সিংগাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে প্রায় দুই সেমিস্টার আগে বেশ বড় একটা ইরানী পোস্ট গ্রাজুয়েট ছাত্র ছাত্রীদের ব্যাচ আসে পড়তে। ইউনিভার্সিটি থেকে এয়ারপোর্ট রিসেপশনের ভলান্টিয়ার হওয়ার কারনে ইরানী অনেককে রিসিভ করতে আমার এয়ারপোর্টে যাওয়া হয়েছে। সেই থেকে প্রায় পুরো ইরানী গ্রুপের সাথে আমার বেশ খাতির।
ইরানীদের ভিতরে একজন আমার সিংগাপুরে সবচেয়ে ভালো বান্ধবীটির নাম হলো মারিয়াম বা মরিয়ম। আমার দেখা খুব সম্ভবত সবচেয়ে পরিস্কার মনের একটা মেয়ে, খুব স্মার্ট এবং রিলিজিয়ন সম্পর্কে অসম্ভব রকমের সিনসিয়ার একজন মানুষ। ওর সাথে আমার সাথে বন্ধু বান্ধবী, ভাই বোনের একটা খুব মজার সম্পর্ক। এক সাথে ওর আমার সিংগাপুরে অনেক ঘোরা হয়েছে। ইউনিভার্সিটির রাস্তা পেরিয়ে মসজিদ। মাঝে মধ্যেই এসএমএস বিতরন করে একসাথে টুকটাক গল্প করতে করতে মসজিদে যাই প্রার্থনার সময়। পরীক্ষার সময়ে একজন আরেকজনের জন্য প্রার্থনা করি। মা দিবসে দু'জন দু'জনের দেশে ফেলে আসা মায়েদের সন্মানে উপবাস থাকি ইত্যাদি হরেক রকম কান্ড কারখানা চলে আমাদের মধ্যে। আমি রুমির বিশাল ভক্ত শুনে আমাকে মূল ফার্সিতে রুমির কবিতা থেকে গানের রূপান্তরিত সিডিও এনে দিয়েছে ইরান থেকে। কিছুদিন সে আমার ফার্সি ভাষার শিক্ষকও ছিলো (সময় ব্যস্ততায় ভাষাটা শেখা আপাতত বন্ধ)।
প্রায় প্রতিদিন অনেকবার কথা হয় ওর সাথে। কখনো ফোনে, কখনো সরাসরি দেখা সাক্ষাৎ আবার কখনো বা এসএমএস বিতরন। ক্যান্টিনে খাবার সময় দুই দিন আগে কথা প্রসঙ্গে ওকে প্রাপ্তির কথা বলছিলাম। শুনে বেচারী খুব মন খারাপ করলো।
গতকাল রাতে এসএমএস করেছিলো ঐ মেয়েটার জন্য সে কিছু করতে চায়। আজ বিকেলে আবার ফোন, হোয়্যার আর ইউ? আই ওয়ান্ড টু গিফ ইউ সামথিং ফর দ্যাট গার্ল।
আমি বললাম, ঠিক আছে তোমার ল্যাবে আসছি কিছুনের মধ্যে। ল্যাবে যেতেই আমাকে বেশ ভালো অংকের সিংগাপুর ডলার ধরিয়ে দিয়ে অবাক করলো মারিয়াম। আমি সংকোচের সাথে বললাম, এত দিচ্ছ কেন? এত না দিলেও চলতো। আমার দিকে হেসে বললো এটা কয়েকদিনের হাসপাতাল খরচও হয়তো হবে না। আমি ওকে অনেক ধন্যবাদ জানালাম।
যেটা পরে ভেবে অবাক হচ্ছিলাম তা হলো, বাংলাদেশী অনেকেই আমার পোস্টটি পড়েছেন, সেখান থেকে প্রাপ্তি সম্পর্কে জেনে কিছু সাহায্য করতে অনুপ্রাণিত হয়েছে। অন্যদিকে মারিয়াম প্রাপ্তির পোস্ট পড়তে পারেনি। সে প্রাপ্তির ছবিও দ্যাখেনি। আমার কাছে শুনেছিলো ছোট্ট একটা বাচ্চার ক্যান্সারের কথা। ওর জন্য আমাদের প্রচেষ্টার কথা। সেখান থেকেই প্রাপ্তির জন্য ভালোবাসাটুকু জানানোর এই আন্তরিক চেষ্টাটুকু।
ঃঃ অন্যান্য আপডেট ঃঃ প্রাপ্তির জন্য সহযোগিতা কামনা করে ইমেইল করেছিলাম আমাদের ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশী কমিউনিটিতে। আজকে কয়েকজন রেসপন্ড করেছে। একজন শিক্ষকও বেশ বড় একটা অংকের অর্থ প্রদান করেছেন (আমি এখানে সাহায্যের অংক উল্ল্লেখ করা থেকে বিরত থাকছি, ব্যাপারটা দৃষ্টি কটু মনে হয় ব্যক্তিগতভাবে)।
ওদিকে মালয়শিয়া থেকে মাশীদের হাতে গোপাল ভার, মুড়িওয়ালা, রাজার ছেলে, ইফতেখার হোসেনও তাদের পক্ষ থেকে প্রাপ্তির জন্য কনট্রিবিউশন পাঠিয়েছেন বেশ ভালো একটা অংকের। ধন্যবাদ জানাই সবাইকে।
ছবি: কিছুদিন আগে মালাক্কা ভ্রমনে মারিয়াম সহ আমরা কয়েকজন। মারিয়াম হলো লম্বা ওভারকোট আর স্কার্ফ মাথায় মেয়েটি। সাথে চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশী অন্যান্য বন্ধুরা।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০০৬ দুপুর ১:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



