somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা: সঙ্গে কিছু কৌফিয়ত

০৫ ই মে, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সম্প্রতি আমি বেশ কিছু পোস্ট করেছি হাদীসের সমালোচনা করে, কিছু সাহাবীর সমালোচনা করে। কেন?
কেন আমার পোস্টের শুরুতে 'ধমর্ান্ধরা মুড়ি খাও' লাইনটি ব্যবহার করেছি?

অনেকে বিভ্রান্ত, কেউ ভুল বুঝছেন। তাই ভাবলাম এবার ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতি আর কিছু কৌফিয়ত দেওয়া প্রয়োজন।

'ধমর্ান্ধরা মুড়ি খাও' ট্যাগ লাইনটি ধর্মান্ধদের প্রতি আমার নিজের বিরোধীতার প্রকাশ মাত্র। আমি মনে করি আজকের পৃথিবীতে ধর্মকে সবচেয়ে বেশি এ্যাবিউজ যারা করছে, তারা এই ধমর্ান্ধরাই।

একজন নাস্তিক ধর্ম সম্পর্কে উদাসীন। তিনি তার অবস্থানে পরিস্কার। তিনি লুকোপাছা করেন না, তিনি নিজের বিবেকের প্রশ্নগুলো অবলীলায় করে ফেলেন। একজন নাস্তিক তাই অনেকটা শিশুর মতো, যে না বুঝতে পারা বিশাল পৃথিবীর অসংখ্য ফেনোমেনায় অবাক হয়ে অক্লান্ত প্রশ্ন করেই যায়। নাস্তিকরা ধর্মকে এ্যাবিউজ করে না। তারা সমানভাবে সব ধর্মকে প্রশ্ন করতে পারে অন্য ধরনের এক নিরপেক্ষতায়। আমি নাস্তিকদের বিশাল ফ্যান এই কারনে। তাদের উৎসর্গ করে কবিতাও লিখেছিলাম পূর্বে আমার কোন এক পোস্টে।

অন্যদিকে ধর্মান্ধরাই ধর্মকে টেনে হিচড়ে নর্দমায় নামায়। মাথায় টুপি, মুখ ভরা মেহেদী রাঙ্গা দাড়ি, গায়ে আতরের সুবাস নিয়ে দিনে পাঁচবার নামাজ পড়ে যে মানুষটি অবিরাম টেবিলের নিচ থেকে ঘুষ আদান প্রদান করেন; সেই লোকটিকে দেখে তার 'লেবাস ধর্ম'কে ভুল বোঝেন আরো একশত লোক। তিনি ধমর্ান্ধ কারন তিনি ভুলভাবে বিশ্বাস করেন যে প্রতিবার নামাজের সাথে সাথে তার প্রত্যেক অনৈতিক কাজ বুঝি মাফ করে দেওয়া হবে। হায়রে কপাল!

ইসলামী চিন্তাবীদ (!) এক দিকে পাড়া মহললায় ওয়াজ নসিয়ত করে, অন্যদিকে গুন্ডা মাস্তান দিয়ে অন্যের জমি দখল করে সেখানে দ্রুত মসজিদ বানিয়ে ফ্যালে যে মানুষটি, ইসলাম সম্পর্কে কি ধারনাটি দিলো সে? সেও ধমর্ান্ধ কারন সে বিশ্বাস করে মসজিদ বানানোর সওয়াবে ভেসে তার বাকি সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।

ওসামা বিন লাদেনের ব্যানারে গায়ে বোমা বেধে শিশুদের স্কুল বাসকে উড়িয়ে দেয় যে মানুষগুলো তারাও ধমর্ান্ধ এবং তারা পোস্ট 9/11 এর এই সময়ে ইসলামকে সবচেয়ে বেশি কলংকিত করার পেছনে দায়ী।

শিয়ারা কাফের, এই মিথ্যা অভিযোগে ধমর্ীয় অন্ধরা পাকিস্তানে বোমা মেরে হত্যা করে শুক্রবারে প্রার্থনারত শিয়াদের, প্রায় নিয়মিত বিরতিতে। বিশ্বে প্রচারিত হয় ইসলাম সম্পর্কে প্রচন্ড নেগেটিভ একটা ছবি।

ইসলামী রাজনৈতিক নাম নিয়ে ইসলাম ধর্মের ব্যানারে মানুষ অপহরন করে 'আল্লাহু আকবর' বলে তথাকথিত 'কাফের' জবাই করে যারা, তারা ধর্মান্ধ এবং তাদের হাতে ইসলামের সবচেয়ে বড় এ্যাবিউজটি হয়েছে।

মানব ইতিহাসে অতীতের আর কোন সময়ে একটা ধর্মকে এতখানি এ্যাবিউজ নিজ ধর্মের মানুষ করে নি; 'ইসলাম ধমর্ান্ধ বোমাবাজরা' ইসলামকে নিয়ে যতখানি করেছে।

