নিরানব্বই সালের শেষ দিককার কথা।
আমরা তখন সাতকানিয়া নামক এক মফস্বলে
থাকতাম। চারতলা এক দালানের নিচ তলায়
আমাদের বসবাস। আমার বয়স তখন চার কি
পাঁচ। আমার বাবা তখন ছমদর পাড়া
হাইস্কুলের শিক্ষক। একদিন তিনি বাজার
থেকে নিয়ে আসলেন ছ'টি আনারস। চার
বছরের একটা ছেলের কাছে তখন আনারস
প্রথমই বলা যায়। মোটামুটি সবকিছু চিনতে
শিখে আনারস প্রথম দেখলাম। এই
জিনিসগুলোর প্রতি আমার ভীষণ আগ্রহ
জন্মাল। কি অদভুত দেখতে ফল। মাথায়
ঝুঁটি। আমি খুব উতসাহে দেখতে লাগলাম।
প্রথম তিনটে খাওয়ার সময় কিছু মনে হয় নি।
কিন্তু আমি শেষ কটা খাওয়ার সময় আমার
মাকে জিজ্ঞেস করে বসলাম, এগুলো চাষ
করে কিভাবে? আমার মা বলল ,ঐ যে
আনারসের ঝুঁটি গুলো রোপন করে দিলেই হয়।
আমি বললাম, আমি আনারস চাষ করব।
আনারসের ঝুঁটিগুলো রেখে দিলাম। আমার
গাছে আনারস ধরবে, আমি আনারস খাব এই
উত্তেজনায় রাতে আর ঘুমালাম না।
সকালে উঠেই আমি চলে গেলাম বাইরে।
আমাদের বাসার সামনে ছিল প্রকান্ড
উঠোন। উঠোনের একপাশে ছিল তিনটে
আমড়া গাছ। আমি আনারসের ঝুঁটি গুলো
নিয়ে সেখানে গেলাম। আমার মুখে কৃষক
টাইপের একটা ভাব। চারপাশের
ছেলেমেয়েরা খুব আগ্রহ নিয়ে আমার কান্ড
দেখছে। আমি সগৌরবে তাদের আনারস
গাছ নিয়ে কথা বলছি। আনারস কখন ধরবে
এই অপেক্ষায়। আমি আনারস গাছের পাশে
বসে থাকলাম। পাছে ছাগল না খেয়ে
ফেলে। পাশের বাসার ভাইয়া বিরসমুখে
বললেন সন্ধ্যায় আনারস ধরলে খাওয়াইস।
আমি বেশ গম্ভীর মুখে হ্যাঁ বললাম।
সারাদিন বসে থাকলাম আনারস গাছের
পাশে। সন্ধ্যা হয়ে এল, আমার মা ডাকছেন।
আমি অপেক্ষায় আছি কখন আনারস ধরবে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি আনারস গাছ নিয়ে
বাসায় ফিরে আসলাম। আমার মা বললেন,
কিরে বাসায় নিয়ে আসলি কেন? আমি
বললাম ছাগল খেয়ে ফেলবে তো। সবাই খুব
হাস্ল। সারাদিনের বিনোদনের খোরাক।
হাস্যকর হলেও, সত্যি যে এ বাগান বিলাস
আমি বেশ কদিন চালিয়েছি। এরপর আমার
আনারস গাছ শুকিয়ে গেল আমি আগ্রহ
হারিয়ে ফেললাম। তারপরও আনারস চাষের
ভূত মাথায় থেকে গিয়েছিল। প্রায়ই আমি
ঘুম থেকে চমকে উঠে বলতাম, আমার আনারস
গাছটা কই ?
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৩:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




