somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রাপ্তির জন্য বিদেশিনীর অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা

১৬ ই মে, ২০০৬ দুপুর ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোন কোন মানুষ জন্ম নেয় অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পাওয়ার জন্য। আমাদের প্রিয় প্রাপ্তি ঠিক তাদের একজন। মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসা ও সহানুভূতির জন্য দেশ, জাতি ইত্যাদি খুব বড় দাগের কোন পার্থক্য নয় সেটা আজকে বুঝতে পারলাম আমার এক ইরানী বান্ধবীর অপ্রত্যাশিতভাবে প্রাপ্তির জন্য এগিয়ে আসার ঘটনায়।

সিংগাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে প্রায় দুই সেমিস্টার আগে বেশ বড় একটা ইরানী পোস্ট গ্রাজুয়েট ছাত্র ছাত্রীদের ব্যাচ আসে পড়তে। ইউনিভার্সিটি থেকে এয়ারপোর্ট রিসেপশনের ভলান্টিয়ার হওয়ার কারনে ইরানী অনেককে রিসিভ করতে আমার এয়ারপোর্টে যাওয়া হয়েছে। সেই থেকে প্রায় পুরো ইরানী গ্রুপের সাথে আমার বেশ খাতির।

ইরানীদের ভিতরে একজন আমার সিংগাপুরে সবচেয়ে ভালো বান্ধবীটির নাম হলো মারিয়াম বা মরিয়ম। আমার দেখা খুব সম্ভবত সবচেয়ে পরিস্কার মনের একটা মেয়ে, খুব স্মার্ট এবং রিলিজিয়ন সম্পর্কে অসম্ভব রকমের সিনসিয়ার একজন মানুষ। ওর সাথে আমার সাথে বন্ধু বান্ধবী, ভাই বোনের একটা খুব মজার সম্পর্ক। এক সাথে ওর আমার সিংগাপুরে অনেক ঘোরা হয়েছে। ইউনিভার্সিটির রাস্তা পেরিয়ে মসজিদ। মাঝে মধ্যেই এসএমএস বিতরন করে একসাথে টুকটাক গল্প করতে করতে মসজিদে যাই প্রার্থনার সময়। পরীক্ষার সময়ে একজন আরেকজনের জন্য প্রার্থনা করি। মা দিবসে দু'জন দু'জনের দেশে ফেলে আসা মায়েদের সন্মানে উপবাস থাকি ইত্যাদি হরেক রকম কান্ড কারখানা চলে আমাদের মধ্যে। আমি রুমির বিশাল ভক্ত শুনে আমাকে মূল ফার্সিতে রুমির কবিতা থেকে গানের রূপান্তরিত সিডিও এনে দিয়েছে ইরান থেকে। কিছুদিন সে আমার ফার্সি ভাষার শিক্ষকও ছিলো (সময় ব্যস্ততায় ভাষাটা শেখা আপাতত বন্ধ)।

প্রায় প্রতিদিন অনেকবার কথা হয় ওর সাথে। কখনো ফোনে, কখনো সরাসরি দেখা সাক্ষাৎ আবার কখনো বা এসএমএস বিতরন। ক্যান্টিনে খাবার সময় দুই দিন আগে কথা প্রসঙ্গে ওকে প্রাপ্তির কথা বলছিলাম। শুনে বেচারী খুব মন খারাপ করলো।

গতকাল রাতে এসএমএস করেছিলো ঐ মেয়েটার জন্য সে কিছু করতে চায়। আজ বিকেলে আবার ফোন, হোয়্যার আর ইউ? আই ওয়ান্ড টু গিফ ইউ সামথিং ফর দ্যাট গার্ল।

আমি বললাম, ঠিক আছে তোমার ল্যাবে আসছি কিছুনের মধ্যে। ল্যাবে যেতেই আমাকে বেশ ভালো অংকের সিংগাপুর ডলার ধরিয়ে দিয়ে অবাক করলো মারিয়াম। আমি সংকোচের সাথে বললাম, এত দিচ্ছ কেন? এত না দিলেও চলতো। আমার দিকে হেসে বললো এটা কয়েকদিনের হাসপাতাল খরচও হয়তো হবে না। আমি ওকে অনেক ধন্যবাদ জানালাম।

যেটা পরে ভেবে অবাক হচ্ছিলাম তা হলো, বাংলাদেশী অনেকেই আমার পোস্টটি পড়েছেন, সেখান থেকে প্রাপ্তি সম্পর্কে জেনে কিছু সাহায্য করতে অনুপ্রাণিত হয়েছে। অন্যদিকে মারিয়াম প্রাপ্তির পোস্ট পড়তে পারেনি। সে প্রাপ্তির ছবিও দ্যাখেনি। আমার কাছে শুনেছিলো ছোট্ট একটা বাচ্চার ক্যান্সারের কথা। ওর জন্য আমাদের প্রচেষ্টার কথা। সেখান থেকেই প্রাপ্তির জন্য ভালোবাসাটুকু জানানোর এই আন্তরিক চেষ্টাটুকু।

ঃঃ অন্যান্য আপডেট ঃঃ প্রাপ্তির জন্য সহযোগিতা কামনা করে ইমেইল করেছিলাম আমাদের ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশী কমিউনিটিতে। আজকে কয়েকজন রেসপন্ড করেছে। একজন শিক্ষকও বেশ বড় একটা অংকের অর্থ প্রদান করেছেন (আমি এখানে সাহায্যের অংক উল্ল্লেখ করা থেকে বিরত থাকছি, ব্যাপারটা দৃষ্টি কটু মনে হয় ব্যক্তিগতভাবে)।

ওদিকে মালয়শিয়া থেকে মাশীদের হাতে গোপাল ভার, মুড়িওয়ালা, রাজার ছেলে, ইফতেখার হোসেনও তাদের পক্ষ থেকে প্রাপ্তির জন্য কনট্রিবিউশন পাঠিয়েছেন বেশ ভালো একটা অংকের। ধন্যবাদ জানাই সবাইকে।


ছবি: কিছুদিন আগে মালাক্কা ভ্রমনে মারিয়াম সহ আমরা কয়েকজন। মারিয়াম হলো লম্বা ওভারকোট আর স্কার্ফ মাথায় মেয়েটি। সাথে চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশী অন্যান্য বন্ধুরা।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০০৬ দুপুর ১:৪৪
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×