আবার বলছি মানব ইতিহাসে ইসলামকে নিয়ে ইসলামের ধমর্ান্ধরা যতখানি কুৎসা রটিয়েছে .. তা আর কখনো হয় নি, আর কেউ করে নি সেটা।

একশটা সালমান রুশদী বা হাজারটা তসলিমা নাসরিন পশ্চিমে ইসলামের নিন্দা করার পরেও ইসলাম সম্পর্কে মানুষের খারাপ ধারনা হয় না, বরং মানুষ কৌতুহলী হয়েছে। কারন রুশদী বা তসলিমা নাস্তিক। মানুষ সেভাবেই তাদের বক্তব্যকে গ্রহন করে। তাদের কথায় ধর্ম এ্যাবিউজ হয় না।

অন্যদিকে বোমাবাজী, সন্ত্রাসের অবিরাম হানাহানীতে ইসলামকে 'বোমাবাজদের ধর্ম ' নামে কলংকিত করছে যারা তারা সালমান রুশদী নয়, তারা ধমর্ান্ধ একদল মানুষ।

এই অনুভূতিগুলোর একটা বহি:প্রকাশ - 'ধমর্ান্ধরা মুড়ি খাও' ট্যাগ লাইন।

এবার আসি হাদীস সমালোচনার প্রসঙ্গে। একটা কথা আমার খুব পরিস্কার: "হাদীস নির্ভুল নয়"। হাদীসের ভুল বয়ানের কথাগুলো যে ভুল - এটা বলা : 'ইমান নিয়ে তামশা' নয়, বরং নবীকে অযৌক্তিক, অবৈজ্ঞানিক, 'কুরআন বিরোধী' বক্তব্য প্রদানের অনৈতিক ক্রেডিট প্রদানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

ইমাম হুসেইনের কারবালায় শহীদ হওয়ার অব্যবহিত পরে মুসলিম বিশ্বের শাসন ভার, শোষন ভার চলে যায় একদল অনৈতিক মানুষের হাতে। ধর্মকে তারা ব্যবহার করে শোষনের উদ্দেশ্যে। বংশ পরম্পরায় এই মানুষগুলো কিনে নেয় কিছু ধমর্ীয় বুদ্ধিজীবিদের (!) যারা রাজার খেয়ে রাজার রুচি অনুসারে ধর্মকে নানা রঙে রঞ্জিত করতে শুরু করে। তারাই ইচ্ছে মতো টুইস্ট করতে থাকে ইসলামের মূলবাণীকে। ইতিহাস কাস্টোমাইজ হতে থাকে, নবীর শিক্ষা কাস্টোমাইজ হতে থাকে; মুসলিমদের অন্ধকারে নিক্ষেপ করার কাজটি সেই মানুষগুলো ভালো ভাবেই করতে পেরেছেন।

নইলে নবীর জীবদ্দশায় মাত্র অল্প কয়েক বছরে যেখানে অসাধারন আলোকিত মানুষগুলোই ছিলো ইসলামের প্রাণ, যাদের দেখে আরেকজন বিধমর্ী মুসলমান হতে অনুপ্রাণিত হতো; সেখানে নবীর মৃতু্যর পরে এক জেনারেশন যেতে না যেতেই ইসলাম হয়ে ওঠে যেন ভিন্ন কিছু। কেউ যেন প্রদীপের আলোটুকু কেড়ে নিয়ে যায় হঠাৎ করেই।

ঐ প্রদীপের আলো এখনও টিমটিম করে জ্বলছে অনেক চিন্তাবিদের লেখনীতে, অজানা (এই নষ্ট আমাদের কাছে অজানা) ইতিহাসে রক্ষিত।

সেই ইতিহাসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার হালকা দু:সাহস থেকেই আমার পোস্টগুলোর জন্ম। দু:খ পেয়েছিলাম আপনাদের ঝাপিয়ে পড়া ইমানী জোশের বানে ভেসে যাওয়া তীর্যক মন্তব্যে। তবু স্রষ্টার ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ইতিহাসগুলো যেটুকু পারি পোস্ট করে যাবো।

নাই বা পড়লেন। রুচি আপনাদের অনেক ভালো হয়তো। সেটাকে সিলোফেন দিয়ে সযত্নে জড়িয়ে রাখুন, মচমচে রাখুন। নষ্ট সাদিকের নষ্ট পোস্টে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। আপনার চকচকে ইমান আপনার কাছেই থাকুক!

আপনাদের মধ্যে থেকে যদি একজনও এই পোস্টগুলোর একটি থেকে দ্্বিতীয়বার ভাবার অনুপ্রেরণা পান সঠিক ইসলাম সম্পর্কে জানার, তবে সেই হোক প্রিয় নবীর প্রতি আমার নিতান্তই দূর্বল কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।

"নিশ্চই সেই দিন যে অনু পরিমান সৎকাজ করবে সেও পুরস্কৃত হবে" .. প্রভুর এই প্রতিশ্রুতিই আমার জন্য যথেষ্ট।

সবাইকে নিরন্তর ভালোবাসা।

http://mysticsaint.blogspot.com
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:৫৩
৩৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×