ইসলামের প্রথম দিকের ইতিহাসের দিকে যদি তাকাই (নিমের্াহভাবে) তবে বারবার লজ্জিত হতে হয়। (ইসলামকে নিয়ে লজ্জা নয়, লজ্জা হলো ইসলামের নামধারী কিছু কুলাংগারকে নিয়ে যারা ইচ্ছে মতো ইতিহাস লিখেছে, পালটেছে। )
লজ্জিত হই যখন দেখি প্রিয় নবীর নিজের প্রাণ প্রিয় মেয়ে, প্রাণ প্রিয় আলী এবং তাদের সব সন্তানকে যুগে যুগে হত্যা করেছে মুসলিম নামের কলংক কিছু মানুষ। অনৈতিক সেই মানুষগুলোর পালটে দেওয়া ইসলামের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন তুললেই ইমান নিয়ে ভয় পেয়ে যান কিছু 'অদ্ভুত উটের পিঠে' কেবলই পেছনে চলা মানুষেরা।
আমার প্রশ্ন, আপনারা কি প্রশ্ন গিলে লজ্জা থেকে বাঁচতে চান; নাকি মুর্খ থাকার লজ্জা থেকে বাঁচতে চান?
যাই হোক মূল প্রসঙ্গে আসি।
1. হযরত ফাতিমা (সালাম), আমাদের প্রিয় নবীর প্রান প্রিয় কন্যা। যখন নবী মৃতু্য বরণ করেন তখন ফাতিমা ছিলেন গর্ভবতী। নবীর দাফনের পূর্বেই একদল অসভ্য মানুষ আক্রমন করে তাকে এবং পুড়িয়ে দেয় ফাতিমার ঘর। মারাত্নক আহত হন ফাতিমা, তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। এ সব ঘটে নবীর পবিত্র দেহ দাফনের পূর্বেই, কারন কিছু মানুষের কাছে খেলাফত নবীকে দাফন করার চাইতেও হঠাৎ অস্বাভাবিক গুরত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কেন ফাতিমা ও আলীর ঘরে আগুন দেওয়া হয়? উত্তর খুঁজে নিতে দুই পাতা যেন পড়তে পারেন, তাই উত্তর দিলাম না।
ফাতেমা মারা যান নবীর ওফাতের ছয় মাসের ভিতরেই, মাত্র 18 বছর বয়সে; ঐ ইনজুরি থেকে। নবীর প্রতি অকৃতজ্ঞ মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ তিনি আলীকে অনুরোধ করে তাকে যেন গোপনে কবর দেওয়া হয়। আজ পর্যর্ন্ত কেউ জানে না তার কবর কোথায়?
তার সেই প্রতিবাদের বাণী কি পৌছেছিলো তথাকথিত সুন্নীদের কানে? পৌছায় কি আপনার কানে? ওকি? গায়েবী তুলো নাকি আপনার কানে বা বিবেকের উপরে?
2. ইমাম আলী (তার প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম) কে মারাত্নকভাবে জখম করে অবশেষে শহীদ করা হয় কুফা মসজিদে ফজরের নামাজের সময়, পবিত্র রমযান মাসে। যারা করে, তারাও নিজেদের মুসলিম দাবী করেছে। মোটিভ : ক্ষমতার মোহ।
3. ইমাম হাসান (সালাম), নবীর দৌহিত্র, ফাতেমার পুত্র। তাকে বিষ পানে শহীদ করেন মুয়াবিয়া, তৎকালীন দামেস্কের গর্ভনর। মুয়াবিয়া নিজেও ছিলেন নবীর সাহাবী বা সঙ্গী।
4. ইমাম হুসেন (সালাম) নবীর আরেক দৌহিত্র যার শিরচ্ছেদ করে খলিফা (!) ইয়াজিদ, মুয়াবিয়ার কু সন্তান। হুসেইনের সাথে শহীদ করা হয় আরো 72জন অসীম সাহসী যাদের মধ্যে নবীর সাহাবীও ছিলেন এমন অনেককে। তাদের হত্যা করে অনৈতিক খলিফার তাবেদাররা।
5. হাসান হুসেইনের বোন, জয়নব এবং উম্মি খুলথুম , হুসেইনের নিজের কন্যা সাকিনা ও রোকাইয়াকে বন্দী করা হয় এবং ইরাক ও সিরিয়ার জনগনের সামনে পেশ করা হয় মুরতাদ ও কাফের হিসেবে। সুন্নীরা এখনও শিয়াদের কাফের আখ্যায়িত করে তাদের মসজিদে বোমা মারার দায়িত্বটি পালন করে নিয়মিত বিরতিতে (পাকিস্তানে)।
6. হুসেনের সন্তান ইমাম জয়নুল আবেদীনকেও বিষ পানে শহীদ করা হয়।
7. একই ভাবে নবীর বংশধর এবং প্রত্যেকজন নেতা (ইমামকে)-কে হত্যা করে সুন্নীরা নতুন ইতিহাস লিখতে সর্বদাই সিদ্ধ হস্ত ছিলো। ভালো কথা, তারা প্রত্যেকেই কিন্তু আবার নিজেদের খুব ভালো মুসলিম দাবী করে গেছেন, অথচ নবীর নিজের রক্তের মানুষগুলোকে হত্যা করতে পিছপা হন নি।
বিষ দিয়ে হত্যা করা হয় মুহাম্মদ আল বাকির (হুসেইনের আরেক সন্তান), জাফর আল সাদিক, মুসা আল কাজিম (যাকে হত্যার নিদের্শ প্রদান করেন হারুন অর রশিদ যার সম্পর্কে সুন্নীদের আই ওয়াশ দেওয়া হয়েছে ইতিহাস বইতে। তাকে হত্যা করে তার লাশ বাগদাদের সেতুর উপরে ঝুলিয়ে রাখা হয় যাতে জনগন বুঝতে পারে ইমাম বেঁচে নেই, যাতে অহেতুক কোলাহলও কম হয়), হত্যা করা হয় আলী আর রিদাকেও, আল তাকী, আলি আল হাদীকে কাটাতে হয় বন্দী জীবন, হাসান আল আকসারী (মাত্র 27 বছর বয়সে)... এরা প্রত্যেকে ইমাম বা নেতা এবং নবীর সরাসরি বংশধর।
নবীর নিজ রক্তের মানুষগুলোকে এভাবে প্রায় প্রত্যেককে শহীদ করে নবীর প্রতি ভালোবাসার চমৎকার প্রতিদান দিয়ে গেছে মুসলিম নামধারী কিছু মুনাফেক। তারাই সময়ের বিবর্তনে সুন্নী ডকট্রিন তৈরী করেছে। আর যারা অত্যাচারিত থেকে গেলো তাদের নাম দেওয়া হয়ে ছিলো শিয়া'তে আলী বা আলীর দল! সেখানেও বড় লজ্জা আমার।
আপনি কি একটুও লজ্জিত হলেন ইসলামের এই ইতিহাসগুলো সম্পর্কে এতদিন অজ্ঞ থাকার ফলে?
http://mysticsaint.blogspot.com
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০০৬ সকাল ৮:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



