিয়া ব্যবহার করেন আবু হুরায়রাকে।
প্রমান? ধৈযর্্য ধরে পড়তে হবে। ধৈযর্্য থাকলে শুরু করেন:
Umar appointed Abu Huraira governor of Bahrain, the people informed the Caliph that Abu Huraira had amassed great wealth and had purchased many horses. Umar therefore deposed him.
As soon as Abu Huraira entered the court, Umar said:
"O enemy of Allah and enemy of His Book! Have you stolen Allah's property?"
He replied,
"I never committed theft, but the people have given me gifts."
Umar said:
"When I made you the governor of Bahrain, you had not even shoes on your feet, but now I have heard that you have purchased horses for 1,600 dinars. How did you acquire this wealth?"
He replied,
"These were men's gifts which profit has multiplied much."
The Caliph's face grew red with anger, and he lashed him so violently that his back bled. Then he ordered the 10,000 dinars which Abu Huraira had collected in Bahrain be taken from him and deposited in the account of the Baitu'-Mal."
This was not the first time that Umar beat Abu Huraira. Muslim writes in his Sahih that during the time of the Prophet, Umar beat Abu Huraira so severely that the latter fell down on the ground.
Ibn Abi'l-Hadid writes in his commentary on Nahju'l-Balagha, Volume I, page 360: "Abu Ja'far Asqalani has said: 'According to our great men, Abu Huraira was a wicked fellow. The hadith narrated by him were not acceptable. Umar beat him with a lash and told him that he had changed hadith and had attributed false sayings to the Holy Prophet.'"
Ibn Asakir in his Ta'rikh Kabir and Muttaqi in his Kanzu'l-Umma report that Caliph Umar lashed him, rebuked him, and forbade him to narrate hadith from the Holy Prophet. Umar said: "Because you narrate hadith in large numbers from the Holy Prophet, you are fit only for attributing lies to him. (That is, one expects a wicked man like you to utter only lies about the Holy Prophet.) So you must stop narrating hadith from the Prophet; otherwise, I will send you to the land of Dus." (A clan in Yemen, to which Abu Huraira belonged.)
রেফারেনস: উইকিপিডিয়া যেখানে এগুলোর অন্যান্য রেফারেনসও পাবেন।
Click This Link
মুসলিমের এই হাদীসটিও পড়ে দেখুন।
http://tinyurl.com/hkj5d
হাদীসটির শেষ দিকে এসে খটকা লাগতে পারে। (আবু হুরায়রার বক্তব্য অনুসারে ) প্রিয় নবীকে ওমর ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান দিচ্ছে যেন ওমর ভালো জানে উম্মত কিসে বিভ্রান্ত হবে আর কিসে হবে না। এই হাদীসটিও মারাত্নক ক্রেডিবিলিটির অভাবের একটি উদাহরন। হাদীসের কনটেন্টটাও (নবীর শিক্ষাটি) পড়ে দেখবেন। সমস্যা আছে ওখানে মারাত্নক।
ৃ
হাদীসে নবীর নাম দেখলেই বিগলিত হওয়ার কোন কারন নেই। তার নাম ব্যবহার করেই অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিক হাদীস বলা হয়েছে।
পরম করুনাময় সকলকে পথ প্রদর্শন করুন।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০০৬ ভোর ৫:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



